ফর্ম ৬ বিতর্কে রাহুলের নিশানায় জ্ঞানেশ, ‘মিথ্যায় ভরা’ দাবি বিজেপির

যা জানা জরুরি
- ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়াল কংগ্রেস ও বিজেপি।
- সোমবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপিকে সুবিধা দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নিজের পদের অপব্যবহার করেছেন, তা প্রমাণিত।
- নির্বাচন কমিশনও রাহুলের পোস্টকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়াল কংগ্রেস ও বিজেপি। সোমবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপিকে সুবিধা দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নিজের পদের অপব্যবহার করেছেন, তা প্রমাণিত। বিজেপি তাঁর বক্তব্যকে ‘মিথ্যায় ভরা’ বলেছে। নির্বাচন কমিশনও রাহুলের পোস্টকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বক্তব্য ঘিরে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আবেদনগুলির শুনানিতে তিনি জানান, ফর্ম ৬-এর কোনও সংশোধিত সংস্করণকে সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন দেয়নি। কমিশনের নথি এলে কে কী পরিবর্তন করেছেন, আদালত তা পরীক্ষা করবে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ভোটার হওয়ার আবেদনে নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেন। অনলাইন ব্যবস্থায় এর সঙ্গে একটি অংশ যুক্ত হয়েছিল, যেখানে সর্বশেষ বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের তালিকায় আবেদনকারীর বাবা-মায়ের নামের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। অথচ বিধিতে নির্ধারিত মূল ফর্ম সংশোধিত হয়নি। এই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার পদ্ধতি এবং তার অনুমোদন নিয়েই আপত্তি ওঠে।
আদালতের পর্যবেক্ষণের পরে এক্সে রাহুল দাবি করেন, জ্ঞানেশ বেআইনি ও একতরফাভাবে ফর্ম ৬ বদলেছেন। তাঁর অভিযোগ, এটি বিজেপির স্বার্থে কমিশনের ক্ষমতা ব্যবহারের নজির। গণতন্ত্রের উপর এই আক্রমণের সঙ্গে জড়িত সকলকে জবাবদিহি করতে হবে বলেও জানান তিনি। নিজের বক্তব্যের সঙ্গে কমিশনের ২৬ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তির অংশ তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা।
পাল্টা বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ফর্ম ৬-কে বেআইনি ঘোষণা করেনি। তাঁর বক্তব্য, আদালত অভিযোগ পরীক্ষা করার কথা বলেছে, অথচ রাহুল সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। আদালতের শুনানি এবং কমিশনের বিজ্ঞপ্তি, দুটিই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার অভিযোগ তোলেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সমর্থন বাড়াতে কংগ্রেস নেতা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলেও দাবি পাত্রের।
বিষয়টি আদালতে পৌঁছনো এবং কমিশনকে নোটিস জারিকেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকারিতার নিদর্শন হিসেবে দেখিয়েছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণকে কোনও ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখানো যায় না। পাত্রের যুক্তি, নথি ও ব্যাখ্যা সামনে আসার পরেই পরিবর্তন সংক্রান্ত অভিযোগের অবস্থান স্পষ্ট হবে।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা, ফর্ম ৬ নিজে বদলানো হয়নি; এসআইআরের জন্য একটি ঘোষণাপত্র সংযুক্ত হয়েছিল। কমিশন জানায়, বিহারে এসআইআরের জন্য ২০২৫ সালের ২৪ জুনের নির্দেশ সর্বসম্মতভাবে জারি হয়েছিল। তাদের দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ বহাল রেখেছে। তাই একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ সঠিক নয় বলে কমিশনের বক্তব্য।
কমিশন জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্র আদালতে বহাল থাকার কথাই বলা হয়েছিল। এসআইআরের বাইরের সময়ে ভোটার নিবন্ধন বিধি, ১৯৬০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ, কমিশন মূল ফর্ম এবং সংযুক্ত ঘোষণাপত্রের মধ্যে পার্থক্য করছে; বিরোধীদের আপত্তি সেই সংযোজনের আইনি ভিত্তি ও প্রয়োগ নিয়ে।
কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল জ্ঞানেশের অপসারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, কমিশনের বিজ্ঞপ্তি ও আদালতের বক্তব্যে অসংগতি থাকলে ভোটারের অধিকার রক্ষা করবে কে। ফলে বিতর্ক ফর্মের ভাষা ছাড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নে পৌঁছেছে।
তবে আদালতের অবস্থান এবং রাজনৈতিক অভিযোগের পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। কোনও সংশোধন অনুমোদিত হয়নি বলা আর সেই সংশোধন বেআইনি প্রমাণিত হয়েছে বলা এক বিষয় নয়। আদালত নথি পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছে; রাহুলের দাবি বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেই পরীক্ষাতেই স্পষ্ট হবে, কোন পরিবর্তন হয়েছিল, তার অনুমোদন কোথা থেকে এসেছিল এবং কমিশনের ব্যাখ্যার সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



