Home খবর লাদাখ যাওয়ার পথে নিখোঁজ হায়দরাবাদের বাইকার, দু’সপ্তাহ পরও চলছে তল্লাশি

লাদাখ যাওয়ার পথে নিখোঁজ হায়দরাবাদের বাইকার, দু’সপ্তাহ পরও চলছে তল্লাশি

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
18 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হিমালয়ের অন্যতম দুর্গম পাহাড়ি সড়ক ধরে ১৯ জুলাই বিকেলে লাদাখের পদুম থেকে লেহর উদ্দেশে মোটরবাইকে রওনা হয়েছিলেন হায়দরাবাদের বাসিন্দা অনিল মালরা। হিমাচল প্রদেশের লাহুল-স্পিতির দুর্গম, উচ্চ পার্বত্য পথ পেরিয়ে এগোচ্ছিলেন তিনি।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।

পরে পাহাড়ের ঢালে তাঁর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া মোটরবাইক, হেলমেট এবং রাইডিং গিয়ার উদ্ধার হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুন মাসে হিমাচল প্রদেশে পৌঁছেছিলেন অনিল মালরা। ১৬ জুলাই কুলুর ভুন্তার থেকে ভাড়া করা মোটরবাইক নিয়ে তিনি এই অভিযাত্রা শুরু করেন।

লাহুল-স্পিতি পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থার দাবি, দারচা-শিঙ্কু লা সড়কের সুমদো মোড়-৩ এলাকার কাছে দুর্ঘটনার জেরে তাঁর মোটরবাইকটি গভীর খাদে পড়ে যায়। ওই পাহাড়ি ঝরনাটি পরে ভাগা নদীতে মিশেছে, যা টান্ডিতে চন্দ্রা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে চেনাব নদীর সৃষ্টি করেছে।

উদ্ধার অভিযানে যুক্ত এক আধিকারিক বলেন, “তল্লাশি এখনও চলছে। এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মোটরবাইক, হেলমেট এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের কিছু অংশ উদ্ধার হয়েছে। অনিল মালরার পরিবারের সদস্যরা সেগুলি শনাক্ত করেছেন। তবে তিনি এখনও নিখোঁজ।”

ফোনের ওপারে শুধু নীরবতা

অনিল মালরার স্ত্রী সুমিতা শর্মার কাছে গত দু’সপ্তাহ যেন এক দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন।

তিনি জানান, ১৯ জুলাই বিকেলেই স্বামীর সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল আরোহী অনিল সম্প্রতি বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের দীর্ঘ দূরত্বের বাইক অভিযানে মন দেন।

সুমিতা বলেন, “ভুন্তার থেকে তিনি মোটরবাইক ও রাইডিং গিয়ার ভাড়া নিয়েছিলেন। ১৯ জুলাই লেহর দিকে যাচ্ছিলেন। ফোনে বলেছিলেন, পদুম ছেড়ে দারচা-শিঙ্কু লা সড়ক ধরে লাহুল উপত্যকা পার হচ্ছেন।”

কয়েক ঘণ্টা পরে, বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ তিনি আবার ফোন করেন। কিন্তু অনিলের মোবাইল তখন বন্ধ।

সুমিতা বলেন, “সন্ধ্যা পর্যন্ত বারবার ফোন করেছি। পরদিন সকালেও একের পর এক চেষ্টা করেছি। আশা করেছিলাম, এবার হয়তো ফোন ধরবে। কিন্তু ওপারে শুধু নীরবতা ছিল।”

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উদ্বেগ আতঙ্কে পরিণত হয়।

পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার

পরদিনই সুমিতা কেলং ও পদুম থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, “পুলিশ আমাকে জানায়, দারচার কাছে আমার স্বামীর দুর্ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও সেই দুর্ঘটনা দেখেছেন।”

তাঁর কথায়, ১৬ জুলাই ভুন্তার থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন অনিল। এর আগে একাধিকবার একাই হিমাচলের বিভিন্ন দুর্গম পথে মোটরবাইক অভিযান সম্পূর্ণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এবারের সফর আর শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি।

এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। এদিকে স্বামীর খোঁজে সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন সুমিতা শর্মা। অনিল মালরার অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনও তথ্য থাকলে তা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles