Table of Contents
দিল্লিতে NEET প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনের আঁচ এবার কলকাতাতেও। শনিবার শহরের কেন্দ্রে এসএফআই-এর ডাকে বিক্ষোভ মিছিলে জড়ো হন কয়েক হাজার ছাত্র-যুব। শুরুতে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে।
পুলিশের দাবি, অনুমতি ছাড়াই ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করা হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে জুতো, বোতল এবং ইট-পাথর ছুড়েছেন বলেও অভিযোগ। প্রথমে মাইকিং করে সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় লাঠিচার্জ করা হয় বলে পুলিশের বক্তব্য।
ঘটনায় কয়েকজন আন্দোলনকারী এবং পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে প্রশাসনের দাবি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এসএফআই-এর অভিযোগ, ‘অকারণে বলপ্রয়োগ’
এসএফআই নেতৃত্বের অভিযোগ, সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পুলিশ অকারণে বলপ্রয়োগ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদের ক্ষোভ জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।
দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েই কলকাতায় এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় বলে সংগঠনের দাবি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রথম থেকেই অযথা বাধা দেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের পাল্টা দাবি, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাতেই লাঠিচার্জ’
পুলিশের বক্তব্য, নির্ধারিত রুট এবং কর্মসূচির শর্ত ভেঙে মিছিল এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের দিকে জুতো, বোতল এবং ইট-পাথর ছোড়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ
বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন সংবাদকর্মী এবং চিত্রসাংবাদিকের দাবি, তাঁদের ক্যামেরা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়।
কয়েকটি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ছাত্রদের ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলার আহ্বানও জানান।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ছাত্রদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমাতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে শাসকপক্ষের বক্তব্য, আন্দোলনের আড়ালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দিল্লির আন্দোলনের প্রভাব যে দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়াতে শুরু করেছে, কলকাতার ঘটনা তারই বড় ইঙ্গিত। NEET প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে শুরু হওয়া ক্ষোভ এখন শুধু একটি পরীক্ষা বা একটি সংস্থার বিরুদ্ধে নয়—শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৃহত্তর অসন্তোষের রূপ নিচ্ছে।
ঘটনার পর কলকাতায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বড় কর্মসূচি নেওয়া হবে।
দিল্লির পর কলকাতাতেও ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপ বাড়ায় এখন প্রশ্ন একটাই—এই ক্ষোভ কি আরও ছড়াবে?