রাজ্য

‘এখন মসজিদ-মন্দিরের সময় নয়’: রেজিনগরে উন্নয়নের সুর বিজেপির, ভয় দেখানোর অভিযোগ হুমায়ুনের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মুসলিমপ্রধান রেজিনগরে উপনির্বাচনের মুখে প্রচারের সুর বদলাচ্ছে বিজেপি।
  • মসজিদ-মন্দিরের বিতর্কের বদলে সামনে আনা হচ্ছে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি।
  • মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্রের প্রায় ৭০ শতাংশ বাসিন্দা মুসলিম।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মুসলিমপ্রধান রেজিনগরে উপনির্বাচনের মুখে প্রচারের সুর বদলাচ্ছে বিজেপি। মসজিদ-মন্দিরের বিতর্কের বদলে সামনে আনা হচ্ছে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি। মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্রের প্রায় ৭০ শতাংশ বাসিন্দা মুসলিম। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে এখানেই বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই কেন্দ্র দখলের লক্ষ্যে সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে রাজ্যের শাসকদল। অন্যদিকে, হুমায়ুনের অভিযোগ, বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনী লড়াই অসম করে দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রেজিনগরের বেগুনবাড়িতে বিজেপির প্রচারের একটি ছবি উঠে এসেছে। শতাধিক মোটরবাইকের মিছিল শেষে অস্থায়ী মঞ্চে দলের প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শ্রোতাদের অধিকাংশই মুসলিম। শমীকের বক্তব্য, গত নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের সমর্থন না পাওয়ায় বিজেপি বড় ব্যবধানে হেরেছিল। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি আলাদা। ধর্মীয় বিতর্কের বাইরে উন্নয়নের প্রশ্নে ভোট চাওয়ার এই প্রচেষ্টাই উপনির্বাচনে বিজেপির কৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার এলাকার শিল্প, কারখানা এবং কাজের সুযোগ তৈরির কথা বলছেন। তাঁর প্রচারে রয়েছে কলেজ ও উপযুক্ত সেতুর প্রয়োজনীয়তাও। বিরোধীরাই ধর্মকে নির্বাচনী হাতিয়ার করছেন বলে তাঁর অভিযোগ। দলের নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তথা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষও জয়ের দাবি করেছেন। হুমায়ুনের অভিযোগ উড়িয়ে তাঁর বক্তব্য, পরাজয় আঁচ করেই অজুহাত তৈরি করছে বিরোধীপক্ষ।

হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ। হুমায়ুন রেজিনগর ও নওদা, দুই আসনেই জেতার পরে নওদা রেখে এই আসন ছেড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে এবং দলের কর্মীদের হয়রান করছে। কর্মীদের আরও গ্রেফতারি ও হেনস্তা এড়াতেই মাঠে নেমে প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ছেলেকেও সরাসরি প্রচারে নামতে দেবেন না বলে জানিয়ে সমাজমাধ্যমকে প্রচারের মাধ্যম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই অভিযোগের পটভূমিতে রয়েছে দলের একাধিক পদাধিকারীর গ্রেফতারি। পুরনো মামলায় কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্দল প্রার্থী সাইফুল ইসলামও গ্রেফতার হয়েছেন। ফলে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিরোধীদের প্রচারের সুযোগ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভোট হবে ৬ অক্টোবর; গণনা ৯ অক্টোবর।

রেজিনগরের সামাজিক বাস্তবতা বিজেপির উন্নয়নের প্রচারকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। ভাগীরথীর দুই পারে বিস্তৃত, মূলত গ্রামীণ এই এলাকায় কাজের সুযোগ সীমিত। বহু যুবককে জীবিকার সন্ধানে বাইরে যেতে হয়। চিকিৎসা পরিষেবা ও যাতায়াত নিয়েও বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে। নদীর ওপারের গ্রাম থেকে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে পৌঁছনোর সমস্যাও তাঁদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ। তাই সেতু, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্ন এখানে সরাসরি মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত।

এর আগে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ ঘিরে রেজিনগর রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় এসেছিল। হুমায়ুনের সেই প্রকল্প ঘিরে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগও ওঠে। এখন নির্মাণস্থলের আগের ভিড় নেই, কাজ থমকে রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেই আবহে বিজেপির প্রচারে ধর্মের বদলে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।

তবে বিরোধী ভোটের একাধিক দাবিদারও রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী প্রাক্তন বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী। কংগ্রেস, সিপিএম এবং তৃণমূলের অন্য শিবিরও প্রার্থী দিয়েছে। ফলে সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে কতটা যাবে, সেটিও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। হুমায়ুনের আগের বিপুল জয় তাঁর দলের পক্ষে সম্পদ হলেও উপনির্বাচনে তা ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ।

এই লড়াই তাই শুধু একটি আসন জেতার পরীক্ষা নয়। বিজেপির উন্নয়নের বার্তা সংখ্যালঘু ভোটারদের কতটা আস্থা অর্জন করে, তারও পরীক্ষা। পাশাপাশি হুমায়ুনের উত্থাপিত ভয় দেখানোর অভিযোগ ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে আলাদা প্রশ্ন রাখছে। প্রতিশ্রুতি, পূর্ববর্তী জনসমর্থন এবং অবাধে প্রচারের সুযোগ—এই তিনটি বিষয় মিলিয়েই রেজিনগরের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত কোন বিষয় প্রাধান্য পাবে, ফলেই বোঝা যাবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles