সমকামী সঙ্গীকেও চিকিৎসার সিদ্ধান্তের অধিকার দেওয়া যায়, আদালতে বলল কেন্দ্র

যা জানা জরুরি
- কোনও অসুস্থ ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁর হয়ে চিকিৎসার অনুমতি কে দেবেন—বিবাহিত বিপরীতলিঙ্গ দম্পতির ক্ষেত্রে উত্তরটি তুলনায় সহজ।
- কিন্তু আইন স্বীকৃত বিবাহ না-থাকা সমকামী সঙ্গীর ক্ষেত্রে হাসপাতাল প্রায়ই রক্তের আত্মীয়কে খোঁজে।
- এই অনিশ্চয়তা কাটাতে দিল্লি হাই কোর্টে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কোনও অসুস্থ ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁর হয়ে চিকিৎসার অনুমতি কে দেবেন—বিবাহিত বিপরীতলিঙ্গ দম্পতির ক্ষেত্রে উত্তরটি তুলনায় সহজ। কিন্তু আইন স্বীকৃত বিবাহ না-থাকা সমকামী সঙ্গীর ক্ষেত্রে হাসপাতাল প্রায়ই রক্তের আত্মীয়কে খোঁজে। এই অনিশ্চয়তা কাটাতে দিল্লি হাই কোর্টে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে।
সমকামী সঙ্গীরা একে অন্যকে চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করতে পারবেন—এমন ব্যবস্থা চেয়ে একটি দম্পতি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মামলা করেছিলেন। তাঁরা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডে বিবাহ করেছেন। ভারতে তাঁদের বিবাহ ‘স্বামী–স্ত্রী’ হিসেবে স্বীকৃত নয় বলে জরুরি চিকিৎসায় পারস্পরিক সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা নেই—এটিই মামলার মূল বক্তব্য।
৯ সেপ্টেম্বর আদালতে জমা দেওয়া জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক বলেছে, শুধু লিঙ্গ, যৌন পরিচয় বা সম্পর্কটি প্রচলিত বিবাহের আওতায় না-পড়ার কারণে কোনও প্রাপ্তবয়স্কের মনোনীত সঙ্গীকে বাদ দেওয়ার চিকিৎসাগত বা নৈতিক যুক্তি নেই। সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আগে থেকে যাঁকে অনুমোদন করেছেন, উপযুক্ত সুরক্ষাবিধি মেনে তাঁকে সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
মন্ত্রক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আইন, ২০১৭-এর ‘মনোনীত প্রতিনিধি’ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছে। এই আইনে প্রতিনিধি শুধু স্বামী, স্ত্রী বা রক্তের আত্মীয় হতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। রোগীর স্বায়ত্তশাসনই প্রধান। চিকিৎসার আগাম নির্দেশ, লিখিত মনোনয়ন ও পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে অপব্যবহারের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।
তবে কেন্দ্র একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, এই অবস্থান সমকামী বিবাহের আইনি স্বীকৃতি নয়। বর্তমান বিবাহ আইনগুলিতে ‘স্বামী বা স্ত্রী’ শব্দের প্রচলিত ব্যাখ্যা বিপরীতলিঙ্গ দম্পতিকে বোঝায়। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংসদের আইন ছাড়া সমকামী বিবাহকে আদালতের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়নি। বর্তমান মামলা বিবাহের মর্যাদার বদলে চিকিৎসায় প্রতিনিধি মনোনয়নের সীমিত অধিকার নিয়ে।
সরকার আরও জানিয়েছে, যৌথ ব্যাঙ্ক হিসাব বা রেশন কার্ডের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রশাসন ইতিমধ্যে একই পরিবারের সমকামী সঙ্গীদের জায়গা দিয়েছে। পারস্পরিক যত্ন ও নির্ভরতার সম্পর্ক শুধু বিয়ে বা রক্তসম্পর্কে সীমাবদ্ধ নয়—চিকিৎসা-প্রতিনিধিত্বে সেই নীতির সীমিত সম্প্রসারণ সম্ভব।
আদালত এখনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি। হাসপাতালগুলির জন্য অভিন্ন ফর্ম, মনোনয়ন প্রত্যাহারের ব্যবস্থা, সঙ্গী ও পরিবারের মধ্যে বিরোধ হলে সিদ্ধান্ত এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা বন্ধ করার মতো জটিল বিষয়ে আলাদা নিয়ম প্রয়োজন হতে পারে। শুধু সাধারণ সরকারি বক্তব্যে হাসপাতালের দৈনন্দিন দ্বিধা পুরোপুরি কাটবে না।
বিশ্লেষণ: কেন্দ্রের অবস্থানটি বিবাহ-সমতার বিকল্প নয়, কিন্তু বাস্তব জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ। জরুরি চিকিৎসায় কয়েক ঘণ্টার বিলম্বও প্রাণঘাতী হতে পারে। যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ককে—সমকামী, অবিবাহিত বিপরীতলিঙ্গ সঙ্গী, একা থাকা প্রবীণ বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে—বিশ্বস্ত প্রতিনিধি মনোনয়নের সাধারণ ব্যবস্থা দেওয়া হলে অধিকারটি আরও সমান হবে। সম্পর্কের পরিচয়ের বদলে রোগীর স্পষ্ট ইচ্ছাকে কেন্দ্র করা চিকিৎসানীতি ও ব্যক্তিস্বাধীনতা—দুইয়ের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



