দেশ

বালাঘাটে তিরিশের বেশি শিশুর মৃত্যু, আদিবাসীদের বঞ্চনা সংসদে তোলার আশ্বাস রাহুলের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে একের পর এক আদিবাসী শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, জেলার বিরসা ব্লকের জাগলা গ্রামে গিয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন তিনি।
  • জুলাই থেকে সংক্রামক রোগ, অপুষ্টি, রক্তাল্পতা ও জলশূন্যতার মতো সমস্যায় তিরিশের বেশি শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে একের পর এক আদিবাসী শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, জেলার বিরসা ব্লকের জাগলা গ্রামে গিয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন তিনি। জুলাই থেকে সংক্রামক রোগ, অপুষ্টি, রক্তাল্পতা ও জলশূন্যতার মতো সমস্যায় তিরিশের বেশি শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। পরিবারগুলির অভিযোগ, প্রয়োজনের সময়ে চিকিৎসা পরিষেবা না পাওয়াই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

মৃত্যুর ঘটনাগুলি প্রধানত বিরসা ও বাইহার এলাকার প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলিতে ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন বাইগা ও গোন্ড সম্প্রদায়ের মানুষ। বাইগারা বিশেষভাবে বিপন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত। তবে মৃতের মোট সংখ্যা এবং প্রত্যেকটি মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে সরকারি হিসাব ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ফারাক রয়েছে। ফলে সমস্ত মৃত্যুকে একটিমাত্র রোগের ফল বলে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলার পরে রাহুল অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আদিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তাঁর বক্তব্য, দেশের মাঝখানে বসবাস করেও এই মানুষগুলি এমনভাবে বঞ্চিত যে, তাঁদের কাছে কেন্দ্র কিংবা রাজ্য সরকারের উপস্থিতিই অনুভূত হয় না। বালাঘাটের ঘটনা এবং সারা দেশের আদিবাসীদের সমস্যার কথা লোকসভায় তুলবেন বলে জানান তিনি।

রাহুলের সফরে চিকিৎসার পাশাপাশি উঠে আসে জমির অধিকার, বনাধিকার এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রশ্নও। এলাকায় হাসপাতাল ও শিক্ষার পরিকাঠামো নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নের প্রচার চললেও বিপদের সময়ে আদিবাসী পরিবারগুলি প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে তাঁদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কাজের সুযোগের বিষয়ে সাহায্য করবে বলেও আশ্বাস দেন বিরোধী দলনেতা।

জাগলায় পৌঁছনোর আগে মাটে গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও যান রাহুল। পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে মিড-ডে মিলের খোঁজ নেন। পরে সন্তানহারা পরিবারগুলির কাছে জানতে চান, শিশুরা কীভাবে অসুস্থ হয়েছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মৃত শিশুদের পরিবারগুলির অনেকেই সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাননি। যদিও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে এই অভিযোগের ফারাক রয়েছে।

শিশুমৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের নেতৃত্বে হওয়া তদন্তে এখনও একটিমাত্র জীবাণু বা রোগকে দায়ী করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন শিশুর ক্ষেত্রে হাম, ম্যালেরিয়া, একাধিক সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি, রক্তাল্পতা এবং জলশূন্যতার মতো সমস্যা পাওয়া গিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও টিকাকরণের ব্যবস্থা করেছে। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা পরিষেবা এবং গুরুতর রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর সামাজিক মাধ্যমে এই মৃত্যুগুলি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন রাহুল। রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবের প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টও শিশুমৃত্যু সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারের জবাব চেয়েছে। চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ উঠেছে মামলায়। কংগ্রেস রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র শুক্লের পদত্যাগ এবং মৃত্যুগুলির তদন্তে বিশেষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। সরকারি হিসাবের তুলনায় মৃতের সংখ্যা বেশি বলেও দাবি করেছে বিরোধী দল। তবে সেই দাবিকে চূড়ান্ত সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, রাহুলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজেন্দ্র শুক্ল। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই সফর করেছেন। আদিবাসী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ইউনিট, কেন্দ্রীয় জনজাতি উন্নয়ন প্রকল্প এবং পুষ্টির জন্য আর্থিক সহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। ওই সব অঞ্চলে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার সমস্যার সঙ্গে মাওবাদী তৎপরতার যোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন উপমুখ্যমন্ত্রী। সরকারের বক্তব্য, আদিবাসীদের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প চালু রয়েছে। কিন্তু সন্তানহারা পরিবারগুলির অভিযোগে উঠে আসছে সেই পরিষেবা প্রয়োজনের সময়ে তাঁদের কাছে পৌঁছনোর প্রশ্ন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles