জাতীয় নিরাপত্তা জনস্বার্থের ঊর্ধ্বে’: বিমানবন্দরের মসজিদে নমাজের আবেদনে আপত্তি

যা জানা জরুরি
- কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে বাঁকড়া মসজিদে ফের নমাজ পড়ার অনুমতি চেয়ে দায়ের হওয়া আবেদনের বিরোধিতা করল এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা এএআই এবং কেন্দ্রীয় শিল্প…
- বুধবার, ৭ অক্টোবর কলকাতা হাই কোর্টে তাদের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জনস্বার্থের দাবির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- চলতি বছরের জুলাই থেকে ওই মসজিদে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে বাঁকড়া মসজিদে ফের নমাজ পড়ার অনুমতি চেয়ে দায়ের হওয়া আবেদনের বিরোধিতা করল এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা এএআই এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী সিআইএসএফ। বুধবার, ৭ অক্টোবর কলকাতা হাই কোর্টে তাদের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জনস্বার্থের দাবির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের জুলাই থেকে ওই মসজিদে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।
বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে মসজিদ কমিটি অন্তর্বর্তী সুরাহা চেয়েছে। তাদের আবেদন, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তত শুক্রবারের নমাজের অনুমতি দেওয়া হোক। এএআইয়ের পাল্টা দাবি, মসজিদটি যে জমিতে রয়েছে, তা বহু আগেই কেন্দ্রীয় সরকার অধিগ্রহণ করেছে। ফলে ওই সম্পত্তির উপরে কমিটির আইনগত অধিকার নেই। এএআই জানায়, মে মাসে মসজিদ কমিটি-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি বৈঠক করা হয়েছিল।
এএআইয়ের আইনজীবী এস এন মুখোপাধ্যায় আদালতে ১৯৬১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির অধিগ্রহণ বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য জমি নেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তাঁর যুক্তি, ধর্মাচরণের অধিকার থাকলেও কোনও নির্দিষ্ট স্থানেই সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হবে, এমন দাবি করা যায় না।
কর্তৃপক্ষের তরফে আরও বলা হয়, প্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত আচমকা নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য শোনার পর বিমান চলাচল ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের পরিসর বাড়ানোর জন্য জমিটি প্রয়োজন বলেও দাবি করা হয়। ধর্মীয় স্থানের উপস্থিতি অধিগৃহীত জমির ব্যবহার আটকে রাখতে পারে না, এমন সওয়ালও ওঠে।
আবেদনকারীদের আইনজীবী কিশোর দত্ত অবশ্য এই অবস্থানের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, মসজিদের জমি আইনত অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আগে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষই বাসে করে প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট জনকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করত। সেই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্য দিকে, সিআইএসএফের তরফে ২০২৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেওয়া গোপন রিপোর্টের উল্লেখ করা হয়। তাদের দাবি, বিমানবন্দরের অবস্থানগত কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। যশোর রোডের দিকে বিকল্প জমি দেওয়া হলেও মসজিদ সরানোর প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ রাজি হয়নি বলেও আদালতে দাবি করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার আগে প্রতিদিন প্রায় সত্তর জন বিভিন্ন সময়ে মসজিদে নমাজ পড়তে যেতেন। সিআইএসএফের কাছে আধার কার্ড দেখিয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু শুধু আধারভিত্তিক এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ব্যুরো অব সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি। এরপর ১১ জুলাই থেকে সাধারণের প্রবেশ বন্ধ হয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আগের ব্যবস্থা পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র ছিল না।
মসজিদ কমিটির পাল্টা বক্তব্য, প্রায় ১৩৬ বছর ধরে এখানে প্রার্থনা হয়ে আসছে। নমাজ পড়তে আসা কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। আগের শুনানিতে তাদের আইনজীবী জানান, বিমানবন্দর চালু হওয়ারও আগে মসজিদটি ছিল। বিমানবন্দর তৈরির জন্য বাঁকড়া গ্রাম অধিগ্রহণ করা হলেও মসজিদটিকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। তাই নিরাপত্তা পরীক্ষা বজায় রেখেই প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হচ্ছে।
রাজ্য সরকারও আবেদনের বিরোধিতা করেছে। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে আবেদন খারিজের আর্জি জানান। অধিগৃহীত জমিতে আবেদনকারীদের আইনগত অধিকার নেই বলে রাজ্যের বক্তব্য। ফলে এই মামলায় কেন্দ্র, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের অবস্থান একই দিকে। বিপরীতে কমিটি দীর্ঘদিনের ধর্মাচরণ এবং নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছে।
বুধবারের শুনানিতে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার জন্য সময় চান আবেদনকারীদের আইনজীবী। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও পরবর্তী শুনানি ৯ অক্টোবর ধার্য করেন। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে প্রবেশ বন্ধ রাখা এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় নমাজের অনুমতি দেওয়ার দাবি, দুই অবস্থানই এখন আদালতের বিচারাধীন। কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সওয়ালকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে দেখার সুযোগ নেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



