খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত থামব না: উদ্ধব

যা জানা জরুরি
- ঠাণেতে দলের নেতা প্রদীপ পূর্ণেকরের হত্যাকাণ্ডে অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে সরব হলেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।
- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর নিহত নেতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
- হত্যাকারী এবং হত্যার নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত তাঁরা থামবেন না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ঠাণেতে দলের নেতা প্রদীপ পূর্ণেকরের হত্যাকাণ্ডে অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে সরব হলেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর নিহত নেতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। জানান, এই সংকটে দল তাঁদের পাশে রয়েছে। হত্যাকারী এবং হত্যার নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত তাঁরা থামবেন না। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েছে।
শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়ে উদ্ধব বলেন, তাঁদের সাহস জোগানো এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিতেই তিনি এসেছেন। তাঁর সফরের সময় বাড়ির বাইরে বহু দলীয় কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থক জড়ো হন। নিহত নেতার স্মৃতিতে স্লোগান ওঠে।
মঙ্গলবার রাতে নিজের দপ্তরে আক্রান্ত হন পূর্ণেকর। তিনি ঠাণের মানপাড়া এলাকায় শিবসেনা (ইউবিটি)-র বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। মুখ ঢাকা আততায়ীরা মোটরবাইকে এসে তাঁর উপরে হামলা চালায়। গুলি চালানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। নিজের রাজনৈতিক দপ্তরের ভিতরে এমন হামলা স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে।
পূর্ণেকরের পরিবার এবং উদ্ধবের দলের অভিযোগ, এই হত্যার পিছনে রাজনৈতিক শত্রুতা রয়েছে। তাঁরা ঠাণের প্রাক্তন মেয়র মীনাক্ষী শিন্ডে এবং তাঁর স্বামী রাজেন্দ্র শিন্ডের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। দু’জনেই একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে যুক্ত। তবে পরিবারের অভিযোগ বা বিরোধী দলের বক্তব্যকে তদন্তে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার অবকাশ এখনও নেই। হত্যার উদ্দেশ্য নির্ধারণের তদন্ত চলছে।
মীনাক্ষী তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ তদন্ত করে অপরাধীদের চিহ্নিত করুক; তারপরে তিনি উত্তর দেবেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চান না বলেও জানিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র।
তদন্তে ইতিমধ্যে পূর্ণেকরের পুরনো সহযোগী প্রকাশ ওরফে পাপ্যা শিন্ডেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং পরে আহত নেতাকে হাসপাতালে নিয়ে যান বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে পরিচিত সহযোগীর উপস্থিতি এবং হামলাকারীদের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য যোগাযোগ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্য সন্দেহভাজনদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ২৩ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। নেতৃত্বে রয়েছেন অপরাধ দমন শাখার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অমরসিংহ যাদব। দলে সহকারী পুলিশ কমিশনার থেকে বিভিন্ন স্তরের তদন্তকারী এবং কনস্টেবল রয়েছেন। দু’জন সহকারী কমিশনার, তিনজন সিনিয়র ইনস্পেক্টর, ছ’জন সহকারী ইনস্পেক্টর এবং তিনজন সাব-ইনস্পেক্টর রাখা হয়েছে। হামলার নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখাই তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। সরাসরি হামলাকারীদের পাশাপাশি তাঁদের যোগাযোগের সূত্রও অনুসরণ করা হচ্ছে।
মীরা রোড থেকে তিন মহিলা-সহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করার খবরও পাওয়া গিয়েছে। ধৃত পাপ্যা শিন্ডের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে সন্দেহের ভিত্তিতে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করার অর্থ অপরাধে জড়িত থাকা প্রমাণিত হওয়া নয়।
এদিকে শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, পূর্ণেকর স্থানীয় নির্মাণ ব্যবসার স্বার্থ, গুচ্ছ পুনর্বিকাশ প্রকল্পের সমস্যা এবং মাদকচক্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। সেই বিরোধের সঙ্গে হত্যার যোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন রাউত। এই অভিযোগগুলিও পুলিশ প্রতিষ্ঠিত করেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছেন।
বুধবার রাতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় পূর্ণেকরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পরিবারের দাবিতে আদিত্য ঠাকরে এবং সঞ্জয় রাউতও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার উদ্ধবের সফর সেই সমর্থনকে আরও স্পষ্ট করল। এখন পরিবারের অভিযোগের ভিত্তি যাচাই এবং হত্যার সম্পূর্ণ ঘটনা উদ্ঘাটনের দায়িত্ব তদন্তকারীদের। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেও কার কী ভূমিকা ছিল, তা নির্ভর করবে সংগ্রহ করা প্রমাণের উপরে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



