খবর

৯/১১-র স্মরণমঞ্চে ইরান যুদ্ধের সাফাই ট্রাম্প ও হেগসেথের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণানুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের পক্ষে সওয়াল করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পিট হেগসেথ।
  • তাঁদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতও মিলল যে, আমেরিকার ইতিহাসে ভয়াবহতম সন্ত্রাসবাদী হামলার উত্তরাধিকারেরই অংশ এই বিতর্কিত যুদ্ধ।
  • ১১ সেপ্টেম্বরের এই ধরনের অনুষ্ঠানে সাধারণত ২০০১ সালের হামলায় নিহতদের স্মরণই প্রাধান্য পায়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণানুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের পক্ষে সওয়াল করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পিট হেগসেথ। তাঁদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতও মিলল যে, আমেরিকার ইতিহাসে ভয়াবহতম সন্ত্রাসবাদী হামলার উত্তরাধিকারেরই অংশ এই বিতর্কিত যুদ্ধ।

১১ সেপ্টেম্বরের এই ধরনের অনুষ্ঠানে সাধারণত ২০০১ সালের হামলায় নিহতদের স্মরণই প্রাধান্য পায়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর প্রতিরক্ষাসচিব—দু’জনেই নিজেদের বক্তৃতায় টেনে আনলেন ছ’মাসেরও বেশি আগে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁদের শুরু করা যুদ্ধের প্রসঙ্গ। সেই যুদ্ধের শেষ হওয়ার কোনও লক্ষণ এখনও নেই।

পেন্টাগনে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকার সেনাবাহিনীর যে সদস্যরা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আমরা অভিবাদন জানাই।” ৯/১১ হামলায় একটি ছিনতাই করা যাত্রীবাহী বিমান পেন্টাগনে আছড়ে পড়েছিল। বিমানের ৬৪ জন এবং ভবনের ভিতরে থাকা ১২৫ জনের মৃত্যু হয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, “আর আমরা অভিবাদন জানাই সেই সেনাসদস্যদের, যাঁরা এই মুহূর্তে কাজ করছেন এটা নিশ্চিত করতে যে, বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসের মদতদাতা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনও, কোনও দিন পরমাণু অস্ত্র হাতে পাবে না।”

এই দিনে ওয়াশিংটনেই থাকার সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্য দিকে, তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিউ ইয়র্কে গ্রাউন্ড জিরোর স্মরণানুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। ৯/১১ হামলায় সেখানেই ধ্বংস হয়েছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

বক্তৃতার শেষেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধের সঙ্গে ৯/১১-র সন্ত্রাসবাদী হামলার সরাসরি যোগসূত্র টানার চেষ্টা করেন। জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, আমেরিকায় এই যুদ্ধ অত্যন্ত অজনপ্রিয়।

তিনি বলেন, “আজ আমরা সেই পবিত্র শপথ আবার নিচ্ছি, যা এক চতুর্থাংশ শতাব্দী আগে তাঁদের নামে প্রথম নিয়েছিলাম। আমরা কখনও, কোনও দিন ভুলব না।”

এর পরেই তাঁর সংযোজন, “সেই কারণেই আমরা আজ লড়ছি। আমাদের আর কোনও পথ নেই। জয় ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়ি। আমরা জেতার জন্য লড়ি।”

এর আগে শোকগম্ভীর স্মরণানুষ্ঠানে রণংদেহি বক্তৃতা দেন মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব হেগসেথ। তাঁর বক্তব্য, ইরান যুদ্ধ এমন এক “ইসলামি ধর্মতন্ত্রের” বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ, “যারা প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে আমাদের মৃত্যু কামনা করে এসেছে।” তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা “আর নেই”—যদিও এর বিপরীত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

হেগসেথ ঘোষণা করেন, “আমরা এখনও সন্ত্রাসবাদীদের তাদের প্রাপ্য জায়গায় পাঠাচ্ছি—নরকে। আর তেলবাহী জাহাজগুলিকে পাঠাচ্ছি সমুদ্রের তলায়, যেখানে তাদের থাকা উচিত। আমরা নিশ্চিত করছি, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র হাতে পাবে না। অর্থনৈতিক চাপ প্রতিদিন আরও বাড়ছে।”

অনুষ্ঠানে হেগসেথ বলেন, “অশুভের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলেছিল, এখনও চলছে। শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত তা চলবে। এই পৃথিবীতে আমাদের একমাত্র জবাব হল চিরসতর্ক থাকা।”

তিনি আরও দাবি করেন, বিপদ আমেরিকার সীমানার ভিতরেও ছড়িয়ে রয়েছে। তাঁর সতর্কবার্তা, “দেশে ও বিদেশে থাকা ইসলামি সন্ত্রাসবাদীরা-সহ শত্রুরা আমাদের শক্তি খর্ব করার এবং আমাদের নাগরিকদের হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছে।”

এর পরে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার কৃতিত্ব ট্রাম্পকে দেন হেগসেথ। বক্তৃতার শেষে তিনি নতুন প্রজন্মের এমন “শক্তিশালী, সাহসী যোদ্ধাদের” এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, “যাঁরা সবচেয়ে জরুরি মুহূর্তে বলবেন, ‘আমাকেই পাঠান’।”

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles