Home খবর ‘প্রধানের ইস্তফা চাই’, অনড় সিজেপি: আজ ফের আলোচনায় কেন্দ্র

‘প্রধানের ইস্তফা চাই’, অনড় সিজেপি: আজ ফের আলোচনায় কেন্দ্র

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
9 views 2 minutes read
A+A-
Reset

‘প্রধানের ইস্তফা চাই’, অনড় সিজেপি: আজ ফের আলোচনায় কেন্দ্র

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রশ্নই নেই—এই অবস্থানে অনড় ছাত্র-নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার আন্দোলনের নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা চললেও তাদের মূল দাবি থেকে একচুলও সরবে না।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটাতে শনিবারও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে কেন্দ্র। ফলে আজকের বৈঠক ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা—আলোচনার টেবিলে কি কোনও সমাধানের সূত্র মিলবে?

সংস্কারে সম্মতি, ইস্তফায় নীরব কেন্দ্র

সূত্রের খবর, গত কয়েক দিনে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে একাধিক দফায় অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যতে স্বচ্ছ নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্র ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে এখনও কোনও আশ্বাস দেয়নি সরকার। আর সেখানেই আটকে রয়েছে সমঝোতার সম্ভাবনা।

সিজেপির নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনায় শুধু প্রশাসনিক সংস্কার যথেষ্ট নয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহির অভাবের রাজনৈতিক দায়ও নিতে হবে।

তাঁদের কথায়, “এটি কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, জবাবদিহির প্রশ্ন। দায়িত্ব গ্রহণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া ছাত্রসমাজের আস্থা ফিরবে না।”

কেন্দ্রের যুক্তি, ‘সংস্কার তো শুরু হয়েছে’

সরকারি সূত্রের বক্তব্য, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর শাস্তির বিধান-সহ নতুন আইন আনার উদ্যোগ হয়েছে। এনটিএ-র একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় আরও কাঠামোগত সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সরকারের আশা, এই পদক্ষেপগুলি আন্দোলনকারীদের আস্থা ফেরাতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে।

কিন্তু সিজেপির বক্তব্য, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি স্বাগত হলেও রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

‘প্রধান বহাল থাকলে সংস্কার বিশ্বাসযোগ্য নয়’

আন্দোলনের নেতৃত্বের মতে, যাঁদের আমলে পরীক্ষা ব্যবস্থায় এত বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের রাজনৈতিক দায়ও নির্ধারণ করতে হবে।

সিজেপির যুক্তি, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদে বহাল থাকলে সরকারের সংস্কারের প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন থাকবে। তাই তাঁদের কাছে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কোনও অতিরিক্ত দাবি নয়—আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শর্ত।

ওয়াংচুকের অনশনেও বাড়ছে চাপ

এর মধ্যেই অনশনরত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকলেও তাঁর আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ওয়াংচুকের অনশন এবং দেশজুড়ে ছাত্রদের ধারাবাহিক প্রতিবাদই সরকারকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করেছে। ফলে এখন দাবি শিথিল করার কোনও কারণ নেই বলেই মনে করছে সিজেপি।

বিরোধীদের সমর্থন, চাপ বাড়ছে সরকারের উপর

অচলাবস্থা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। বিরোধী দলগুলি আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, সরকার চাইছে পরীক্ষা সংস্কার এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলিকে সামনে রেখে আন্দোলনের তীব্রতা কমাতে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নেই এখনও সবচেয়ে বড় সংঘাত।

আজকের বৈঠকেই কি মিলবে সমাধান?

সূত্রের দাবি, শনিবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের সামনে নতুন কোনও প্রস্তাব রাখতে পারে কেন্দ্র। তবে সিজেপি আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে কোনও আপস হবে না।

ফলে আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও সমাধানের পথ এখনও বেশ কঠিন। কেন্দ্র চাইছে সংস্কারের মাধ্যমে সংকটের ইতি টানতে, আর সিজেপির দাবি—রাজনৈতিক দায় স্বীকার না করলে ছাত্রদের আস্থা ফিরবে না।

আজকের বৈঠক সেই অচলাবস্থা ভাঙতে পারে কি না, এখন নজর সেদিকেই।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles