‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব নয়’, রেজিনগরের ভোটের পর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুনের

যা জানা জরুরি
- রেজিনগর উপনির্বাচনের পরদিনই রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
- বুধবার তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে হতাশা।
- রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এভাবে লড়াই চালানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রেজিনগর উপনির্বাচনের পরদিনই রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বুধবার তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে হতাশা। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এভাবে লড়াই চালানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। দুর্গাপুজোর পরে মানুষের কাছে নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে বিধায়ক পদ এবং সক্রিয় রাজনীতি ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি তিনি।
মঙ্গলবার রেজিনগরে ভোট চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন হুমায়ুন। তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় ছাড়া পান তিনি। তাঁর অভিযোগ, একাধিক বুথে পুলিশ ভোটদানে হস্তক্ষেপ করেছে এবং সাধারণ ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। আগের দু’মাসেও তাঁর সমর্থকদের উপর প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এই অভিজ্ঞতার পর বিধায়ক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন হুমায়ুন।
রেজিনগরের এই নির্বাচন হুমায়ুনের কাছে ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দলের প্রার্থী ছেলে গোলাম নবি আজাদ। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্রেই জিতেছিলেন। পরে নওদা রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচন হয়। কয়েক মাস আগে প্রায় ৫৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জেতা আসনটি ধরে রাখার দায়িত্ব এবার ছেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি।
এখানে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। অন্য তৃণমূল শিবির, কংগ্রেস ও সিপিএমও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ফলে একাধিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজের দলের শক্তি ধরে রাখার পরীক্ষা ছিল হুমায়ুনের সামনে। ৯ অক্টোবর গণনার আগেই তাঁর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা সেই লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শুধু হুমায়ুন নন, রেজিনগরের ভোট নিয়ে অভিযোগ করেছে অন্য বিরোধী দলও। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের দাবি, একশোর বেশি বুথ থেকে তাঁদের এজেন্টদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি নির্বাচন বাতিলের দাবিতে রেজিনগর থানার সামনে অবস্থানে বসেন। রবিউলও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের ৩১৫ জন এজেন্টের মধ্যে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন শেষ পর্যন্ত বুথে থাকতে পেরেছিলেন।
বিজেপি অবশ্য বুথ দখল ও অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের পাল্টা বক্তব্য, বিরোধীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে চাইছে। নির্বাচন কমিশন ভোটকে মোটের উপর শান্তিপূর্ণ বলেছে। রেজিনগরে ভোট পড়েছে ৮০.০৮ শতাংশ। হুমায়ুনকে আটকের পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশনের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ফলে বিরোধীদের অভিযোগ এবং প্রশাসনের মূল্যায়নের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক রয়েছে।
হুমায়ুন জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি বিধানসভায় যাবেন না। পুজোর পরে সভা করে মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেছেন। তাঁর যুক্তি, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রতিবাদই করতে না পারলে রাজনৈতিক পদ আঁকড়ে থাকার অর্থ নেই। অন্যদিকে, তৃণমূলের মমতা শিবিরের নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, হুমায়ুনকে ঠিক করতে হবে তিনি বিজেপির সুবিধা করে দেবেন, না সত্যিই বিজেপির বিরোধিতা করবেন।
এখন দুটি বিষয় আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। প্রথমটি, রেজিনগরের ভোটে ওঠা অভিযোগগুলির পরীক্ষা এবং তার ভিত্তিতে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয়টি, হুমায়ুনের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। গণনার ফল তাঁর দলের নির্বাচনী অবস্থান স্পষ্ট করবে। কিন্তু তিনি সত্যিই বিধায়ক পদ ছাড়বেন কি না, তা বোঝা যাবে পরবর্তী পদক্ষেপে। আপাতত তাঁর ঘোষণা একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত; সম্পন্ন পদত্যাগ নয়। তাঁর সরে যাওয়ার বক্তব্যে ভোটের অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তিও হচ্ছে না। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



