দ্রুত কর ফেরত, সহজ নথিভুক্তি: মামলা কমাতে জিএসটিতে একগুচ্ছ সংস্কার

যা জানা জরুরি
- জিএসটির কর ফেরত ও নথিভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং করসংক্রান্ত মামলা কমাতে একগুচ্ছ সংস্কারের সুপারিশ করল জিএসটি কাউন্সিল।
- বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সভাপতিত্বে কাউন্সিলের ৫৭তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
- ঘোষিত প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনগুলি ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জিএসটির কর ফেরত ও নথিভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং করসংক্রান্ত মামলা কমাতে একগুচ্ছ সংস্কারের সুপারিশ করল জিএসটি কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সভাপতিত্বে কাউন্সিলের ৫৭তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। ঘোষিত প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনগুলি ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলার বোঝা কমানোই এবারের সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য।
সীতারামনের বক্তব্য, জিএসটির করহার ও প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ৯৯ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে আরও সংস্কারের দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। গত বছরের বৈঠকে করহার সরলীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবার নজর দেওয়া হয়েছে ব্যবসার দৈনন্দিন কাজে জিএসটি ব্যবস্থার জটিলতা কমানোর দিকে। এই বৈঠকে মূল করকাঠামোয় পরিবর্তন করা হয়নি।
কর ফেরতের ক্ষেত্রে আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকার করার সময়সীমা ১৫ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সুপারিশ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রাপ্তিস্বীকার বা আবেদনের ত্রুটি জানানো না হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত বলে গণ্য হবে। ঝুঁকি যাচাইয়ের ভিত্তিতে ফেরতযোগ্য অর্থের ৯০ শতাংশ সাময়িকভাবে মঞ্জুর করবে অনলাইন ব্যবস্থা। আবেদন গৃহীত হওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট আদেশ দেওয়ার সময় সাত দিন থেকে তিন কার্যদিবসে নামানোর প্রস্তাব রয়েছে। ইলেকট্রনিক ক্যাশ লেজারে জমে থাকা অতিরিক্ত অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসার প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন দ্রুত ফেরত পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
নথিভুক্তির আবেদন করতে কী কী তথ্য ও নথি লাগবে, তা স্পষ্ট করে নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। অনলাইন আবেদনপত্রও আরও সহজ করা হবে। ব্যবসার প্রধান ঠিকানা বাদে নথিভুক্তির অধিকাংশ তথ্যের সংশোধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণের সুপারিশ রয়েছে। যাঁরা বিশেষ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় নথিভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রধান ঠিকানার পরিবর্তনও একইভাবে গৃহীত হবে। তথ্যের ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠা বা আবেদন বাতিল হওয়ার ঘটনা কমানোই এর উদ্দেশ্য।
মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ হয়েছে। জিএসটি আইনে কর আধিকারিকদের গ্রেফতারের ক্ষমতা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে কাউন্সিল। ফৌজদারি মামলা শুরু করার আর্থিক সীমা এক কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করার সুপারিশও রয়েছে। যে ক্ষেত্রে আলাদা জরিমানা নির্ধারিত নেই, সেখানে সাধারণ জরিমানার সর্বোচ্চ অঙ্ক ২৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। কর আদায় ও নিয়ম মানানোর ব্যবস্থাকে ব্যবসাবান্ধব করাই এই উদ্যোগের ঘোষিত উদ্দেশ্য।
উপকরণ বা পরিষেবা কেনার সময়ে দেওয়া করের ছাড়, অর্থাৎ ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সরবরাহকারী কর জমা না দিলে সৎ ক্রেতার করছাড় কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, সেই বিষয়টি আরও পরীক্ষার জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ফলে এই প্রশ্নে চূড়ান্ত ছাড় ঘোষণা করা হয়নি।
ছোট ব্যবসার জন্যও স্বস্তির প্রস্তাব রয়েছে। আগের অর্থবর্ষে মোট লেনদেন পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং কেবল অনথিভুক্ত ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন, এমন ব্যবসায়ীদের জন্য বছরে একবার রিটার্ন ও প্রতি ত্রৈমাসিকে কর দেওয়ার ঐচ্ছিক প্রকল্প নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। ইলেকট্রনিক ক্রেডিট লেজারে অর্থ আটকে দেওয়া হলে করদাতার আপত্তি জানানো ও ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ রাখারও সুপারিশ হয়েছে।
আন্তঃরাজ্য পণ্য পরিবহণে তল্লাশির ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ আনার প্রস্তাব রয়েছে। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকের অনুমোদনের ভিত্তিতে গাড়ি আটকানোর সুপারিশ হয়েছে। সাধারণভাবে পণ্য পাঠানো বা পৌঁছনোর রাজ্যের আধিকারিকেরা পরীক্ষা করবেন। তবে ই-ওয়ে বিল বা যাত্রার উৎস ও গন্তব্যের নথি না থাকলে এই ভৌগোলিক সীমা প্রযোজ্য হবে না।
তবে কাউন্সিলের সুপারিশ মানেই সংশ্লিষ্ট আইন সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাওয়া নয়। অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন, বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশিকার মাধ্যমে সিদ্ধান্তগুলি কার্যকর হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য তাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হল চূড়ান্ত নিয়ম এবং সেগুলির প্রয়োগের সময়সূচি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



