খাড়্গের সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ’, দলিত-বিদ্বেষের অভিযোগ কংগ্রেসের

যা জানা জরুরি
- উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের জনসভার পরে সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ’ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
- ঘটনাটিকে দলিত সমাজ এবং সংবিধানের মর্যাদার প্রতি অপমান বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।
- বিজেপি অবশ্য ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ অস্বীকার করেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের জনসভার পরে সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ’ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনাটিকে দলিত সমাজ এবং সংবিধানের মর্যাদার প্রতি অপমান বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। বিজেপি অবশ্য ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা ঘটনার নিন্দা করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
আগামী বছরের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে ৮ আগস্ট হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে জনসভা করেন খাড়্গে। তার তিন দিন পরে ‘শ্রী রাম সেনা ধর্মার্থ সেবা ন্যাস’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যেরা সেখানে যজ্ঞ করে মঞ্চের ‘শুদ্ধিকরণ’ করেন। সংগঠনটির দাবি, কংগ্রেসের কর্মসূচিতে মঞ্চ থেকে কয়েকটি ‘আপত্তিকর স্লোগান’ দেওয়া হয়েছিল। রামলীলা মঞ্চ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থান হওয়ায় সেখানে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা উচিত নয় বলেও তারা জানায়।
তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, যজ্ঞের আয়োজকদের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক রয়েছে। খাড়্গে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই তাঁর ব্যবহৃত মঞ্চকে ‘অপবিত্র’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও আয়োজকদের সঙ্গে বিজেপির যোগ স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।
রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করে খাড়্গে বলেন, তিনি কখনও নিজের জাতিগত পরিচয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেননি। কিন্তু তাঁর সভার পরে মঞ্চের শুদ্ধিকরণ কার্যত তাঁকে অস্পৃশ্য হিসেবে দেখানোর শামিল। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এটাই কি গণতন্ত্র? এ ভাবে সংবিধানকে কী করে রক্ষা করা হচ্ছে?” সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্পৃশ্যতা-বিরোধী আইনে মামলা করার দাবিও জানান তিনি।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন। নাড্ডাও বলেন, বিজেপি এ ধরনের কাজ সমর্থন করে না। তাঁর বক্তব্য, এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা শুধু খাড়্গে বা কংগ্রেস নয়, সমগ্র সমাজের অপমান। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
রাহুল গান্ধী বলেন, এই ‘শুদ্ধিকরণ’ শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, অস্পৃশ্যতাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা সংবিধানকেই অপমান করেছে। তাঁর অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বিজেপি ও আরএসএসের লালিত ‘মনুবাদী মানসিকতার’ প্রকাশ—যেখানে সাম্য ও মানবিকতার বদলে জন্ম দিয়ে মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করা হয়।
উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়াল এবং দলের রাজ্য-ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কুমারী শৈলজা নিরপেক্ষ তদন্ত, এফআইআর এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেস ঘোষণা করেছে, বিজেপির কথিত ‘দলিত-বিরোধী মানসিকতা’র প্রতিবাদে দেশজুড়ে জেলা স্তরে মিছিল ও বিক্ষোভ করা হবে। বিজেপি পাল্টা বলেছে, ধর্মীয় মঞ্চে আপত্তিকর স্লোগান নিয়েই স্থানীয়দের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল; খাড়্গের জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



