Table of Contents
হাইলাইটস
- রাজ্যে ৫টি নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাব ঘোষণা।
- নতুন জেলা হিসেবে আসছে বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর, আরামবাগ ও কাঁথি।
- কাঁথিতে তৈরি হবে নতুন পুলিশ জেলা।
- গোপীবল্লভপুরে নতুন মহকুমা এবং ৭টি নতুন পুরসভা গঠনের পরিকল্পনা।
- উত্তরবঙ্গে এইমস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা বাজেটে ঘোষণা।
- বেসরকারি হাসপাতালকে ৫০ শতাংশ শয্যা সরকারি রোগীদের জন্য সংরক্ষণের শর্ত।
প্রশাসনকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য
রাজ্যের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের বড় ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, প্রশাসনিক সুবিধা, উন্নয়নের গতি বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে রাজ্যে পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নতুন জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর, আরামবাগ এবং কাঁথিকে। সরকারের দাবি, বৃহৎ জেলার প্রশাসনিক চাপ কমিয়ে মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন জেলাগুলি তৈরি হলে সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক কাজে দূরে যেতে হবে না। জমি, রাজস্ব, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবার সুবিধা স্থানীয় স্তরেই পাওয়া যাবে।
কাঁথিতে নতুন পুলিশ জেলা
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কাঁথিতে একটি নতুন পুলিশ জেলা গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অপরাধ দমনে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে সরকারের ধারণা।
গোপীবল্লভপুরে নতুন মহকুমা, ৭ নতুন পুরসভা
বাজেটে আরও জানানো হয়েছে যে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরে একটি নতুন মহকুমা তৈরি করা হবে। এর ফলে এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনিক পরিষেবা পেতে জেলা সদর পর্যন্ত ছুটতে হবে না।একই সঙ্গে রাজ্যে সাতটি নতুন পুরসভা গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই পুরসভাগুলি হল শিবমন্দির, গাজোল, চাঁচল, বেলদা, বাদনা, কামারপুকুর এবং কোলাঘাট। দ্রুত নগরায়নের ফলে বেড়ে ওঠা এলাকাগুলিকে উন্নত নাগরিক পরিষেবার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সরকার।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় ঘোষণা
স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে একটি এইমস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বাজেটে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের মানুষের এই দাবি ছিল।এছাড়া অত্যাধুনিক বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে তুলতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, এই হাসপাতালগুলিকে তাদের মোট শয্যার ৫০ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল থেকে পাঠানো রোগীদের জন্য বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে সংরক্ষণ করতে হবে।
রাজ্যের বাইরে চিকিৎসায় সহায়তা
অনেক রোগীকেই জটিল চিকিৎসার জন্য মুম্বই, ভেলোর বা দেশের অন্যান্য শহরে যেতে হয়। সেই কথা মাথায় রেখে সরকার ঘোষণা করেছে, চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে যাওয়া রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য স্বল্প খরচে থাকার ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা হবে।সরকারের মতে, প্রশাসনিক পুনর্গঠন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বিস্তার এবং নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নের এই পদক্ষেপগুলি আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।