দেশ

গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাঁটাইয়ে আপত্তি পাঁচ রাজ্যের, জিএসটিতে ‘দাঁতহীন’ ব্যবস্থার আশঙ্কা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • জিএসটি আইনে কর আধিকারিকদের গ্রেফতারের ক্ষমতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে কেন্দ্রের সঙ্গে মতভেদ তৈরি হয়েছে একাধিক বড় রাজ্যের।
  • রাজনৈতিক বিভাজন ছাড়িয়ে আপত্তি জানিয়েছে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশ।
  • বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর দিল্লিতে জিএসটি পরিষদের ৫৭তম বৈঠকের আগে এই মতপার্থক্য সামনে এসেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

জিএসটি আইনে কর আধিকারিকদের গ্রেফতারের ক্ষমতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে কেন্দ্রের সঙ্গে মতভেদ তৈরি হয়েছে একাধিক বড় রাজ্যের। রাজনৈতিক বিভাজন ছাড়িয়ে আপত্তি জানিয়েছে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশ। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর দিল্লিতে জিএসটি পরিষদের ৫৭তম বৈঠকের আগে এই মতপার্থক্য সামনে এসেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যগুলির আশঙ্কা, গ্রেফতারের ক্ষমতা নির্বিচারে ছেঁটে ফেললে কর ফাঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা কার্যত ‘দাঁতহীন’ হয়ে পড়বে। সাধারণ ঘটনায় গ্রেফতার না করার বিধান থাকলেও গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘সিভিল অ্যারেস্ট’ বা দেওয়ানি গ্রেফতারের সুযোগ রাখতে চায় তারা। ফৌজদারি মামলা শুরুর আগের পর্যায়েও এই ব্যবস্থা রাখার দাবি উঠেছে।

কেন্দ্রের আলোচ্য প্রস্তাবে সেই পর্যায়ের গ্রেফতার সরিয়ে কর আদায়, সুদ ও জরিমানার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে ফৌজদারি বিচারের সুযোগ থাকবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলা চালুর আর্থিক সীমা এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকায় তোলার প্রস্তাবও রয়েছে।

বৈঠক বুধবার হওয়ার কথা থাকলেও এক দিন পিছিয়েছে। এই অতিরিক্ত সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলের জিএসটি মুখ্য কমিশনারদের সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকেরা। লক্ষ্য, বিশেষত গ্রেফতার তুলে দেওয়া নিয়ে অবশিষ্ট আপত্তিগুলির সমাধান। তবে ‘সিভিল অ্যারেস্ট’-এর চূড়ান্ত কাঠামো বা প্রস্তাব অনুমোদনের সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষিত হয়নি।

এই সংস্কারের পিছনে রয়েছে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর ভাবনা। কর তদন্তে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রতিবেদনে শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াই এড়াতে অনেক প্রতিষ্ঠান চাপের মুখে অর্থ দিতে বাধ্য হয়। বিশেষত পরিষেবা ক্ষেত্রে এমন উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।

তবে গ্রেফতারের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। জিএসটি চালুর আগেই, ২০১৬ সালের পরিষদ বৈঠকে মহারাষ্ট্রের এক শীর্ষ আধিকারিক প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই ক্ষমতা ব্যবসা সহজ করার লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না। পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীও কর কর্তৃপক্ষকে এমন ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে সংশয় জানিয়েছিলেন। ফলে বর্তমান বিতর্কের সঙ্গে জিএসটির গোড়ার আলোচনারও যোগ রয়েছে।

ব্যবহারের পরিসংখ্যানও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় জিএসটি সংস্থাগুলির নথিভুক্ত ৭২,৩৯৩টি অপরাধের ঘটনায় ৮৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাজ্যের কর কর্তৃপক্ষের গ্রেফতার এই হিসাবের বাইরে। অর্থাৎ, ওই তথ্য শুধু কেন্দ্রীয় সংস্থার পদক্ষেপের ছবি দেয়।

বর্তমান কেন্দ্রীয় জিএসটি আইনের ৬৯ ধারায় নির্দিষ্ট অপরাধে কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে গ্রেফতারের ব্যবস্থা রয়েছে। ভুয়ো চালান কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট নেওয়ার মতো অভিযোগ এর আওতায় আসতে পারে। তবে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে এই ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি নেই।

অন্যদিকে, গ্রেফতারের ক্ষমতা থাকলেও তা ব্যবহারে সংযমের নির্দেশ আগেই দিয়েছে কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক পর্ষদ। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ২০২২-২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতার রুটিনমাফিক বা যান্ত্রিকভাবে করা যাবে না। কেন গ্রেফতার প্রয়োজন, তার স্পষ্ট কারণ লিখিতভাবে রাখতে হবে। নিছক কারিগরি ধরনের বিরোধে গ্রেফতারের পথে না যাওয়ার কথাও রয়েছে।

পর্ষদের নির্দেশিকায় ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আইনের শর্ত পূরণ হলেই গ্রেফতার অবধারিত নয়; তদন্তের প্রয়োজনে তার যৌক্তিকতা যাচাই করতে হবে। অভিযুক্ত প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন কি না, সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা আছে কি না, কিংবা প্রতারণাচক্রের মূল পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে কি না—এ ধরনের প্রশ্ন বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদকেও ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

এই পটভূমিতে পরিষদের সামনে মূল প্রশ্ন, করদাতার সুরক্ষা এবং রাজস্ব রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে থাকবে। হয়রানি ঠেকাতে গ্রেফতার বাদ দেওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে গুরুতর প্রতারণা মোকাবিলার কার্যকর ব্যবস্থা মিলিয়ে নেওয়াই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সিদ্ধান্তের তাৎপর্য তাই ব্যবসার পরিবেশ এবং কর প্রশাসন, উভয় ক্ষেত্রেই

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles