আম্বানীর সঙ্গে বৈঠক, আদানির সফর: লগ্নির নতুন পরীক্ষা

যা জানা জরুরি
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, গণেশ উৎসবের পরে তিনি মুম্বই গিয়ে মুকেশ আম্বানীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
- গৌতম আদানির ২৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে আসার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
- নতুন সরকার রাজ্যকে শিল্পবান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে দেশের দুই বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, গণেশ উৎসবের পরে তিনি মুম্বই গিয়ে মুকেশ আম্বানীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। গৌতম আদানির ২৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে আসার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। নতুন সরকার রাজ্যকে শিল্পবান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে দেশের দুই বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় একটি পোশাক বিপণির উদ্বোধনে এই পরিকল্পনার কথা বলেন। একই বক্তৃতায় তিনি আগের সরকারের ‘সিন্ডিকেট’, ‘কাটমানি’ ও দুর্নীতির কারণে শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। রাজনৈতিক অভিযোগের সত্যতা পৃথক তদন্ত ও প্রমাণের বিষয়। নতুন সরকারের নিজস্ব সাফল্যও কেবল আগের সরকারকে দোষ দিয়ে মাপা যাবে না।
বড় শিল্পপতির সঙ্গে বৈঠক নিজে বিনিয়োগ নয়। কোনও প্রকল্পের জন্য জমি, অর্থের পরিমাণ, উৎপাদন শুরু হওয়ার সময়, প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত অনুমোদন নির্দিষ্ট হলে তবেই ঘোষণাকে বাস্তব লগ্নি বলা যায়। ভারতে বিভিন্ন রাজ্যের বিনিয়োগ সম্মেলনে ঘোষিত সমঝোতা ও বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে বড় ব্যবধানের বহু নজির রয়েছে।
রিলায়েন্সের পশ্চিমবঙ্গে খুচরো ব্যবসা, দূরসংযোগ ও ডিজিটাল পরিষেবায় উপস্থিতি রয়েছে। আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহ বন্দর, বিদ্যুৎ, পরিকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রে হতে পারে। কিন্তু সম্ভাব্য ক্ষেত্র আর নিশ্চিত প্রকল্প এক নয়। বৈঠকের পরে লিখিত প্রস্তাব প্রকাশ করা প্রয়োজন।
রাজ্যের শিল্পনীতির বড় পরীক্ষা জমি। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার কারণে কৃষিজমি অধিগ্রহণ রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। শিল্পের জন্য জমি দিলে মালিক, ভাগচাষি, কৃষিশ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দার পুনর্বাসন কীভাবে হবে, তা প্রথম থেকেই জানাতে হবে। ‘সম্মতি’ যেন প্রশাসনিক চাপের অন্য নাম না হয়।
একই সঙ্গে শুধু বৃহৎ গোষ্ঠীর উপর নির্ভর করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রয়োজন আড়ালে পড়ে। বিদ্যুৎ, রাস্তা, ঋণ, দক্ষ কর্মী, করসংক্রান্ত অনুমতি এবং সময়মতো পাওনা—এই দৈনন্দিন সমস্যাগুলির সমাধান বেশি সংখ্যক চাকরি তৈরি করতে পারে। দুই শিল্পপতির সফর সংবাদ তৈরি করে; হাজারো ছোট উদ্যোগের কার্যকর এক-জানালা ব্যবস্থা অর্থনীতি বদলায়।
স্বচ্ছ প্রতিযোগিতাও জরুরি। নির্দিষ্ট সংস্থাকে জমি, করছাড় বা সরকারি চুক্তি দেওয়া হলে শর্ত ও জনস্বার্থ প্রকাশ করতে হবে। শিল্পপতির নামের আকার যেন দরপত্র বা পরিবেশ-পরীক্ষার বিকল্প না হয়।
নতুন সরকারের লগ্নি অভিযানকে তাই বৈঠকের ছবিতে নয়, এক বছর পরে কারখানার দরজায় মাপতে হবে। কত টাকা বাস্তবে এসেছে, কত স্থানীয় মানুষ স্থায়ী কাজ পেয়েছেন এবং সরকারের কত রাজস্ব ছাড় দিতে হয়েছে—এই পূর্ণ হিসাবই সাফল্য নির্ধারণ করবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



