খবর

ছয় সড়কে ১,০৪২ কোটি টাকা, গন্তব‍্য বহুদূর

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কেন্দ্রীয় সড়ক পরিকাঠামো তহবিলের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি সড়ক প্রকল্পের জন্য ১,০৪২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা অনুমোদিত হয়েছে।
  • মোট ১৯৪.১০ কিলোমিটার রাস্তা এই পরিকল্পনার আওতায় আসবে।
  • কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী ৮ সেপ্টেম্বর অনুমোদনের কথা জানান; ১৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি আবার সামনে আসে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিকাঠামো তহবিলের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি সড়ক প্রকল্পের জন্য ১,০৪২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা অনুমোদিত হয়েছে। মোট ১৯৪.১০ কিলোমিটার রাস্তা এই পরিকল্পনার আওতায় আসবে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী ৮ সেপ্টেম্বর অনুমোদনের কথা জানান; ১৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি আবার সামনে আসে।

প্রকাশিত ঘোষণায় রাস্তা প্রশস্ত ও শক্তিশালী করা, যাতায়াতের সময় কমানো এবং বাজার, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছনোর সুবিধার কথা বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে ছয়টি রাস্তার পূর্ণ নাম, জেলা-ভিত্তিক দৈর্ঘ্য, আলাদা বরাদ্দ এবং নির্মাণ শেষ করার সময়সীমা জনসমক্ষে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় ছিল না।

এই তথ্যের ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ। ‘১৯৪ কিলোমিটার সড়ক’ শুনে সবটাই নতুন রাস্তা ধরে নেওয়া যাবে না। কোথাও বর্তমান রাস্তা চওড়া হতে পারে, কোথাও দুর্বল অংশের পুনর্নির্মাণ, সেতু–কালভার্ট সংস্কার বা নিরাপত্তা উন্নয়ন হতে পারে। প্রকল্পভিত্তিক বিস্তারিত প্রতিবেদন ছাড়া কত কিলোমিটার সত্যিই নতুন সংযোগ তৈরি করবে তা জানা সম্ভব নয়।

অনুমোদনও নির্মাণ শুরু হওয়ার সমার্থক নয়। প্রশাসনিক অনুমতির পরে প্রকৌশল নকশা, ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব, জমির প্রয়োজন, বন বা পরিবেশসংক্রান্ত ছাড়পত্র, দরপত্র এবং ঠিকাদার নির্বাচন রয়েছে। বর্ষা, স্থানীয় জমি-বিরোধ, বিদ্যুৎ ও জললাইনের স্থানান্তর কিংবা নির্মাণসামগ্রীর দামে পরিবর্তনে সময় ও ব্যয় বাড়তে পারে।

জেলার সড়ক উন্নয়নে রাস্তার পৃষ্ঠের পাশাপাশি নিকাশির নকশা জরুরি। ভারী বৃষ্টিতে জল দাঁড়িয়ে গেলে নতুন বিটুমিনও দ্রুত নষ্ট হয়। নদী ও ছোট জলধারার উপর কালভার্ট কম হলে রাস্তা বাঁধের মতো কাজ করে পাশের জমি ডুবিয়ে দিতে পারে। ফলে দ্রুত নির্মাণের পাশাপাশি বন্যা ও স্থানীয় জলপ্রবাহের মানচিত্র নকশায় থাকা উচিত।

সড়ক প্রশস্ত হলে গাড়ির গতি বাড়ে, কিন্তু বাজার, বিদ্যালয় ও গ্রামের প্রবেশপথে পথচারীর ঝুঁকিও বাড়তে পারে। নিরাপদ পারাপার, বাসথামার জায়গা, আলোকসজ্জা, বাঁকে সতর্কতা এবং মোটরসাইকেল আরোহীর জন্য উপযুক্ত প্রান্ত না-থাকলে উন্নত রাস্তা দুর্ঘটনার নতুন কেন্দ্র হয়। প্রকল্পের ফল তাই শুধু যাত্রার সময় দিয়ে নয়, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার দিয়েও মাপা প্রয়োজন।

নির্মাণকালে স্থানীয় ব্যবসা ও বাসিন্দাদের উপর প্রভাবও থাকবে। ধুলো, দীর্ঘ ঘুরপথ, দোকানের প্রবেশপথ বন্ধ হওয়া এবং জমি নেওয়ার ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ দেখা দিতে পারে। কাজের আগে কোন অংশ কখন বন্ধ হবে এবং অভিযোগ কার কাছে জানানো যাবে—জেলাভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করলে দৈনন্দিন ক্ষতি কমানো সম্ভব।

কেন্দ্রীয় তহবিল এলেও বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্যের দায়িত্ব আলাদা হতে পারে। অর্থ ছাড়ের কিস্তি, কাজের অগ্রগতি এবং গুণমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ না-হলে অনুমোদিত অঙ্ককেই সম্পূর্ণ ব্যয় হিসেবে দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়। রাস্তার পুরুত্ব, উপকরণের নমুনা এবং তৃতীয় পক্ষের পরিদর্শন সম্পর্কে নাগরিকদের জানার সুযোগ থাকা দরকার।

১,০৪২ কোটি টাকার অনুমোদন পশ্চিমবঙ্গের জেলা-যোগাযোগের জন্য বড় সুযোগ, কিন্তু ঘোষণাটি এখনও প্রকল্পের সূচনা। ছয় রাস্তার মানচিত্র, ব্যয়, কাজের ধরন, দরপত্র, সময়সীমা ও মাসিক অগ্রগতি এক জায়গায় প্রকাশ করলে রাজনৈতিক কৃতিত্বের দাবি ছাড়িয়ে বাস্তব ফল যাচাই করা যাবে। রাস্তা উদ্বোধনের দিনে মসৃণ থাকা যথেষ্ট নয়; পাঁচ বছর পরে নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য থাকাই বিনিয়োগের সাফল্য

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles