বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতায় ছাত্র বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবিতে আগুন লাগিয়ে সেই আগুন থেকে সিগারেট ধরানোর অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম সৌমিক চট্টোপাধ্যায়। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত থানার অন্তর্গত বাদু এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত ছাত্রদের বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় প্রধানমন্ত্রী মোদির একটি ছবিতে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, সেই জ্বলন্ত ছবির আগুন থেকেই অভিযুক্ত সিগারেটে আগুন ধরান। ঘটনাটির একটি ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

এরপর বিজেপি কর্মীরা বারাসাত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌমিক চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবারই অভিযুক্তকে বারাসাত আদালতে তোলা হয়। আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাটির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করছেন এবং ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদাকে অপমান করার উদ্দেশ্য ছিল কি না এবং এর ফলে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোন কোন ধারায় মামলা রুজু হবে, তাও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও কোনও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিকে এই ধরনের প্রতীকী অপমান গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে, ঘটনার তদন্ত এখনও চলায় পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আইনি দায়বদ্ধতা সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।