মোদীর বদলে শাহের আসার সম্ভাবনা, মহালয়ায় ইডেনের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে বদল

যা জানা জরুরি
- মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্সে রাজ্য সরকারের দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবর্তে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
- নবান্নের আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দু’জনকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
- তবে শাহের দপ্তর থেকে সম্ভাব্য সফরসূচি আসায় এখন তাঁর উপস্থিতির সম্ভাবনাই জোরালো হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্সে রাজ্য সরকারের দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবর্তে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ১০ অক্টোবর এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। নবান্নের আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দু’জনকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে শাহের দপ্তর থেকে সম্ভাব্য সফরসূচি আসায় এখন তাঁর উপস্থিতির সম্ভাবনাই জোরালো হয়েছে।
প্রধান অতিথির সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা বৃহস্পতিবার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের কর্তাদের জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা। সেই অনুযায়ী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা সংশোধনের কাজ শুরু করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তর। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরেই প্রস্তুতি চলছিল। তবে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শাহের সফরসূচি এখনও সম্ভাব্য পর্যায়ে রয়েছে। ফলে তাঁর উপস্থিতিকে চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই।
ইডেনের অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার দর্শকের সমাগম হতে পারে বলে আয়োজকদের প্রাথমিক হিসাব। তাঁদের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি থাকবেন। সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রায় ছয় হাজার শিল্পী এবং তিন হাজার ঢাকির অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গান ও লোকসংস্কৃতির পরিবেশনার সঙ্গে থাকছে আলো ও শব্দের প্রদর্শনী, ড্রোন শো এবং আতশবাজি। পুজোর সূচনাকে বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রূপ দেওয়াই এই আয়োজনের লক্ষ্য।
সঙ্গীতানুষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেন শান্তনু মৈত্র, অন্তরা মিত্র এবং কৌশিকী চক্রবর্তী। পরিবেশনায় থাকার কথা লোকগানের দল দোহারেরও। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রকাশিত প্রস্তুতির খবরে শান ও লগ্নজিতার নামও ছিল। তবে অতিথি এবং অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন হওয়ায় আগের সমস্ত পরিকল্পনা হুবহু বহাল থাকছে কি না, তা সর্বশেষ প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইডেন থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার পাঁচটি বড় পুজোর উদ্বোধন করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তালিকায় ছিল শ্রীভূমি স্পোর্টিং, সুরুচি সঙ্ঘ, সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার, চেতলা অগ্রণী এবং ত্রিধারা সম্মিলনী। তাঁকে শঙ্খধ্বনিতে অভ্যর্থনা জানানো এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গল্ফ কার্টে মাঠ পরিদর্শনের ব্যবস্থাও ভাবা হয়েছিল। এই কর্মসূচিগুলি এখন কীভাবে সাজানো হবে, তা সংশোধিত সূচির উপর নির্ভর করবে।
মুখ্যমন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন, ইডেনে দুর্গাপ্রতিমার চক্ষুদান অনুষ্ঠানে মোদী নিজে অংশ নিতে পারেন। সেপ্টেম্বরের গোড়ায় ঘোষিত বৃহত্তর পরিকল্পনায় মহালয়ার এই আয়োজনকে পুজো শুরুর প্রধান অনুষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। প্রস্তুতি, অনুষ্ঠান এবং পরে অস্থায়ী পরিকাঠামো সরানোর জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেন ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছিল রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তর। সিএবিকে পাঠানো চিঠিতে মোট ২১ দিনের জন্য মাঠ চাওয়া হয়।
এর আগের সরকারের আমলে উৎসবের পরে রেড রোডে পুজো কার্নিভালের আয়োজন করা হত প্রতি বছর। এই আয়োজনের সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পরিকল্পনাও যুক্ত ছিল। পুজোর আগে রেড রোডে শোভাযাত্রায় ২৩ জেলার নাচ ও লোকশিল্পের প্রতিনিধিত্ব রাখার কথা জানানো হয়েছিল। দার্জিলিঙের তামাং সেলো, কালিম্পঙের লেপচা নৃত্য, মালদহের গম্ভীরা, বীরভূমের বাউল এবং পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার ছৌয়ের মতো পরিবেশনা সেই প্রাথমিক নকশায় ছিল। ফলে ইডেনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রস্তুতির পরিসর শুধু একটি মঞ্চের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
সিএবির কর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের দিন ক্লাবহাউসের দু’টি তলা এবং প্রেস বক্সে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বিপুল সংখ্যক দর্শক ও আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মাঠ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধান অতিথি বদলানোর সম্ভাবনা সামনে এলেও মহালয়ার মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চালু রয়েছে।
এখন প্রশাসনিক প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দু শাহের সম্ভাব্য আগমন এবং সেই অনুযায়ী অনুষ্ঠান সাজানো। প্রধানমন্ত্রী কেন আসছেন না, তার কারণ ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। একইভাবে শাহ ঠিক কোন কোন পর্বে অংশ নেবেন, তাও স্পষ্ট নয়। চূড়ান্ত সফরসূচি প্রকাশিত হলেই অতিথির উপস্থিতি এবং উদ্বোধনের সংশোধিত রূপরেখা পরিষ্কার হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



