দেশ

সিইসির পদত্যাগ চেয়ে দ্বিতীয় দিনেও বিক্ষোভ, ফের আটক রাহুল–প্রিয়ঙ্কা; খাড়্গের মধ্যাহ্নভোজে নেই সপা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিন রাজধানীর রাস্তায় নামল বিরোধী শিবির।
  • বুধবার, ৭ অক্টোবর, যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার পথে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।
  • এরপর রাস্তায় অবস্থান, ধস্তাধস্তি এবং ফের আটক হওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিন রাজধানীর রাস্তায় নামল বিরোধী শিবির। বুধবার, ৭ অক্টোবর, যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার পথে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। এরপর রাস্তায় অবস্থান, ধস্তাধস্তি এবং ফের আটক হওয়ার ঘটনা ঘটে। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ একাধিক নেতাকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। রাহুলকে বারাখাম্বা রোড থানায় নিয়ে যাওয়ার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছিল জনপথের সাগর রত্ন রেস্তরাঁয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সেখানে বিরোধী নেতাদের মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। খাওয়াদাওয়ার পরে সাংসদেরা বাসে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু উইন্ডসর প্লেসের কাছে তাঁদের পথ বন্ধ করে পুলিশ। বাস থেকে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন নেতারা। সংবিধানের প্রতিলিপি হাতে রাস্তায় শুয়ে পড়েন প্রিয়ঙ্কা। পরে মহিলা পুলিশকর্মীরা তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

বুধবারের কর্মসূচিতে ডেরেক ছাড়াও সিপিএমের জন ব্রিটাস ও সিপিআইয়ের পি সন্তোষ কুমার ছিলেন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনও বিক্ষোভে যোগ দেন। নেতাদের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের কর্মীরাও।

আটক হওয়ার মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান রাহুল। তাঁর বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিবাদ থামবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁদের থামাতে পারবেন না বলেও দাবি করেন তিনি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এ অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন তীব্র হয়েছে।

বিক্ষোভে পুলিশি আচরণের বিরুদ্ধে সরব হন অন্য বিরোধী নেতারাও। প্রিয়ঙ্কার অভিযোগ, সাংসদদের মারধর করা হয়েছে এবং তাঁকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যন্তর মন্তরে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন। আরজেডির মনোজ ঝা লাঠিচার্জের অভিযোগ করেন। এগুলি বিক্ষোভকারী নেতাদের অভিযোগ। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

খাড়্গেও জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তাঁর অভিযোগ, ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে এবং কমিশনের পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে মোদী সরকার। মামলা করে বিরোধীদের ভয় দেখানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, বিরোধী দলগুলি একসঙ্গে রয়েছে; ব্যক্তিগত অহংবোধ সরিয়ে রেখেই তারা লড়াই করবে। তবে প্রকাশ্যে ঐক্যের এই বার্তার পাশাপাশি জোটের ভিতরে সমন্বয়ের প্রশ্নটিও সামনে এসেছে।

কারণ, খাড়্গের মধ্যাহ্নভোজে সমাজবাদী পার্টির কোনও প্রতিনিধি ছিলেন না। মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অখিলেশ যাদব অংশ নিয়েছিলেন। ফলে পরদিন তাঁর দলের অনুপস্থিতি বিশেষ নজর কাড়ে। সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপা সূত্রের বক্তব্য, মঙ্গলবার আকাশবাণী ভবনে রাহুলের আকস্মিক অবস্থানের পরিকল্পনা আগে জানানো হয়নি বলে অখিলেশ অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবে সেই অসন্তোষের কারণেই দল মধ্যাহ্নভোজে যায়নি কি না, ওই সূত্রগুলি তা স্পষ্ট করেনি।

কংগ্রেস অবশ্য বিষয়টিকে জোটের ভাঙন হিসেবে দেখতে নারাজ। দলের ব্যাখ্যা, মঙ্গলবার গভীর রাতে মধ্যাহ্নভোজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তারপর শরিকদের খবর দেওয়া হয়। কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত কাজ থাকায় শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী এবং এনসিপির শরদ পওয়ার গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও আসতে পারেননি। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, সব শরিককেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ফলে আমন্ত্রণ না পাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে কংগ্রেসের বক্তব্যের স্পষ্ট ফারাক রয়েছে।

সপার এক সাংসদ জানান, মঙ্গলবারের প্রতিবাদ শেষে তাঁদের সাংসদেরা নিজ নিজ নির্বাচনী কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হন। তখনও মধ্যাহ্নভোজের খবর তাঁদের কাছে পৌঁছয়নি। দলের অন্য নেতাদের অভিযোগ, যৌথ আন্দোলনে সব শরিকের ভূমিকা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি; আকাশবাণী ভবনের অবস্থানকে গান্ধী পরিবারের কর্মসূচি হিসেবেই বেশি তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশে এসআইআর নিয়ে অখিলেশের আন্দোলনও সমানভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি রাখে।

এই মতান্তরের পিছনে উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটও রয়েছে। আগামী বছরের গোড়ায় ওই রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি সেখানে শরিক হলেও আসন বণ্টন নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। ফলে দিল্লির যৌথ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক গুরুত্বের প্রশ্নটি দুই দলের সম্পর্কের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে একটি মধ্যাহ্নভোজে অনুপস্থিতির ঘটনাকে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার মতো কোনও ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি।

মঙ্গলবারের ঘটনাই বুধবারের কর্মসূচির পটভূমি তৈরি করেছিল। সেদিন সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে এগোন বিরোধী সাংসদেরা। সংসদ মার্গের কাছে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল থামায় পুলিশ। এরপর অবস্থানে বসেন বিরোধীরা। অখিলেশ, রাহুল, প্রিয়ঙ্কা এবং তৃণমূলের নেতারা ওই প্রতিবাদে অংশ নেন। পরে আকাশবাণী ভবন চত্বরে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার দীর্ঘ অবস্থান চলে। প্রায় আট ঘণ্টা পরে তাঁদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে বুধবারের মধ্যাহ্নভোজ শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না। আগের দিনের পুলিশি বাধা ও আটকের পরে বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার সুযোগও তৈরি হয়েছিল সেখানে।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী সাংসদদের বুধবার দিল্লিতে থাকতে বলা হয়েছিল। সেই কারণে সপার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়ে। ঘটনাগুলি থেকে বোঝা যাচ্ছে, আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি শরিকদের সঙ্গে সময়মতো যোগাযোগ নিশ্চিত করাও জোটের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজ।

এদিকে বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, রাজ্য, জেলা এবং ব্লক স্তরে আরও প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। খবর অনুযায়ী, বুধবার পরে বিরোধী নেতারা সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে প্রতিনিধি পাঠাতে রাজি হয়েছে সপা। সেই অংশগ্রহণ বাস্তবে কতটা হয়, তার দিকেই এখন নজর। রাজধানীর রাস্তায় চাপ বজায় রাখা এবং শরিকদের আস্থা অটুট রাখা—দু’টি কাজই একসঙ্গে করতে হচ্ছে বিরোধী নেতৃত্বকে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles