বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে বোতল ছুড়ে হামলা, মুখঢাকা ব্যক্তির ‘দেশপ্রেমিক’ দাবি

যা জানা জরুরি
- দক্ষিণ কলকাতায় সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে কাচের বোতল ছুড়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
- বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ভোর পাঁচটা নাগাদ ইএম বাইপাসের কাছে কালিকাপুরের পূর্বালোক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
- বাড়ির জানলার কাচ এবং একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দক্ষিণ কলকাতায় সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে কাচের বোতল ছুড়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ভোর পাঁচটা নাগাদ ইএম বাইপাসের কাছে কালিকাপুরের পূর্বালোক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। বাড়ির জানলার কাচ এবং একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। কেউ আহত হননি। পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজের বিবরণ অনুযায়ী, মোটরবাইকে আসা এক ব্যক্তির মুখ তোয়ালে দিয়ে ঢাকা ছিল। বাড়ির সামনে বাইক দাঁড় করিয়ে ব্যাগ থেকে একের পর এক কাচের বোতল বার করে ছুড়তে থাকে সে। সঙ্গে চলে গালিগালাজ ও হুমকি। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের পিছনে লাগবেন না, আমরা দেশপ্রেমিক।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোটরবাইকের নম্বরপ্লেটও ঢাকা ছিল।
বিকাশবাবু জানিয়েছেন, প্রচণ্ড শব্দ শুনে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর বাড়ির পরিচারক তাঁকে ডাকেন। বাইরে এসে তিনি ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখতে পান। হামলার জন্য হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতীদের দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হিন্দু মৌলবাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে পুলিশের নিশ্চিত সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানা যায়নি।
আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র রাখার আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। তাঁর বক্তব্য, রিভলভারের লাইসেন্স চেয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন জানাবেন। হামলার ঘটনায় বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে ওই দল। বিজেপি বিধায়ক শর্বারী মুখোপাধ্যায় ঘটনার নিন্দা করে দাবি করেছেন, এর সঙ্গে দলের কোনও রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী চারটি কাচের বোতল ছুড়ে দাসপাড়া সেতুর দিকে পালায়। তদন্তকারী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাড়ি এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সম্পত্তি নষ্ট করা, হুমকি, গালিগালাজ এবং মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
ঘটনার পরে বিকাশবাবুর বাড়ির কাছে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। পূর্বালোক এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও নজরদারি চালাচ্ছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত করে ধরার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে কাউকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়নি। হামলার উদ্দেশ্যও তখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
হামলার নিন্দা করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, গত পনেরো বছরে বিকাশবাবুর সঙ্গে রাজনৈতিক ও আইনি প্রশ্নে তাঁদের বহু বিরোধ হয়েছে। কিন্তু সেই মতভেদ সত্ত্বেও শালীনতার সীমা অতিক্রম করা হয়নি বলে তাঁর দাবি। আইনজীবীদের উপর আক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মমতা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বারুইপুর, ব্যাঙ্কশাল, চন্দননগর এবং শালবনির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির প্রসঙ্গও তুলেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আইনজীবীদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগের মধ্যেই বিকাশবাবুর বাড়িতে এই হামলা ঘটল। বারুইপুর আদালতে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করেছে। ফলে আইনজীবীদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি ইতিমধ্যেই বিচারবিভাগের নজরে রয়েছে।
তৃণমূলের কুণাল ঘোষও মুখঢাকা বাইকআরোহীদের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী স্বর স্তব্ধ করতে দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে একসঙ্গে প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্য, দুষ্কৃতীদের কাজের দায় তাদের উপর চাপানো হচ্ছে।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে তদন্তের প্রশ্ন: বোতল ছোড়া ব্যক্তিটি কে এবং কেন বিকাশবাবুর বাড়িকে নিশানা করা হল। সিসিটিভিতে ধরা পড়া ঘটনাক্রম ও হুমকির ভাষা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তবে রাজনৈতিক অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য হামলাকারীকে শনাক্ত করা এবং প্রমাণ সংগ্রহ করা জরুরি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



