বয়স পেরোলেও এসএসসির ডাক পাবেন যোগ্য প্রার্থীরা

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে নির্ধারিত বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়া যোগ্য প্রার্থীদেরও সুযোগ দিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।
- ১৩ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে আদালত বলেছে, প্রশাসনিক বা বিচারিক বিলম্বের জন্য যে প্রার্থীরা বয়সের সীমা অতিক্রম করেছেন, তাঁদের আবেদন শুধু সেই কারণে বাতিল করা যাবে…
- স্কুলে নিয়োগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বহু বছর ধরে মামলা, দুর্নীতির অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিল এবং নতুন নিয়োগবিধির পরিবর্তন চলছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে নির্ধারিত বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়া যোগ্য প্রার্থীদেরও সুযোগ দিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। ১৩ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে আদালত বলেছে, প্রশাসনিক বা বিচারিক বিলম্বের জন্য যে প্রার্থীরা বয়সের সীমা অতিক্রম করেছেন, তাঁদের আবেদন শুধু সেই কারণে বাতিল করা যাবে না।
স্কুলে নিয়োগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বহু বছর ধরে মামলা, দুর্নীতির অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিল এবং নতুন নিয়োগবিধির পরিবর্তন চলছে। কোনও প্রার্থী আবেদন করার সময়ে বয়সে যোগ্য থাকলেও মামলা নিষ্পত্তি বা নতুন বিজ্ঞপ্তি আসতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। তত দিনে বয়সসীমা পেরিয়ে গেলে তিনি এমন একটি কারণে সুযোগ হারান, যার উপর তাঁর কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
আদালতের নির্দেশের মূল নীতি হল প্রশাসনের ভুল বা বিলম্বের বোঝা নাগরিকের উপর চাপানো যায় না। তবে বয়সে ছাড় পাওয়া মানেই চাকরি পাওয়া নয়। প্রার্থীকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরীক্ষা, মেধাক্রম এবং অন্য সব শর্ত পূরণ করতে হবে। আদালত প্রতিযোগিতার দরজা খুলেছে; ফল নির্ধারণ করেনি।
কারা এই সুবিধা পাবেন, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মামলার আবেদনকারীরা, নাকি একই অবস্থায় থাকা সব প্রার্থী—কমিশনকে স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করতে হবে। আবেদনকারীদের পুরনো নিবন্ধন, পরীক্ষার প্রবেশপত্র বা নিয়োগের সময়কার বয়স প্রমাণের নথিও প্রয়োজন হতে পারে।
বয়সসীমার ছাড় কত বছর হবে, তারও যুক্তিসঙ্গত হিসাব দরকার। নিয়োগপ্রক্রিয়া যত বছর বন্ধ ছিল, ঠিক ততটা ছাড় দেওয়া একটি সম্ভাব্য সূত্র। নির্বিচারে অসীম ছাড় দিলে নতুন ও অপেক্ষাকৃত কমবয়সী প্রার্থীরা প্রতিযোগিতায় অসাম্যের অভিযোগ তুলতে পারেন। পুরনো ও নতুন দুই গোষ্ঠীর অধিকার ভারসাম্যে রাখতে হবে।
এই নির্দেশ নিয়োগব্যবস্থার আর একটি মূল্যও প্রকাশ করে। মামলা ও দুর্নীতির কারণে শুধু সরকারি পদ খালি থাকে না; হাজারো শিক্ষিত মানুষের জীবনের পরিকল্পনা থেমে যায়। তাঁরা অন্য চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা পরিবারের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখেন। পরে বয়সে সামান্য ছাড় সেই হারানো সময় পুরো ফিরিয়ে দিতে পারে না।
কমিশনের উচিত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য আলাদা অনলাইন ব্যবস্থা করা, যাতে প্রার্থীদের বারবার জেলা অফিসে যেতে না হয়। বাতিল আবেদন পুনরুজ্জীবিত করা, সংশোধিত বয়স গণনা এবং অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন। নতুন মামলা এড়াতে প্রতিটি সিদ্ধান্তের কারণ লিখিতভাবে দেওয়া উচিত।
যোগ্য প্রার্থীদের ডাক পাওয়া ন্যায়সঙ্গত স্বস্তি। কিন্তু এই মামলার গভীর শিক্ষা হল, সময়মতো ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিজেই একটি নাগরিক অধিকার। প্রশাসন যদি বছরের পর বছর পরীক্ষা ও ফল আটকে রাখে, আদালতের বয়সে ছাড় কেবল ক্ষতস্থানে আংশিক প্রলেপ হতে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



