আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতীক বরাদ্দ ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আইএসএফ-এর সদ্য ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীক প্রতিদ্বন্দ্বী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে পাইয়ে দেওয়ায় জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে আদালত। নির্বাচন চলাকালীন এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করছে বলে মন্তব্য করেছে বিচারপতি রাওয়ের বেঞ্চ।

আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উপনির্বাচন হতে চলেছে। সেই নির্বাচনেই আইএসএফ প্রার্থী দিচ্ছে, অথচ তাদেরই মে মাসের বিধানসভা ভোটে ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, চার মাস আগে যে প্রতীক একটি নির্দিষ্ট দল ব্যবহার করেছে, উপনির্বাচনের মতো স্বল্প ব্যবধানের ভোটে তা কেন সংরক্ষিত বা স্থগিত রাখা হল না, তার কোনও সদুত্তর কমিশনের তরফে মেলেনি। বিচারপতি রাও মন্তব্য করেন, এমন বহু প্রতীক হাতে থাকা সত্ত্বেও কমিশন কেন নির্দিষ্ট ভাবে এই প্রতীকটিই বেছে নিল, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। কমিশনের নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল বলেও আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়।

আইনজীবীর সওয়াল

আইএসএফ-এর হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, যে নির্বাচনে তাঁর মক্কেল নিজেই প্রার্থী দিচ্ছে, সেখানে তাদেরই প্রতীক অন্য দলকে দেওয়ার ফলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। মে মাসে যে প্রতীকে আইএসএফ লড়েছিল, জুলাই-অগস্টে তা বদলে যাওয়ায় সাধারণ ভোটারের পক্ষে দুই দলকে আলাদা করে চেনা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি আদালতে জানান। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, কমিশনের এই আচরণ গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। বিকল্প হিসেবে তিনি প্রস্তাব দেন, ‘খাম’ প্রতীকটিকে সব দলের জন্য আপাতত স্থগিত রেখে, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলকেই নতুন করে অন্য প্রতীক বরাদ্দ করা হোক।

কমিশনের অবস্থান ও আদালতের মন্তব্য

নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা হলেও আদালত তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, একবার নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পরে কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করছে, যা কাম্য নয়। বস্তুত, ভোট ঘোষণার পরে প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এই নিয়ে একাধিকবার কমিশনকে আদালতের প্রশ্নবাণের মুখে পড়তে হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার কার্যপদ্ধতি নিয়েই সংশয় তৈরি করছে বলে পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নিজেদের ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামের উত্তরাধিকারী দাবি করে পৃথক সাংগঠনিক অস্তিত্ব জাহির করার চেষ্টা চালাচ্ছে, আর সেই আবহেই এই প্রতীক-বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজ্যে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, রাজ্য রাজনীতিতে প্রতীক ও পরিচয়ের প্রশ্ন কতটা স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে কমিশন হলফনামা আকারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।