Home খবর মহিলা সাংসদদের মন্তব্যে ‘সাসপেন্ড’ কল্যাণ

মহিলা সাংসদদের মন্তব্যে ‘সাসপেন্ড’ কল্যাণ

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
48 views 2 minutes read
A+A-
Reset

নয়াদিল্লি: লোকসভায় মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে ‘অমর্যাদাকর’ ও ‘অশোভন’ মন্তব্যের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হল। বুধবার সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানায় শাসকপক্ষ।

ঘটনাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, সংসদে মতবিরোধ ও তীব্র বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষার কোনও স্থান নেই। বিশেষ করে মহিলা সাংসদদের সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য সংসদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর পর সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অধিবেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনেন। কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব গৃহীত হলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হয়।

ঘটনার সূত্রপাত লোকসভায় চলমান এক বিতর্ককে কেন্দ্র করে। বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, সেই সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকজন মহিলা সাংসদকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য করেন, যা সংসদীয় শালীনতার পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্যের পরই ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা প্রবল আপত্তি জানান এবং কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।

বিজেপি-সহ এনডিএর মহিলা সাংসদরা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু কোনও জনপ্রতিনিধির মুখে নারী সাংসদদের অসম্মান করে এমন ভাষা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের বক্তব্য, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিতর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, সাসপেনশনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, বিরোধী দলের সাংসদদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শাসকদলের সদস্যদের বিতর্কিত মন্তব্যের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয় না। ঘটনাটিকে একতরফাভাবে বিচার করা হয়েছে বলেও দাবি তৃণমূলের।

তৃণমূলের আরও বক্তব্য, সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নতুন কিছু নয়। কিন্তু বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

শাসকপক্ষ অবশ্য সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, এটি কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয় নয়; বরং সংসদীয় আচরণবিধি ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন। তাঁদের বক্তব্য, সংসদে মহিলা সদস্যদের সম্মানজনক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সাংসদের দায়িত্ব।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের সংঘাতের জেরে লোকসভার অধিবেশন বারবার উত্তপ্ত হয়েছে। শিক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা-সহ নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করল।

সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী, কোনও সদস্যের আচরণ সংসদের মর্যাদার পরিপন্থী বলে মনে হলে স্পিকারের অনুমোদনে তাঁর বিরুদ্ধে সাসপেনশনের প্রস্তাব আনা যেতে পারে। প্রস্তাব গৃহীত হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সাংসদ লোকসভার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না।

ফলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনকে কেন্দ্র করে সংসদের ভিতরে-বাইরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শাসকপক্ষ যেখানে সংসদের শালীনতা রক্ষার পক্ষে সওয়াল করছে, বিরোধীরা সেখানে শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় ‘দ্বৈত মানদণ্ড’-এর অভিযোগ তুলছে। বিতর্ক থামার বদলে, এই সাসপেনশন যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে—তা বলাই বাহুল্য।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles