Home খবর ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে মুখ খুললেন রুবিও

ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে মুখ খুললেন রুবিও

0 comments 4 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: আমেরিকায় ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাবে মুখ খুললেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কিছু মানুষের কুরুচিকর মন্তব্য গোটা আমেরিকার চরিত্রকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তাঁর কথায়, “পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই কিছু বোকা মানুষ থাকে। কিন্তু তাদের আচরণ দিয়ে কোনও জাতিকে বিচার করা যায় না।”

বিতর্কের পটভূমি

সম্প্রতি আমেরিকায় ভারতীয় অভিবাসী ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে কিছু বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষত দক্ষ কর্মী ভিসা, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে ভারতীয়দের নিশানা করে নানা অপমানজনক মন্তব্য সামনে আসে। সেই প্রেক্ষাপটেই রুবিওর এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিবাসীদের দেশ আমেরিকা, ভারতীয়দের অবদান অনস্বীকার্য

রুবিও বলেন, আমেরিকা মূলত অভিবাসীদের দেশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে গিয়েছেন এবং দেশের অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। ভারতীয় সম্প্রদায়ের অবদান উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষজন মার্কিন অর্থনীতিতে বিপুল অবদান রাখছেন। প্রযুক্তি শিল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা, গবেষণা, উদ্যোগপতি ক্ষেত্র — প্রায় সর্বত্রই ভারতীয়দের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে।

অভিবাসন নীতি সংস্কার, তবে ভারতবিরোধী নয়

তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমেরিকা তার অভিবাসন নীতি নতুন করে সাজানোর কাজ করছে। তবে সেই সংস্কার কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। রুবিওর বক্তব্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সীমান্ত ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ে আমেরিকাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। ফলে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রেখেই নতুন নীতি গড়ে তোলা হচ্ছে।

দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রের ক্রমগভীর সম্পর্ক

এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ভারত ও আমেরিকা বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্র। কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনীতি, প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বাণিজ্য — সব ক্ষেত্রেই নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে।

রাজনৈতিক বার্তাও লুকিয়ে রুবিওর বক্তব্যে

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুবিওর এই মন্তব্য কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটার ও পেশাজীবী সম্প্রদায়ের প্রতিও একটি রাজনৈতিক বার্তা। আমেরিকায় ভারতীয়দের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং প্রযুক্তি ও ব্যবসাক্ষেত্রে তাদের প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। ফলে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্য রাজনৈতিকভাবেও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

বিশ্বায়নের যুগে অভিবাসন প্রশ্নের জটিলতা

একই সঙ্গে এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, বিশ্বায়নের যুগে অভিবাসন প্রশ্নটি কতটা জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে উন্নত দেশগুলিতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে, অন্যদিকে স্থানীয় চাকরি ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ থেকেও অভিবাসীবিরোধী মনোভাব তৈরি হচ্ছে। ভারতীয়রা যেহেতু উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী হিসেবে আমেরিকায় বড় ভূমিকা পালন করছেন, তাই তারা প্রায়ই এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন।

জয়শঙ্করের বার্তা: বিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্মান

যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর সরাসরি এই বিতর্ক নিয়ে তেমন মন্তব্য না করলেও ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে “বিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সম্পর্ক” বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, দুই দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

ভারতকে আশ্বস্ত করার কূটনৈতিক বার্তা

রুবিওর সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলেও আগ্রহ ছিল যথেষ্ট। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়া, চীনকে ঘিরে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন — এই সব প্রশ্নে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে আমেরিকা। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি ছিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সব মিলিয়ে, রুবিওর বক্তব্যে একদিকে যেমন আমেরিকার বহুত্ববাদী পরিচয় রক্ষার চেষ্টা দেখা গেল, তেমনই ভারতকে আশ্বস্ত করার কূটনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles