International

গ্রেনেডে লাগাম, ক্ষোভে নয়

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • স্কুলপড়ুয়াদের বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশের স্টান গ্রেনেড ব্যবহার আপাতত স্থগিত করল ফ্রান্স।
  • উত্তর ফ্রান্সের লেন্স শহরে ১৫ বছরের এক কিশোরের গুরুতর জখমের ঘটনার পর বুধবার, ৭ অক্টোবর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ।
  • সোমবারের ঘটনায় পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেড থেকেই কিশোরটির হাত উড়ে যেতে পারে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কিশোরের হাত হারানোর ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ। স্কুলপড়ুয়াদের বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশের স্টান গ্রেনেড ব্যবহার আপাতত স্থগিত করল ফ্রান্স। উত্তর ফ্রান্সের লেন্স শহরে ১৫ বছরের এক কিশোরের গুরুতর জখমের ঘটনার পর বুধবার, ৭ অক্টোবর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ। সোমবারের ঘটনায় পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেড থেকেই কিশোরটির হাত উড়ে যেতে পারে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। ঘটনাটি চলতি ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে।

আরটিএল রেডিয়োকে নুনেজ জানিয়েছেন, লেন্সের ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্কুলপড়ুয়াদের বিক্ষোভে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না। তবে সব ধরনের বিক্ষোভে স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। তদন্তের ফলাফলের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে স্কুল অবরোধ ও মিছিল চলছে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, বহু সরকারি স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য পরিকাঠামোর অবস্থা খারাপ এবং শিক্ষার সুযোগেও রয়েছে তীব্র বৈষম্য। সচ্ছল এলাকার স্কুলের সঙ্গে পিছিয়ে থাকা এলাকার স্কুলগুলির সুযোগ-সুবিধার ফারাকও ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।

শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শুরু হলেও সেই প্রতিবাদ দ্রুত বৃহত্তর অসন্তোষে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে জুড়েছে সরকারি ব্যয়সঙ্কোচ এবং জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ার চাপ। সরকারের আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কী ভাবে হবে, সেই প্রশ্নও উঠছে।

এদিকে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। নুনেজ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ১৮টি ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম প্যারিসে খুব কাছ থেকে ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেডে ১৪ বছরের এক কিশোরের মুখে আঘাত লাগে এবং কয়েকটি দাঁত ভেঙে যায়। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার এক পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগও আনা হয়েছে।

আন্দোলন শুরুর পর থেকে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। পড়ুয়া, শিক্ষক এবং পুলিশ—সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা কয়েকশো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসাবে, মঙ্গলবার দেশজুড়ে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন। ওই দিনই অন্তত ৪৮৮ জন গ্রেফতার হন এবং নিরাপত্তাবাহিনীর ৪৩ জন সদস্য আহত হন। গ্রেফতার হওয়া কিশোরদের আইনজীবীরাও পুলিশি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

তবে বিক্ষোভের অন্য ছবিটিও তুলে ধরছে সরকার। স্কুলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে। সংসদে তাঁর দাবি, ২৪টি হাইস্কুল এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হবে। ফলে প্রায় ৩০ হাজার পড়ুয়া সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুযোগ হারাবে। মেরামত করতে খরচ হতে পারে ২ থেকে ৩ কোটি ইউরো।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু পড়ুয়াদের একাধিক দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করলেও আন্দোলনের মধ্যে হিংসার মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ প্রধানমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকও করেছেন। বৃহস্পতিবার ফের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে একাধিক শিক্ষা সংগঠন।

অর্থাৎ, গ্রেনেডের ব্যবহার সাময়িক ভাবে বন্ধ হলেও আন্দোলন থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং সরকারের সামনে এখন জোড়া চাপ—একদিকে স্কুলের শিক্ষক, পরিকাঠামো ও বৈষম্য নিয়ে পড়ুয়াদের অভিযোগের বাস্তব সমাধান খুঁজতে হবে, অন্যদিকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়েছে কি না, তার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে হবে।

লেন্সের ১৫ বছরের কিশোরটির ঘটনায় তাই শুধু একটি অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে না। প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষার অধিকার নিয়ে রাস্তায় নামা কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার। তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হয় এবং দায় কার উপর বর্তায়, তার উপরই এখন সরকারের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আস্থার অনেকটাই নির্ভর করছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles