দেশ

ঝাড়খণ্ডে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৪৩.৬২ লক্ষ নাম, দাবি জানানোর সময় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ঝাড়খণ্ডে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের খসড়ায় বাদ পড়া নাগরিকদের দাবি ও আপত্তি জানানোর সময় দ্বিতীয়বার বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন।
  • প্রথমে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় ছিল; পরে তা ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
  • সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৯ অক্টোবর প্রকাশের লক্ষ্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ঝাড়খণ্ডে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের খসড়ায় বাদ পড়া নাগরিকদের দাবি ও আপত্তি জানানোর সময় দ্বিতীয়বার বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর। প্রথমে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় ছিল; পরে তা ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৯ অক্টোবর প্রকাশের লক্ষ্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

৫ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ৪৩,৬১,৯৮৭ জনের নাম অনুপস্থিত ছিল। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তাঁদের চার শ্রেণিতে ভাগ করেছে—মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত বা খুঁজে না-পাওয়া এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা। সরকারি বিভাজনে ৭,৬৩,৯০৩ জনকে মৃত, ১৫,৯২,১৯৪ জনকে স্থানান্তরিত, ১৪,৫০,৮১০ জনকে অনুপস্থিত বা অশনাক্ত এবং ৬৮,২৮৩ জনকে নকল নিবন্ধন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই সংখ্যা যোগ করলে মোট বাদ পড়া নামের সঙ্গে ফারাক থাকে; অন্যান্য অসম্পূর্ণ বা যাচাই-অপেক্ষমাণ শ্রেণি ও প্রতিবেদনের গণনাপদ্ধতি তার কারণ হতে পারে। তাই প্রতিটি ব্যক্তির অবস্থান নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানব্যবস্থা বা বুথস্তরের আধিকারিকের কাছ থেকে যাচাই করাই নিরাপদ। সামগ্রিক সংখ্যা দেখে নিজের নাম আছে বা নেই ধরে নেওয়া উচিত নয়।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে রবি কুমার জানিয়েছেন, নাম না-থাকা যোগ্য নাগরিকরা ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় নথিসহ ৬ নম্বর ফর্ম দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের ইসিনেট ব্যবস্থা অথবা বুথস্তরের আধিকারিকের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। ৭ নম্বর ফর্ম নির্দিষ্ট কারণে কোনও নামের বিরুদ্ধে আপত্তি বা বাদ দেওয়ার আবেদন এবং ৮ নম্বর ফর্ম ভুল সংশোধন, ঠিকানা বদল বা কেন্দ্র পরিবর্তনের জন্য।

কোনও ব্যক্তি ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিলেই সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ যাবে না। নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিককে তদন্ত, নোটিস এবং শুনানির নির্ধারিত প্রক্রিয়া মানতে হবে। এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে বিপুল আপত্তি জমা পড়লে প্রাথমিক আবেদনকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা হতে পারে।

কমিশন ৬৩ লক্ষের বেশি ভোটারকে শুনানির নোটিস দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক শুনানি অল্প সময়ে সঠিকভাবে শেষ করা প্রশাসনিকভাবে কঠিন। প্রত্যন্ত আদিবাসী এলাকা, পরিযায়ী শ্রমিক, ভাড়াবাড়ির বাসিন্দা, গৃহহীন মানুষ এবং নথিতে বানানভুল থাকা নাগরিকেরা তুলনায় বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। তাঁদের অনুপস্থিতি সব সময় অযোগ্যতার প্রমাণ নয়।

কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল। কমিশনের বক্তব্য, নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আবেদন এবং জমা পড়তে থাকা ফর্মের সংখ্যা দেখে শেষবার সময় বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় নির্ভুল তালিকা প্রয়োজন, কিন্তু ভুলভাবে একজন যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়ার ক্ষতি গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর সরাসরি পড়ে।

বিশ্লেষণ: সংশোধনের সাফল্য শুধু কত লক্ষ মৃত বা নকল নাম বাদ গেল দিয়ে মাপা উচিত নয়। কতজন যোগ্য নাগরিক ভুলভাবে বাদ পড়েছিলেন, কতজন শুনানির সুযোগ পেয়েছেন এবং সিদ্ধান্তের লিখিত কারণ দেওয়া হয়েছে কি না—সেগুলিও প্রকাশ দরকার। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি ভোটারের নিজের নাম যাচাই করা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলিরও অভিযোগের অঙ্ক ছোড়ার পাশাপাশি বাদ পড়া নাগরিককে সঠিক ফর্ম ও শুনানিতে সাহায্য করা উচিত।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles