পরীক্ষা সংস্কারে দু’মাসে ৫৮ বৈঠক নিলেকানি টাস্ক ফোর্সের, জমা ৫০ হাজারের বেশি প্রস্তাব

যা জানা জরুরি
- নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর: দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স প্রায় দু’মাসে ৫৮টি বৈঠক করেছে।
- এর মধ্যে নিজেদের আলোচনার জন্য প্রায় ১৮টি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরামর্শের জন্য ৪০টি বৈঠক হয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের দেওয়া হলফনামার ভিত্তিতে এই অগ্রগতির কথা জানা গেছে ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর: দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স প্রায় দু’মাসে ৫৮টি বৈঠক করেছে। এর মধ্যে নিজেদের আলোচনার জন্য প্রায় ১৮টি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরামর্শের জন্য ৪০টি বৈঠক হয়েছে। জমা পড়েছে ৫০ হাজারের বেশি প্রস্তাব। সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের দেওয়া হলফনামার ভিত্তিতে এই অগ্রগতির কথা জানা গেছে । এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষেই চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা।
আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র সাংগঠনিক পরিবর্তন। ইউনাইটেড ডক্টর্স ফ্রন্টের প্রস্তাব, সংসদে আইন পাশ করে সংস্থাটিকে বিধিবদ্ধ জাতীয় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষে রূপান্তর করা হোক। প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিভাগের ৭৫ শতাংশ পদ স্থায়ী কর্মীদের দিয়ে পূরণ এবং বাইরের সংস্থার কর্মীর অনুপাত ২৫ শতাংশে সীমিত রাখার সুপারিশও রয়েছে। এগুলি সংগঠনটির প্রস্তাব; সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। পৃথক সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল ফরেনসিক্স ও নজরদারি বিভাগ গড়ার কথাও বলেছে সংগঠনটি, যাতে বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করা যায়।
পরীক্ষার বিভিন্ন কাজ আলাদা সংস্থাকে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন। প্রশ্নপত্র তৈরি, নিরাপত্তা এবং পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব ভাগ করলে একটিমাত্র পরিষেবা প্রদানকারীর উপর নির্ভরতা কমবে। রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব, পুলিশপ্রধান এবং শিক্ষা ও নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহে চালু হয়েছে ‘লিসেন অ্যাট স্কেল’ ব্যবস্থা।
গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেন। কেন্দ্রের প্রকাশিত কার্যপরিধি অনুযায়ী, এনটিএ-সহ বিভিন্ন সংস্থার পরিচালিত পরীক্ষার আয়োজন, নিরাপত্তা, মূল্যায়নপদ্ধতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং ন্যায্য পরীক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা। প্রশ্নফাঁস বা অনিয়ম ঠেকানোর পাশাপাশি অনিয়ম চিহ্নিত করা এবং তার প্রতিকারের ব্যবস্থাও এই কাজের অন্তর্ভুক্ত।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপদ কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক, অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক ও ভাষাগত অবস্থান নির্বিশেষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করাও সংস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য। পরীক্ষার্থীদের সুস্থতার বিষয়টিও কার্যপরিধিতে রয়েছে। ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তিবিদ ও নাগরিক সংগঠনগুলির মতামত চাওয়া হয়েছিল। ইংরেজি ও হিন্দির পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষায় প্রস্তাব পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়। ওয়েবসাইট, ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমেলের মাধ্যমে মতামত জানানোর ব্যবস্থা ছিল।
এই উদ্যোগের সঙ্গে আগের সংস্কারপ্রক্রিয়ার যোগও রয়েছে। নিলেকানি টাস্ক ফোর্স ইতিমধ্যেই ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান কে রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ২০২৪ সালে নিট-ইউজি বিতর্কের পরে তাঁর নেতৃত্বেই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠিত হয়েছিল। সেই কমিটি পরীক্ষাপদ্ধতি, তথ্যের নিরাপত্তা এবং এনটিএ-র কাজকর্ম বদলাতে ১০১টি সুপারিশ করেছিল। প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা থেকে পরীক্ষার্থীর নিবন্ধন, অ্যাডমিট কার্ড, উত্তরপত্র প্রক্রিয়াকরণ এবং ফলপ্রকাশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ ছিল তার আওতায়।
আগের সুপারিশ কার্যকর করার অগ্রগতি তদারকির দায়িত্বেও রয়েছেন রাধাকৃষ্ণন। নতুন টাস্ক ফোর্স সেই সুপারিশগুলি বৃহত্তর সংস্কারপরিকল্পনার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখছে। সুপ্রিম কোর্টও এনটিএ-তে স্থায়ী কাঠামো ও স্থায়ী কর্মীর প্রয়োজনীয়তায় জোর দিয়েছে। এদিকে সংস্থাটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, পরীক্ষাকেন্দ্রের নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নিটকে কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষায় রূপান্তরের সম্ভাবনাও পর্যালোচনায় রয়েছে। তার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষিত পরীক্ষাকেন্দ্র এবং কম্পিউটার পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। আগের কমিটি এনটিএ-কে মূলত উচ্চশিক্ষায় প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনার কাজে সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশও করেছিল। সংস্থার প্রশাসন ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর পরিবর্তন ছিল সেই পরিকল্পনার অংশ। নতুন উদ্যোগে তাই পুরনো সংস্কারের বাস্তবায়নের প্রশ্নটিও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে সংস্কারের আলোচনায় প্রযুক্তি, কর্মী, পরিচালনব্যবস্থা এবং পরীক্ষার্থীর সুযোগ—এই বিষয়গুলি একসঙ্গে উঠে এসেছে। তবে বৈঠক ও প্রস্তাব সংগ্রহ প্রস্তুতির ধাপ। শেষ পর্যন্ত কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে, কত সময়ে তা কার্যকর হবে এবং দায়িত্ব কার থাকবে, সেখানেই সংস্কারের বাস্তব গুরুত্ব নির্ধারিত হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



