বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভ এবং হইচইয়ের মধ্যেই লোকসভায় কণ্ঠভোটে পাস হয়ে গেল জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। বিরোধী সাংসদদের প্রতিবাদের কারণে বিলটি নিয়ে কোনও আলোচনা বা সরকারের জবাব ছাড়াই তা অনুমোদিত হয়।
এই সংশোধনী বিলের মূল লক্ষ্য হল জন্ম ও মৃত্যুর দেরিতে নথিভুক্তিকরণের নিয়ম আরও কঠোর করা। সরকারের বক্তব্য, প্রত্যেক নাগরিকের আইনি পরিচয়ের ভিত্তি হল জন্ম শংসাপত্র। তাই বহু বছর পরে যথাযথ কারণ ছাড়া জন্ম বা মৃত্যুর নথিভুক্তিকরণ বন্ধ করতে এবং জাল নথি তৈরির প্রবণতা রুখতেই এই আইন আনা হয়েছে।
বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে, কোনও জন্ম বা মৃত্যু ঘটনার দুই বছরেরও বেশি সময় পরে তা নথিভুক্ত করতে হলে আর শুধু প্রশাসনিক অনুমতি যথেষ্ট হবে না। এর জন্য প্রথম শ্রেণির বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। সরকারের দাবি, এতে ভুয়ো নথি তৈরি, পরিচয় জালিয়াতি এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনা কমবে।
লোকসভায় বিলটি পাস হলেও সংসদের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলি স্লোগান দিতে থাকে এবং অধিবেশন বারবার বিঘ্নিত হয়। সেই পরিস্থিতিতেই আলোচনা ছাড়াই বিলটি কণ্ঠভোটে পাস করানো হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনের ক্ষেত্রে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।
সরকার অবশ্য জানিয়েছে, এই সংশোধনের উদ্দেশ্য নাগরিকদের হয়রানি করা নয়, বরং সময়মতো জন্ম ও মৃত্যুর নথিভুক্তিকরণ নিশ্চিত করা। সরকারি তথ্যভান্ডারের নির্ভুলতা বজায় রাখা, পরিচয় সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধ এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবায় নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহের জন্য এই পরিবর্তন প্রয়োজন বলেই সরকারের দাবি।
লোকসভায় পাস হওয়ার পর বিলটি এখন রাজ্যসভার অনুমোদনের জন্য যাবে। সেখানেও বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।