Home খবর স্কুলের পাঠ্যবইয়ে হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে জ্ঞান অন্তর্ভুক্তির পক্ষে ভাগবত

স্কুলের পাঠ্যবইয়ে হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে জ্ঞান অন্তর্ভুক্তির পক্ষে ভাগবত

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
3 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত বলেছেন, ভারতের স্কুলশিক্ষায় হিন্দু দেবদেবী, পুরাণ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাঁর মতে, দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতার ধারাবাহিকতা বোঝার জন্য এই জ্ঞান অপরিহার্য এবং তা শিক্ষার অংশ হওয়া দরকার।

এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বিশ্বজ্ঞান দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু নিজেদের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থেকে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত যাতে তারা ভারতের সাংস্কৃতিক শিকড় সম্পর্কে অবহিত থাকে।

ভাগবত বলেন, হিন্দু দেবদেবীদের পরিচয়, তাঁদের সঙ্গে যুক্ত কাহিনি, প্রতীকী তাৎপর্য এবং ভারতীয় দর্শনের মূল ধারণাগুলি ধর্মীয় প্রচার হিসেবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পড়ানো যেতে পারে। এতে দেশের বহুমাত্রিক ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের ধারণা আরও সমৃদ্ধ হবে।

তিনি দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের নিজস্ব সভ্যতা, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাস শিক্ষার অংশ। ভারতের ক্ষেত্রেও সেই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, নিজের সংস্কৃতিকে না জেনে কেবল পাশ্চাত্য জ্ঞানের ওপর নির্ভর করলে শিক্ষার পূর্ণতা আসে না।

ভাগবতের মতে, ভারতীয় জ্ঞানচর্চার পরম্পরা, মহাকাব্য, পুরাণ, দর্শন এবং বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতীকী অর্থ সমাজের মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হলে ছাত্রছাত্রীরা দেশের সাংস্কৃতিক বিবর্তন এবং সামাজিক ইতিহাস আরও গভীরভাবে বুঝতে পারবে।

তবে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে বিতর্কও উসকে দিয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, সরকারি স্কুলের পাঠ্যক্রমে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের দেবদেবীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হলে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাঁদের দাবি, যদি ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিষয় পড়ানো হয়, তবে তা ভারতের সব প্রধান ধর্ম ও বিশ্বাসব্যবস্থার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দিয়েই হওয়া উচিত।

অন্যদিকে, ভাগবতের বক্তব্যকে সমর্থনকারীদের দাবি, এটি ধর্মীয় শিক্ষা চালুর প্রস্তাব নয়; বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্প ও দর্শনের ভিত্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার উদ্যোগ। তাঁদের মতে, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ বা বিভিন্ন দেবদেবীর কাহিনি ভারতীয় শিল্প, স্থাপত্য, সংগীত ও সাহিত্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ফলে এগুলি সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান থাকা শিক্ষারই অংশ হওয়া উচিত।

জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-এ ভারতীয় জ্ঞানব্যবস্থা, ভাষা, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভাগবতের মন্তব্য সেই বিতর্ককেই আরও সামনে নিয়ে এসেছে—ভারতীয় সংস্কৃতির পাঠ কীভাবে স্কুলশিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তার সীমারেখা কোথায় নির্ধারিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে পাঠ্যক্রম কীভাবে তৈরি হয় তার ওপর। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও দর্শনকে তুলনামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হলে তা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে পারে। তবে কোনও একক ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দেওয়া হলে তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ফলে বিষয়টি শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles