Home খবর চিরকুটে উত্তর, মুখস্থে নীট!

চিরকুটে উত্তর, মুখস্থে নীট!

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
10 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • নীট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
  • প্রশ্নপত্রের উত্তর তৈরিতে ব্যবহার করা হতো তথাকথিত ‘এক্সপার্ট’দের।
  • লিখিত প্রমাণ এড়াতে উত্তর মুখস্থ করিয়ে চিরকুট নষ্ট করার অভিযোগ।

নীট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর তদন্তে উঠে এসেছে নতুন বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্রের উত্তর তৈরির জন্য ব্যবহার করা হতো একদল তথাকথিত ‘এক্সপার্ট’কে। তাঁরা প্রশ্নের উত্তর লিখে ছোট ছোট চিরকুটে তুলে দিতেন, আর সেই উত্তর মুখস্থ করানো হতো পরীক্ষার্থীদের। পরে সমস্ত চিরকুট নষ্ট করে ফেলা হতো, যাতে কোনও লিখিত প্রমাণ না থাকে।

সিবিআই সূত্রে খবর, গোটা প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর তা দ্রুত বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁরা সম্ভাব্য সঠিক উত্তর তৈরি করতেন। এরপর সেই উত্তর চিরকুটে লিখে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হতো বা মুখস্থ করিয়ে নেওয়া হতো। কাজ শেষ হলেই চিরকুট ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হতো।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এই কাজের জন্য বিভিন্ন হোটেলের ঘর ব্যবহার করা হতো। পরীক্ষার আগের রাত বা ভোরে সেখানে বসেই প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা হতো। পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পরীক্ষার্থীদের সেই উত্তর মুখস্থ করানোর ব্যবস্থাও ছিল বলে সিবিআইয়ের দাবি।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই চক্রে শুধু দালাল বা মধ্যস্থতাকারী নন, শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি এবং বিষয়বিশেষজ্ঞও জড়িত থাকতে পারেন। একাধিক অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য মিলেছে বলে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে। তাঁদের ভূমিকা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিবিআইয়ের দাবি, গোটা চক্রের লক্ষ্যই ছিল এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনও ডিজিটাল বা লিখিত প্রমাণ থাকবে না। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়া থেকে উত্তর তৈরি, মুখস্থ করানো এবং চিরকুট ধ্বংস—প্রতিটি ধাপেই নেওয়া হতো বিশেষ সতর্কতা। ফলে তদন্তে প্রত্যক্ষ প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, উত্তর মুখস্থ হয়ে গেলে পরীক্ষার্থীদের চিরকুট ছিঁড়ে ফেলতে বা পুড়িয়ে দিতে বলা হতো। কেউ কেউ আবার কাগজ ফেলে দিতেন। সেই কারণেই তদন্তকারীদের হাতে খুব কম লিখিত প্রমাণ এসেছে।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করেছে সিবিআই। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির বিস্তার, অর্থ লেনদেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, কথিত ‘এক্সপার্ট’দের পরিচয় এবং মূল অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এই মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং বহুস্তরীয় ও সুসংগঠিত একটি নেটওয়ার্কের কাজ। প্রশ্নপত্র সংগ্রহ থেকে উত্তর প্রস্তুত, পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রমাণ নষ্ট—প্রতিটি ধাপেই ছিল নির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

এই নতুন তথ্য সামনে আসার পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত এখনও চলছে। সিবিআইয়ের ধারণা, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে আসতে পারে।

বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles