সইফ আলি খান ও অমৃতা সিংয়ের বিয়ে বলিউডের অন্যতম চর্চিত অধ্যায়। ১৯৯১ সালের সেই বিয়ে ঘিরে নানা গল্প এত বছর ধরে সামনে এসেছে। কিন্তু একটি প্রশ্নের উত্তর এত দিন ছিল আড়ালেই—দাদার বিয়েতে সোহা আলি খান ও সাবা পতৌদি কোথায় ছিলেন?
এত বছর পরে সেই রহস্যের উত্তর মিলল দুই বোনের মুখেই।
নেহা ধুপিয়া ও অঙ্গদ বেদীর অনুষ্ঠান ‘ডাবল ডেট’-এ এসে সইফের বিয়ের সময়কার স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন সোহা ও সাবা। তাঁদের কথায়, সইফ যখন বিয়ে করেছিলেন, তখন তাঁরা দু’জনেই এতটাই ছোট ছিলেন যে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিতই থাকতে পারেননি।
আর মজার বিষয়? দাদার বিয়ের খবরটাও তাঁরা পেয়েছিলেন স্কুলে বসেই!
স্কুলে বসে বিয়ের খবর!
সাবা জানান, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর। সোহা ছিলেন আরও ছোট—মাত্র ১৩।
সাবার কথায়, সইফের বিয়ের খবর জানার মুহূর্তটি ছিল বেশ অদ্ভুত। স্কুলের প্রিন্সিপালের অফিসে তাঁদের বাবা-মায়ের ফোন এসেছিল। সেখানেই দুই বোনকে জানানো হয়, দাদা বিয়ে করতে চলেছেন।
কিন্তু সঙ্গে ছিল কড়া নির্দেশ—
“কাউকে কিছু বলবে না।”
সমস্যা হল, ততক্ষণে খবর আর গোপন নেই। সংবাদপত্রেও সইফের বিয়ের খবর প্রকাশিত হতে শুরু করেছে।
সাবা বলেন, তাঁরা নিজেরাও তখন বুঝতে পারছিলেন না, খবরটি ঠিক কতটা সত্যি। পরিবারের তরফে বাইরে কোনও কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছিল বলেই তাঁরা চুপ করে ছিলেন।
অর্থাৎ, দাদা তখন বিয়ে করছেন, খবর কাগজে বেরিয়ে গিয়েছে, আর দুই কিশোরী বোন স্কুলে বসে সেই খবর গোপন রাখার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন!
কেন বিয়েতে ছিলেন না সোহা-সাবা?
কারণটা আসলে যতটা রহস্যময় মনে হয়, ততটা নয়।
সইফের বিয়ের সময় সোহা ও সাবা দু’জনেই স্কুলপড়ুয়া। তাঁদের বয়সও ছিল খুব কম। ফলে বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি।
তবে এত বছর পরে তাঁদের স্মৃতিচারণে সেই সময়ের পতৌদি পরিবারের একটি অন্য ছবি সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমে বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লেও পরিবারের কিশোরী দুই সদস্যকে বিষয়টি নিয়ে মুখ না খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আর সেই কারণেই সইফ-অমৃতার বিয়েতে তাঁদের দেখা যায়নি।
তখন সইফ-অমৃতার সম্পর্ক নিয়ে তুমুল চর্চা
১৯৯১ সালে সইফ আলি খান ও অমৃতা সিংয়ের বিয়ে ছিল যথেষ্ট চমকপ্রদ ঘটনা।
সইফ তখন বলিউডে সদ্য পা রাখা তরুণ অভিনেতা। অন্য দিকে অমৃতা ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত মুখ। তাঁদের বয়সের ব্যবধানও সেই সময় যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
পরিবারের গণ্ডির বাইরেও তাই এই সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল ছিল প্রবল।
পরবর্তী সময়ে তাঁদের দুই সন্তান—সারা আলি খান ও ইব্রাহিম আলি খান। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হয়নি সইফ-অমৃতার দাম্পত্য। শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
তার পর বদলে যায় পরিবারের সমীকরণ
বিবাহবিচ্ছেদের পর অমৃতাই মূলত সারা ও ইব্রাহিমকে বড় করে তোলেন। অন্য দিকে সইফ পরে করিনা কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ২০১২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।
সইফ-করিনার দুই সন্তান—তৈমুর আলি খান ও জেহাঙ্গির আলি খান।
তবে পরিবারে সময় বদলালেও সারা ও ইব্রাহিমের সঙ্গে সইফের সম্পর্ক বরাবরই ঘনিষ্ঠ। বাবার পথ অনুসরণ করে দু’জনেই অভিনয় জগতে পা রেখেছেন।
সারা ২০১৮ সালে Kedarnath ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে Simmba এবং Zara Hatke Zara Bachke-র মতো ছবিতে দেখা যায় তাঁকে। ইব্রাহিমও অভিনয়ে পা রেখেছেন, ওটিটি ছবি Nadaaniyan-এর মাধ্যমে। পরে Sarzameen-এও অভিনয় করেন।
৩৪ বছর পরে খুলল সেই পুরনো গল্প
সইফ ও অমৃতার বিয়ের পর কেটে গিয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়। সেই বিয়ের নানা অধ্যায় নিয়ে এত দিনে অনেক কথাই সামনে এসেছে।
কিন্তু সোহা ও সাবার এই স্মৃতি যেন গল্পটায় একেবারে অন্য মাত্রা যোগ করল।
দাদা বিয়ে করছেন—সংবাদপত্রে খবর বেরিয়ে গিয়েছে—আর দুই ছোট বোন স্কুলে বসে পরিবারের নির্দেশে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন!
তাই সইফ-অমৃতার বিয়েতে সোহা ও সাবার অনুপস্থিতি কোনও পারিবারিক দূরত্বের গল্প নয়। বরং সেটি ছিল দুই স্কুলপড়ুয়ার বয়স, পরিস্থিতি এবং পরিবারের গোপনীয়তা বজায় রাখার সিদ্ধান্তের ফল।
এত বছর পরে তাঁদের মুখে সেই গল্প শুনেই যেন পুরনো বলিউডের এক হারিয়ে যাওয়া দিনের দরজা আবার খুলে গেল।