ভোটার বাদ দেওয়ার গণআবেদন ঘিরে বিতর্ক, সিট গঠনের ভাবনা কর্নাটকে

যা জানা জরুরি
- বেঙ্গালুরু, ৯ অক্টোবর: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের…
- বিভিন্ন জেলায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গত সপ্তাহে প্রবীণ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে ডি কে শিবকুমারের…
- সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বল্লারি, বেঙ্গালুরু, বিদর, বেলগাভি, চিকমাগালুরু, দক্ষিণ কন্নড়, মাইসুরু, বিজয়পুরা ও উদুপিতে মোট নয়টি এফআইআর হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বেঙ্গালুরু, ৯ অক্টোবর: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের কথা ভাবছে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। বিভিন্ন জেলায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গত সপ্তাহে প্রবীণ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে ডি কে শিবকুমারের সরকার। তবে সিট গঠনের চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও হয়নি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বল্লারি, বেঙ্গালুরু, বিদর, বেলগাভি, চিকমাগালুরু, দক্ষিণ কন্নড়, মাইসুরু, বিজয়পুরা ও উদুপিতে মোট নয়টি এফআইআর হয়েছে। অভিযোগ, ভুয়ো তথ্য দিয়ে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছে। কয়েকটি মামলার প্রাথমিক অনুসন্ধানে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ফর্ম তৈরির ইঙ্গিত মিলেছে বলে সূত্রের দাবি।
মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে ছাপানো ফর্ম কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছে। কারা ফর্ম তৈরি করেছেন, কার নির্দেশে সেগুলি জমা পড়েছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ভি অনবুকুমার জানিয়েছেন, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯১,২৭৮টি ফর্ম ৭ জমা পড়েছে। তবে সেগুলির ভিত্তিতে এখনও কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়নি।
ভোটার তালিকায় কোনও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে বা বিদ্যমান নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করতে ফর্ম ৭ ব্যবহৃত হয়। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এই ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের মধ্যে যোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ১ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন বেঙ্গালুরুর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকদের মিথ্যা আবেদন যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। কমিশন জানায়, জেনেশুনে মিথ্যা বিবৃতি বা ঘোষণা দিয়ে ফর্ম ৬, ৬এ, ৭ কিংবা ৮ জমা দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে তার আগে নির্ধারিত বিধি মেনে অনুসন্ধান প্রয়োজন। ফলে অভিযোগ ওঠা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রেখেই নির্বাচনী কর্তাদের এগোতে হবে।
বিতর্কের একটি উদাহরণ মিলেছে শিবমোগ্গার তীর্থহল্লি এলাকার সুরুলি গ্রামে। মাকতুবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে বিজেপির এক নেতা ৮১ জনের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। সলিডারিটি ইয়ুথ মুভমেন্টের দাবি, তাঁদের মধ্যে ৭৮ জন মুসলিম। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা জীবিত; কয়েকজন কাছাকাছি এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকেন। সংগঠনটি ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ভোটারদের নিশানা করার চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে এবং পৃথক তদন্তের দাবি তুলেছে।
অন্যদিকে, বিজেপি ও জেডিএসের বক্তব্য, আপত্তি জানানোর বৈধ প্রক্রিয়াকে অপরাধ হিসেবে দেখিয়ে বিরোধী কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে সরকার। ৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী, আর অশোক এবং অন্য নেতারা রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের দাবি, একসঙ্গে একাধিক ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে; তাই শুধু আবেদনের সংখ্যা বেশি হলেই বেআইনি কাজ প্রমাণিত হয় না।
রাজ্যপালকে দেওয়া অভিযোগপত্রে এনডিএ নেতারা আরও বলেছেন, নির্বাচনী আপত্তিকারীদের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি ধারা প্রয়োগ করে পুলিশকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁরা আবেদনকারীদের সুরক্ষা এবং ভিত্তিহীন মামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেসের পাল্টা অবস্থান, বৈধ আপত্তির আড়ালে প্রকৃত ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনও সংগঠিত চেষ্টা থাকলে তার তদন্ত জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের কাজের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে এবং প্রশাসনিক চাপ দিয়ে আপত্তি জানানোর অধিকার সংকুচিত করা চলবে না। এই যুক্তিতেই রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা।
এই বিতর্কে তাই এখন মূল প্রশ্ন, জমা পড়া আবেদনগুলির তথ্য কতটা সত্য এবং সেগুলি তৈরির পিছনে কোনও সমন্বিত উদ্যোগ ছিল কি না। বিশেষ তদন্তকারী দল গঠিত হলে এই যোগসূত্রের অনুসন্ধান গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি কমিশনের নির্দেশ মেনে প্রতিটি আবেদনের সত্যতা যাচাই এবং যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বও সামনে এসেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



