Home খবর তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন: সন্দীপন সাহার বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে উঠে এল অজানা সত্য

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন: সন্দীপন সাহার বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে উঠে এল অজানা সত্য

by বাংলাস্ফিয়ার
0 comments 5 views 3 minutes read
A+A-
Reset

নিজস্ব প্রতিবেদন, Banglasphere: পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের অন্দরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন কোনো খবর নয়। কিন্তু যখন দলের ভেতর থেকেই ওঠে বিদ্রোহের সুর, এবং সেই বিদ্রোহের নেতৃত্বে থাকেন দলেরই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ বিধায়করা, তখন তা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা তাঁর এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে দলের ভেতরকার অব্যবস্থা, গণতন্ত্রের অভাব এবং নেতৃত্বের আচরণের বিরুদ্ধে যে তোপ দেগেছেন, তা তৃণমূলের ইকোসিস্টেমকে কার্যত কাঁপিয়ে দিয়েছে।

বিদ্রোহের ট্রাভেল পয়েন্ট: কেন এই দূরত্ব?
সন্দীপন সাহার দাবি অনুযায়ী, এই বিদ্রোহের সূচনা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং এটি বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিধানসভায় রেজোলিউশন জালিয়াতি এবং বিধায়কদের স্বাক্ষর ছাড়াই তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনা ছিল বড় ‘ট্রাভেল পয়েন্ট’। একজন বিধায়ক হিসেবে বিধানসভার আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি এই অবমাননা তাঁকে এবং আরও অনেককে প্রতিবাদ করতে বাধ্য করে। তৃণমূলের মতো একটি দল, যারা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে, তারা কীভাবে এমন অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটতে পারে—এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘অভিষেক কালচার’ বনাম দলের সংস্কৃতি
সন্দীপন সাহার কথায় সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশটি ছিল দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের সংস্কৃতি নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, দলের পরাজয়ের পরেও নেতাদের বাধ্য করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় দাঁড়িয়ে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিতে। সিনিয়র নেতারা, যাঁরা বহু বছর ধরে রাজনীতির ময়দানে রয়েছেন, তাঁদের এই বাধ্যবাধকতা অপমানজনক মনে হয়েছে। সন্দীপন সাহার কথায়, “দলের অন্দরে যদি গণতন্ত্র না থাকে, তবে সেই দল বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না।” এটি তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর দিকে আঙুল তোলে, যেখানে আলোচনার বদলে শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

মানবিক অপমান ও অবহেলার ইতিহাস
সাক্ষাৎকারে বিধায়কের আক্ষেপ, সিনিয়র মন্ত্রী ও বিধায়কদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেতৃত্বের বাড়ির নিচে বসে থাকার পরেও সাক্ষাৎ না পাওয়াটা ছিল চূড়ান্ত অপমানের। এই ক্ষোভের কথা সাধারণ মানুষ এতদিন জানত না। সন্দীপন সাহার ভাষায়, তাঁরা কোনো বিশাল নেতা নন, বরং এই ক্ষোভের ‘ট্রিগার পয়েন্ট’ মাত্র। দলের হাজার হাজার কর্মীর মনে জমে থাকা সেই অবহেলা ও অপমানেরই প্রকাশ ঘটেছে বিধায়কদের এই বিদ্রোহের মাধ্যমে।

নতুন বিরোধী দল ও রণকৌশল
সন্দীপন সাহা জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং গঠনমূলক রাজনীতি করা। ১৮ই জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিধানসভা অধিবেশনে তাঁদের গ্রুপটি একটি ‘প্রিন্সিপাল অপোজিশন’ বা মূল বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করতে চায়। ওয়াকআউট কালচারের বদলে তাঁরা হাউসের ভেতর আলোচনায় অংশ নিতে চান এবং সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে চান। এটি বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে।

পরবর্তী ভবিষ্যৎ: তৃণমূল কি ভাঙনের মুখে?
সন্দীপন সাহা দাবি করেছেন, ৫০টির বেশি স্বাক্ষর তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এবং এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। যদিও এর সত্যতা এবং প্রভাব সময় বলবে, কিন্তু শাসকদলের অন্দরে যে চরম অস্থিরতা চলছে, তা আর গোপন নেই। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা জল্পনা বা সাম্প্রতিক প্রশাসনিক মিটিং—সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসন্ন।

শেষ কথা
সন্দীপন সাহার এই সাক্ষাৎকারটি কেবল একজন বহিষ্কৃত বিধায়কের ক্ষোভ নয়, বরং এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এক নতুন মোড়। তৃণমূলের অন্দরের এই বিদ্রোহ যদি সত্যিই দানা বাঁধে, তবে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। দলের অন্দরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হলে, এই ধরনের বিদ্রোহ থামানো শাসকদলের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।

সন্দীপন সাহার এই বিস্ফোরক দাবিগুলি নিয়ে আপনাদের কী মতামত? তৃণমূলের এই ভাঙন কি রাজ্য রাজনীতির নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করবে? আমাদের কমেন্ট বক্সে আপনাদের মতামত জানান।

রাজনীতির এই ধরনের বিশ্লেষণমূলক খবর সবার আগে পেতে Banglasphere-এর সাথে যুক্ত থাকুন।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles