খবর

অ্যাম্বুল্যান্সকে পথ দিতে থামবে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়, শিলচর-বিতর্কে কড়া নির্দেশ অসমে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ভিআইপি কনভয়কে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য কোনও অবস্থাতেই অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্য জরুরি পরিষেবার গাড়ি আটকানো যাবে না।
  • প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় থামিয়ে সেগুলিকে আগে যেতে দিতে হবে।
  • শিলচরে হিমন্ত বিশ্বশর্মার কনভয়ের জন্য রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্স আটকে দেওয়ার ঘটনায় বিতর্কের পরে এই নির্দেশ দিয়েছে অসম সরকার।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভিআইপি কনভয়কে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য কোনও অবস্থাতেই অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্য জরুরি পরিষেবার গাড়ি আটকানো যাবে না। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় থামিয়ে সেগুলিকে আগে যেতে দিতে হবে। শিলচরে হিমন্ত বিশ্বশর্মার কনভয়ের জন্য রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্স আটকে দেওয়ার ঘটনায় বিতর্কের পরে এই নির্দেশ দিয়েছে অসম সরকার। রাজ্যের সমস্ত জেলা কমিশনার এবং সিনিয়র পুলিশ সুপারকে নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া পুলিশের গাড়ির চলাচল সর্বদা বাধামুক্ত রাখতে হবে। ভিআইপিদের যাতায়াতের সময় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এই পরিষেবাগুলির কাজে বিলম্ব ঘটানো চলবে না। বৃহস্পতিবার ফের জোর দিয়ে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানোর সময় সাধারণ মানুষের অসুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

কনভয়ের দৈর্ঘ্য কমাতেও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং অপরিহার্য কাজের জন্য যতগুলি গাড়ি প্রয়োজন, কনভয়ে ততগুলিই রাখা যাবে। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া মন্ত্রী, বিধায়ক, সরকারি আধিকারিক কিংবা অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির মিছিলে যুক্ত হতে পারবেন না। তাঁদের হয় আগেই গন্তব্যে পৌঁছতে হবে, অথবা মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় চলে যাওয়ার পরে আলাদাভাবে যাতায়াত করতে হবে।

ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা এসকর্ট, পাইলট এবং নিরাপত্তার গাড়িও মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সঙ্গে মিশে যেতে পারবে না। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে সেগুলির চলাচল পৃথকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ পালনের তদারকি করতে বলা হয়েছে। কোনও গাফিলতি ঘটলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর। শিলচরের রামনগর আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাসের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কে যেতে দিতে একটি ১০৮ অ্যাম্বুল্যান্স থামানো হয়। সেটিতে যকৃতের অসুখে আক্রান্ত এক রোগী ছিলেন। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে সমালোচনা শুরু হয়। রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনের সামনে ভিআইপি যাতায়াত কেন অগ্রাধিকার পেল, সেই প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনার পরে হিমন্ত রোগী এবং তাঁর পরিবারের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। অ্যাম্বুল্যান্স আটকে দেওয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলে জানান তিনি। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেন। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কনভয়ের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স কিংবা সাধারণ যাত্রীদের আটকে রাখার ব্যবস্থা তিনি সমর্থন করেন না।

অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা রসরাজ চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার সকালে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যান। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচরে আনা হয়েছিল। হিমন্তের দাবি, অ্যাম্বুল্যান্স অল্প সময় থেমেছিল এবং রোগীর মৃত্যুর সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। তবে সেটি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য; অ্যাম্বুল্যান্স আটকানোর ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  পরিবারের বক্তব্যও, রোগীর মৃত্যুর জন্য অ্যাম্বুল্যান্স আটকে থাকাকে তাঁরা দায়ী করছেন না।

জরুরি গাড়িকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০২২ সালেও অসম মন্ত্রিসভা মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের আগে অ্যাম্বুল্যান্সকে যেতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ফলে বর্তমান বিতর্কে পুরনো নির্দেশ কার্যকর করার প্রশ্নটিও ফের সামনে এসেছে।  মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশেই বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে আগেও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও শিলচরের ঘটনা ঘটায় এবার নিয়মগুলি আবার জানিয়ে কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে সতর্ক করেছে সরকার।

নতুন ব্যবস্থায় তাই কেবল অ্যাম্বুল্যান্সের পথ ছাড়ার কথা বলা হয়নি; মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় গাড়ির চলাচল বন্ধ করা এবং স্বাভাবিক যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন কমানোর কথাও রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে বহু জনপ্রতিনিধি গেলেও তাঁদের গাড়ি জুড়ে কনভয় দীর্ঘ করা যাবে না। জরুরি পরিষেবার নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে জেলার প্রশাসনিক ও পুলিশ নেতৃত্বকে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles