রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কারে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক সোনম ওয়াংচুকের

যা জানা জরুরি
- স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতকে একটি মর্যাদাশীল ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে হলে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।
- এই লক্ষ্যে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ শুরু করার ডাক দিলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।
- স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দেশের এখন প্রয়োজন একটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব—যার কেন্দ্রে থাকবে সৎ, নিঃস্বার্থ ও নির্ভীক নেতৃত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতকে একটি মর্যাদাশীল ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে হলে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। এই লক্ষ্যে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ শুরু করার ডাক দিলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দেশের এখন প্রয়োজন একটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব—যার কেন্দ্রে থাকবে সৎ, নিঃস্বার্থ ও নির্ভীক নেতৃত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ।
ওয়াংচুকের বক্তব্য, ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায়। সঠিক মানুষকে নেতৃত্বে না আনতে পারলে গোটা দেশই ভুল পথে পরিচালিত হবে। কোনও একটি রাজনৈতিক দল বা শুধু শাসক-বিরোধী বিভাজনের মধ্যে এই সমস্যাকে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। বিভিন্ন দলের সরকারই প্রতিবাদ দমন করেছে এবং ক্ষমতায় গিয়ে একই ধরনের অন্যায় করেছে বলে তাঁর অভিযোগ।
সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ঘোষিত ফৌজদারি মামলার প্রসঙ্গ তুলে ওয়াংচুক বলেন, প্রায় অর্ধেক সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ আছে। তবে এগুলি অভিযোগ, সব ক্ষেত্রে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তা সত্ত্বেও এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের আস্থার ঘাটতি বাড়াচ্ছে বলে তাঁর অভিমত।
ওয়াংচুক জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শ্রেষ্ঠ চিন্তাশীল মানুষদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করতে চান। তবে তাঁর অনুসন্ধান কেবল বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এমন নারী ও পুরুষকে খুঁজছেন, যাঁরা নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান এবং দেশের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের রাজ্য বা অঞ্চল থেকে অন্তত একজন এমন ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রত্যন্ত লাদাখে বসে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা যোগ্য মানুষদের সন্ধান পাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই জনসাধারণের সাহায্য চেয়েছেন ওয়াংচুক।
ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষা পিছিয়ে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎও পিছিয়ে থাকবে। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের ফলে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকে পরিবর্তন এলেও শুধু মন্ত্রী বদলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।
২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের কথাও স্মরণ করিয়েছেন ওয়াংচুক। সেই আন্দোলনের পরে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলেও দুর্নীতি ও অবিচার শেষ হয়নি; বরং নতুন এবং আরও শক্তিশালী রূপ নিয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাই ব্যক্তি বা দল পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।
২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষের দিকে তাকিয়ে তাঁর প্রশ্ন—ভারত কি সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে উঠে দাঁড়াবে, না কি নেতৃত্বের সংকটে পিছিয়ে পড়বে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দেশজুড়ে ঘুরে সাধারণ মানুষের পরামর্শ সংগ্রহ করতে চান তিনি। অহিংস ও গণতান্ত্রিক পথে রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের এই উদ্যোগকেই ওয়াংচুক আখ্যা দিয়েছেন ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



