কেন্দ্রের সাড়া মেলেনি, বৃহত্তর সমাবেশের হুঁশিয়ারি এসআরএফটিআই পড়ুয়াদের

যা জানা জরুরি
- নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পেলে ক্লাসে ফিরবেন না।
- প্রয়োজনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর সমাবেশ করবেন।
- মঙ্গলবার এই অবস্থান জানালেন কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পেলে ক্লাসে ফিরবেন না। প্রয়োজনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর সমাবেশ করবেন। মঙ্গলবার এই অবস্থান জানালেন কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের ক্লাস, কর্মশালা ও শুটিং বর্জন দশম দিনে পৌঁছেছে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে জরুরি আবেদন জানিয়েও মন্ত্রকের উত্তর মেলেনি।
গত ৩ অক্টোবর এসআরএফটিআই, পুণের এফটিআইআই এবং ইটানগরের চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র প্রতিনিধিরা যৌথভাবে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান ফটক-সহ ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী, ক্যাম্পাসের কাছে মিছিলের অনুমতি বন্ধ করতে রাজ্য সরকার ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় এবং বহিরাগত জমায়েত ঠেকানোর ব্যবস্থা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশও চেয়েছেন তাঁরা।
ছাত্র প্রতিনিধি অনামিকা পাল জানিয়েছেন, রবিবারের পাথর ছোড়ার ঘটনায় তিনি আহত হন এবং তাঁর তিনটি সেলাই পড়ে। আরেক পড়ুয়ার মাথায় আঘাত লাগে। তাঁর অভিযোগ, একজন বহিরাগত ক্যাম্পাসেও ঢুকে পড়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে আরও অনেকে ঢুকে পড়লে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আশ্বাস কার্যকর না হলে বৃহত্তর সংহতি সমাবেশের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন।
অশান্তির সূত্রপাত ২৭ সেপ্টেম্বর। ক্যাম্পাসে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠান ঘিরে সংঘর্ষ হয়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের মারধর করে দেশবিরোধী ও সন্ত্রাসবাদী বলা হয়েছিল। অন্যদিকে সংগঠনটির দাবি, ভারতমাতা, দুর্গা ও বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানার ভাঙচুর করা হয়; তাদের সদস্যেরাও আক্রান্ত হন। ঘটনায় তিনটি মামলা হয়। তদন্তে রাজ্য সরকার ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। ফলে প্রথম সংঘর্ষের অভিযোগগুলির নিষ্পত্তির আগেই নতুন অশান্তি নিরাপত্তার প্রশ্নকে ফের সামনে এনেছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত কমিশনার কুণাল আগরওয়ালকে। প্রতিষ্ঠানের ডিনের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের আটকে রেখে আঘাত করা এবং হুমকি দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এরপর ৪ অক্টোবর হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল প্রতিষ্ঠানের ফটকে পৌঁছলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়। নিউজলন্ড্রিকে ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছেন, বাইরে থেকে পাথর ও জলের বোতল ছোড়া হয় এবং ফটক ভাঙার চেষ্টা চলে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই ছাত্রী আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল এবং জমায়েতকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেয়। তবে ফটকের বাইরে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও ভিতরের পড়ুয়াদের আহত হওয়ার অভিযোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ছাত্র প্রতিনিধি নচিকেতের দাবি, মিছিলের কথা আগেই উপাচার্য, পুলিশ এবং মন্ত্রককে জানানো হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা হামলার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও প্রশাসনিক আধিকারিকের পদত্যাগও দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতে অচলাবস্থা চলছে।
তবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও রয়েছে। ৫ অক্টোবর পিআইবি-প্রকাশিত বিবৃতিতে এসআরএফটিআই জানায়, বহিরাগতদের জমায়েতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের হস্তক্ষেপে জমায়েত ছত্রভঙ্গ হয়। হিংসা, ভয় দেখানো এবং বেআইনিভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টার নিন্দা করেছে প্রতিষ্ঠান।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফটক ও সীমানায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। আহতদের সহায়তা, পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। উপাচার্যের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, ভাষা ও সংস্কৃতির পড়ুয়ারা এই প্রতিষ্ঠানের সৃজনশীল পরিচয়ের অংশ। তাঁদের নির্ভয়ে পড়াশোনা ও চলচ্চিত্রচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের সুরক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করা হবে। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানের তরফে নিরাপত্তার আশ্বাস এসেছে; কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে যৌথ আবেদনের জবাব মেলেনি বলে পড়ুয়াদের অভিযোগ বহাল। আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন নিয়েই এখন অচলাবস্থা কাটার প্রশ্ন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



