Table of Contents
আমেরিকার রাজনীতিতে “রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার” বা weaponisation of government নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু সেই বিতর্ক এবার সরাসরি আঘাত হানল ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বহুল আলোচিত কর্মসূচিতে। মার্কিন বিচার বিভাগ (Justice Department) জানিয়েছে, তারা আপাতত ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তথাকথিত “অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড” থেকে সরে আসছে। রিপাবলিকান দলের ভেতরেই তীব্র আপত্তি এবং কংগ্রেসে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী ছিল এই তহবিলের উদ্দেশ্য?
এই তহবিল গঠনের মূল লক্ষ্য ছিল এমন ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, যারা দাবি করেন যে পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলির সময় তারা রাজনৈতিক কারণে সরকারি তদন্ত, নজরদারি, বিচারিক হয়রানি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের শিকার হয়েছিলেন।
ট্রাম্পপন্থী মহলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে ফেডারেল সংস্থা, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এবং বিচার ব্যবস্থার কিছু অংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সমর্থকদের মতে, এটি ছিল রাষ্ট্রের ভুল স্বীকার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের একটি প্রচেষ্টা। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই তহবিল বাস্তবে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ বণ্টনের ঝুঁকি তৈরি করছিল।
আদালতের স্থগিতাদেশ ও সরকারের অবস্থান
একজন ফেডারেল বিচারক সম্প্রতি কর্মসূচিটির ওপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারি করেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা আদালতের নির্দেশ মেনে চলবে। তবে একই সঙ্গে সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা বিচারকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে “তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করে”।
এই ভাষা থেকে বোঝা যায়, প্রশাসন আইনি লড়াই পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছে না। বরং আপাতত আদালতের নির্দেশ মেনে চললেও ভবিষ্যতে কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার পথ খোলা রাখতে চাইছে।
রিপাবলিকানদের মধ্যেই বিভাজন
ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে আসেনি। রিপাবলিকান দলের একাংশও এই তহবিল নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে।
কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এই কর্মসূচি চালু থাকলে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আইনগত উদ্যোগে সমর্থন নাও দিতে পারেন। ফলে হোয়াইট হাউসের সামনে একটি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের প্রশ্ন তৈরি হয়—একটি বিতর্কিত তহবিল রক্ষা করা, নাকি বৃহত্তর আইনসভা কর্মসূচি বাঁচানো।
শেষ পর্যন্ত প্রশাসন দ্বিতীয় পথই বেছে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
বৃহত্তর রাজনৈতিক তাৎপর্য
এই বিতর্ক কেবল একটি তহবিলের প্রশ্ন নয়; এটি আমেরিকান রাজনীতির গভীর বিভাজনের প্রতিফলন। এক পক্ষ বিশ্বাস করে যে অতীতের প্রশাসনগুলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেছে। অন্য পক্ষের দাবি, এই অভিযোগগুলোর অনেকটাই রাজনৈতিক বর্ণনা, যার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
ফলে “অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড” নিয়ে সংঘাত আসলে একটি বড় প্রশ্নকে সামনে এনেছে—রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগের বিচার কে করবে?
বর্তমানে কর্মসূচিটি কার্যত স্থগিত। তবে আদালতের রায়, কংগ্রেসের অবস্থান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করবে এই বিতর্কিত তহবিলের ভবিষ্যৎ। একথা নিশ্চিত, “রাষ্ট্রযন্ত্রের অস্ত্রায়ন” নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক লড়াই এখনও শেষ হয়নি।