খবর

৫০ হাজার চিকিৎসা পেলেন আয়ুষ্মানে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত–প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা চালুর এক মাসে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন বলে ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
  • তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট থেকে প্রায় ২৮ কোটি টাকার চিকিৎসা পরিষেবা অনুমোদিত বা দেওয়া হয়েছে।
  • এগুলি রাজ্য প্রশাসনের প্রকাশিত প্রাথমিক সংখ্যা; স্বাধীন নিরীক্ষার ফল নয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত–প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা চালুর এক মাসে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন বলে ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট থেকে প্রায় ২৮ কোটি টাকার চিকিৎসা পরিষেবা অনুমোদিত বা দেওয়া হয়েছে। এগুলি রাজ্য প্রশাসনের প্রকাশিত প্রাথমিক সংখ্যা; স্বাধীন নিরীক্ষার ফল নয়।

আন্তঃরাজ্য বহনযোগ্যতার তথ্যও ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ১,১০২ জন উপভোক্তা অন্য রাজ্যে চিকিৎসা পেয়েছেন এবং অন্য রাজ্যের ১,৮৪৯ জন পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালে পরিষেবা নিয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিক, সীমান্তবর্তী জেলার পরিবার এবং রাজ্যের বাইরে কর্মরত মানুষদের জন্য এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাজ্যে নাম নথিভুক্ত থাকলেও অনুমোদিত অন্য রাজ্যের হাসপাতালে নগদহীন চিকিৎসা পাওয়াই বহনযোগ্যতার উদ্দেশ্য।

সংখ্যাগুলি বুঝতে কয়েকটি পার্থক্য জরুরি। ‘৫০ হাজার মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন’ বলতে পৃথক রোগী, হাসপাতালের অনুমোদিত ভর্তি নাকি নিষ্পত্তি হওয়া দাবি বোঝানো হয়েছে—বিস্তারিত প্রকাশ হয়নি। একই ব্যক্তি একাধিক চিকিৎসা-প্যাকেজ পেলে গণনা কীভাবে হয়েছে, ২৮ কোটি টাকার কতটা দাবি মিটেছে এবং কতটা এখনও যাচাইাধীন—এসব না-জানলে গড় ব্যয় বা সাফল্যের হার নির্ভুলভাবে হিসাব করা যায় না।

এক মাসের দ্রুত ব্যবহার দীর্ঘদিনের অপূর্ণ চিকিৎসা-চাহিদার ইঙ্গিত দিতে পারে। আবার শুরুর দিকে বড় হাসপাতাল বা প্রস্তুত জেলাগুলিতে দাবি বেশি হওয়াও স্বাভাবিক। জেলা অনুযায়ী উপভোক্তা, রোগের ধরন, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ভাগ এবং নারী–পুরুষ বা বয়সভিত্তিক তথ্য প্রকাশিত হলে বোঝা যাবে সুবিধাটি সমানভাবে পৌঁছচ্ছে, নাকি কয়েকটি শহর ও প্রতিষ্ঠানেই কেন্দ্রীভূত।

নগদহীন চিকিৎসার দাবি বাস্তবে তখনই পূর্ণ হয়, যখন হাসপাতালে ভর্তির সময় রোগীকে ওষুধ, পরীক্ষা, যন্ত্র বা শয্যার নামে আলাদা টাকা দিতে হয় না। অনুমোদিত প্যাকেজের বাইরে অর্থ নেওয়া, পরিচয় মেলেনি বলে ভর্তি বিলম্ব এবং ছুটির পরে দাবি বাতিল—এসব অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি দরকার। হেল্পলাইন নম্বর থাকলেই যথেষ্ট নয়; অভিযোগের ফল ও সময়সীমাও প্রকাশ করা উচিত।

অন্যদিকে জাল ভর্তি, প্রয়োজনহীন অস্ত্রোপচার, রোগনির্ণয়ের কোড বদলে বেশি টাকা দাবি কিংবা উপভোক্তার পরিচয় ব্যবহার করে কাল্পনিক চিকিৎসা দেখানোর ঝুঁকি রয়েছে। অতিরিক্ত সন্দেহে প্রতিটি দাবি আটকে দিলে হাসপাতাল পরিষেবা দিতে অনাগ্রহী হতে পারে। তাই তথ্যভিত্তিক ঝুঁকি যাচাই, চিকিৎসাগত নিরীক্ষা এবং সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যভিত্তিক পরিদর্শন প্রয়োজন।

পরিষেবার মান কেবল চিকিৎসার টাকার অঙ্কে ধরা পড়ে না। অস্ত্রোপচারের পরে পুনরায় ভর্তি, সংক্রমণ, রোগীর মৃত্যু, প্রয়োজনীয় অনুসরণমূলক চিকিৎসা এবং রোগীর নিজস্ব ব্যয়—এসব ফল মাপতে হবে। কোনও হাসপাতাল বেশি প্যাকেজ ব্যবহার করেছে মানেই সে ভালো বা খারাপ, দুটির কোনওটিই প্রমাণিত হয় না।

জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থায় হাসপাতালের তালিকা ও সুবিধার তথ্য থাকলেও বাস্তবে শয্যা খালি থাকা এবং নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ উপস্থিত থাকার নিশ্চয়তা আলাদা। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, উত্তর দিনাজপুর বা পাহাড়ি অঞ্চলের রোগীকে দূরে যেতে হলে পরিবহণ ও সঙ্গে থাকা পরিবারের খরচ বিমার বাইরেই থেকে যায়। জেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো তাই বিমা-কার্ডের পরিপূরক।

প্রথম মাসে ৫০ হাজারের বেশি চিকিৎসা এবং আন্তঃরাজ্য ব্যবহার উল্লেখযোগ্য সূচনা। কিন্তু উদ্বোধনের সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যফল ধরে নেওয়া যাবে না। পৃথক রোগী, অনুমোদিত ও নিষ্পত্তি হওয়া দাবি, প্রত্যাখ্যানের কারণ, রোগীর পকেট থেকে খরচ এবং চিকিৎসার ফল নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন। কার্ডের সংখ্যা রাজনৈতিক সাফল্য দেখাতে পারে; নিরাপদ, সময়মতো ও সত্যিই নগদহীন চিকিৎসাই প্রকল্পের আসল পরীক্ষা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles