দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বই ২০২৬ সালের অন্যতম বড় জল সংকটের মুখে পড়েছে। বর্ষার আগমন বিলম্বিত হওয়ায় শহরের সাতটি প্রধান জলাধারের জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি)-র তথ্য অনুযায়ী, শহরে জল সরবরাহকারী সাতটি জলাধারে মোট ধারণক্ষমতার মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ জল অবশিষ্ট রয়েছে। এই মজুত দিয়ে প্রায় ৪০ দিনের মতো চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
সংকট মোকাবিলায় বিএমসি নতুন নির্মাণ প্রকল্পে জল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি সুইমিং পুলে পানীয় জলের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে জল সরবরাহ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এর আগে শহরজুড়ে ১০ শতাংশ জল কাটছাঁটের সিদ্ধান্তও কার্যকর করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছরের জুন মাসে মুম্বইয়ে বৃষ্টিপাত গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মহারাষ্ট্রে জুনের প্রথমার্ধে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। ফলে জলাধারগুলি পর্যাপ্ত পরিমাণে ভরতে পারেনি।
তবে স্বস্তির খবরও রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দীর্ঘ স্থবিরতার পর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মুম্বই ও আশপাশের অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রাক্-বর্ষার বৃষ্টি হয়েছে, যা কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে।
তবে জল বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র বর্ষার উপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি জল ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নচেৎ আগামী বছরগুলিতেও মুম্বইকে একই ধরনের জল সংকটের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তৃষ্ণার্ত মুম্বই!
2