হাইলাইটস:
- ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-ব্যাঁ শহরে ১৫-১৭ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়ার পরই শুরু হয়েছে এই বৈঠক।
- হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে আলোচনা হবে।
- ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমর্থন এবং সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়াও অন্যতম প্রধান বিষয়।
- ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া ও কেনিয়ার মতো আমন্ত্রিত দেশগুলিও আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
বাংলাস্ফিয়ার: ফ্রান্সের মনোরম হ্রদতীরবর্তী শহর এভিয়াঁ-লে-ব্যাঁতে সোমবার শুরু হয়েছে বিশ্বের ধনী গণতান্ত্রিক দেশগুলির সংগঠন জি-৭-এর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। তবে এবারের বৈঠককে অন্য সব বছরের তুলনায় আলাদা করে তুলেছে একটি বড় ভূরাজনৈতিক ঘটনা—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ঘোষিত নতুন সমঝোতা। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটন এবং তেহরান জানিয়েছে যে দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাতের পর তারা যুদ্ধ বন্ধের পথে এগোচ্ছে। ফলে সম্মেলনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ।
জি-৭-এর সদস্য দেশগুলি হল যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং জাপান। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এতে অংশ নেয়। এবারের সম্মেলনের আয়োজক ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ। তিনি এমন একটি কর্মসূচি সাজানোর চেষ্টা করেছেন যাতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐক্য বজায় থাকে এবং বিশেষত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কোনও প্রকাশ্য সংঘাত না তৈরি হয়।
সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে বৃহত্তর আলোচনার পথ তৈরি করা হবে। তবে পরমাণু কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। জি-৭ নেতারা এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই একটি অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধও সম্মেলনের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এভিয়াঁয় উপস্থিত থেকে পশ্চিমা দেশগুলির কাছে আরও সামরিক ও আর্থিক সহায়তা চাইবেন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ এখন এক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। ইউক্রেন চায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখুক এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নিক।
অর্থনৈতিক বিষয়ও আলোচনার বাইরে থাকছে না। জি-৭ দেশগুলি বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা, সরবরাহ শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিরাপত্তা এবং চীনের শিল্প উৎপাদন ও বাণিজ্য নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবে। ইউরোপীয় দেশগুলি মনে করছে, চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন এবং বিশ্ববাজারে তার প্রভাব নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিস্তার এবং তার ঝুঁকি ও সম্ভাবনাও আলোচ্য তালিকায় রয়েছে।
এবারের সম্মেলনে জি-৭-এর বাইরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং কেনিয়ার মতো দেশগুলির অংশগ্রহণ বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে উদীয়মান শক্তিগুলির গুরুত্বকে তুলে ধরছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় ভারতের ভূমিকার দিকে নজর রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এবারের জি-৭ সম্মেলন শুধু একটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক বৈঠক নয়; এটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি এবং বিশ্ব অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। ফলে এভিয়াঁর বৈঠক থেকে কী বার্তা বেরিয়ে আসে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।