লাঠি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলার ডাক দেওয়ার অভিযোগ; ‘দক্ষিণপন্থী উগ্রবাদীদের’ বিক্ষোভস্থলে ঢুকতে না দেওয়ার আর্জি সিজেপির

দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের আগে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে হিংসার হুমকি দেওয়া একাধিক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজকেরা দিল্লি পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাঁরা হুমকি দিচ্ছেন, তাঁরা যেন বিক্ষোভস্থলে পৌঁছতে না পারেন।

এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিতে কয়েকজনকে লাঠি নিয়ে যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়ার ডাক দিতে এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মোকাবিলার হুমকি দিতে শোনা যাচ্ছে।

একটি ভিডিওতে ‘হিন্দু অরুণ যাদব’ নামের হ্যান্ডল ব্যবহারকারী এক ব্যক্তিকে হাতে লাঠি নিয়ে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে শারীরিকভাবে সক্ষম পুরুষদের জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “ছয় ফুট লম্বা ৫০ জন পুরুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তা হলে এই আরশোলাগুলোর একটাকেও ছাড়ব না। পুলিশের দরকার নেই। আমি তোমাদের সবাইকে দেখে নেব।”

ওই ব্যক্তি আরও বলেন, “লাঠি তুলে নিন” এবং ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে পৌঁছে যান। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা “দেশে সন্ত্রাস ছড়ানোর” চেষ্টা করছেন।

আর একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের “শায়েস্তা করতে” ১০ অক্টোবর তাঁর সঙ্গে যোগ দেওয়ার ডাক দেন। তাঁর অভিযোগ, ‘ভোট চুরি’র বিষয়টিকে ব্যবহার করে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। আগের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভকারীদের সংসদে ঢোকার চেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে ওই বক্তা দাবি করেন, বর্তমান বিক্ষোভের উদ্দেশ্যও একইভাবে সরকারকে দুর্বল করা।

বিক্ষোভকারীদের “দেশবিরোধী” বলে উল্লেখ করে ভিডিওতে তিনি বলেন, “তাই ১০ তারিখ আমার সঙ্গে যোগ দিন। লাঠি নিয়ে যন্তর মন্তরে পৌঁছে যান; ওদের ব্যবস্থা আমরা করব।”

প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এই ভিডিওগুলি সামনে এসেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও অন্যান্য যুব সংগঠন এই বিক্ষোভের আয়োজন করছে। আয়োজকেরা বারবার জানিয়েছেন, তাঁদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হবে।

যাঁদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে দিল্লি পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সিজেপির সৌরভ দাস। তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি: নাগরিকদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের দাঁড় করিয়ে সরকার দেশে বড় ধরনের অশান্তি তৈরি করতে চাইছে। তারা গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু আমরা, তরুণ প্রজন্ম, বরাবর শান্তিপূর্ণ থেকেছি।”

দাস যাঁদের “দক্ষিণপন্থী উগ্রবাদী” বলে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা যাতে বিক্ষোভস্থলে ঢুকতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানান। ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের আটক করারও দাবি জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য, “কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় সম্পূর্ণভাবে বিজেপি সরকার ও দিল্লি পুলিশের।” তাঁর অভিযোগ, ওই ভিডিও “তরুণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়াতে উগ্রপন্থী লোকজনকে উসকানি দিচ্ছে”।

সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কাও অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের নিশানা করতে দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে সংগঠিত করা হয়েছে। তিনি জানান, সিজেপির বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণই থাকবে।

রাঙ্কা বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিষয়টির দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত সমাজমাধ্যমের পোস্টগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে। যাঁরা হুমকি দিচ্ছেন বা হিংসায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের গতিবিধিও নজরে রাখা হচ্ছে।

দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “যাঁরা জনতাকে উসকানি দিয়ে ভিডিও পোস্ট করছেন, তাঁদের উপর আমরা নজর রাখছি। তাঁরা আমাদের নজরে রয়েছেন এবং আমরা নিয়মিত তাঁদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছি। কেউ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, হিংসা বা হুমকিমূলক আচরণে যুক্ত হলে তাঁকে চিহ্নিত করে নজরদারি চালানো হয়। তাঁরা এসব বাস্তবে কার্যকর করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস ইউনিটের এক আধিকারিক জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে ওই ভিডিওগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও মামলা এখনও দায়ের হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের আগে নিরাপত্তার বন্দোবস্তের উপর নিবিড় নজরদারির মধ্যেই পুলিশের এই বক্তব্য সামনে এসেছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, হিংসায় উসকানি দেওয়া বা বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের হুমকি দেওয়ার যে কোনও চেষ্টা আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে।