খবর

৮৫-তে ৯৬৫ নম্বর পেয়ে এমএ, এ বার লক্ষ্য পিএইচডি কিংবা আইন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ৭৬ বছর বয়সে ফের বইখাতা নিয়ে বসেছিলেন।
  • আর ৮৫ বছর বয়সে ৯৬৫ নম্বর পেয়ে এমএ পাশ করলেন হরিয়ানার প্রাক্তন সেনাকর্মী গোদারা।
  • গোদারার কথায়, “বহু বছর ধরে পড়াশোনা আমার জীবনের একটি অসমাপ্ত অধ্যায় হয়ে ছিল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ৭৬ বছর বয়সে ফের বইখাতা নিয়ে বসেছিলেন। ৮১-তে স্নাতক। আর ৮৫ বছর বয়সে ৯৬৫ নম্বর পেয়ে এমএ পাশ করলেন হরিয়ানার প্রাক্তন সেনাকর্মী গোদারা। এখানেই থামতে চান না তিনি। এ বার ইচ্ছে পিএইচডি করার, অথবা আইন পড়ার।

গোদারার কথায়, “বহু বছর ধরে পড়াশোনা আমার জীবনের একটি অসমাপ্ত অধ্যায় হয়ে ছিল। আমাদের পরিবারের আগের প্রজন্মের মানুষের শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। আমার বরাবরই পড়াশোনার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে অন্য পথে নিয়ে গিয়েছিল।”

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৬২, ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু সেনাজীবনের দীর্ঘ বছরগুলিও পড়াশোনায় ফেরার ইচ্ছেটা মুছে দিতে পারেনি। একাদশ শ্রেণিতে যেখানে পড়া থেমে গিয়েছিল, সেখান থেকেই আবার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থাৎ ইগনু থেকেই তাঁর সব ডিগ্রি অর্জন। ৮১ বছর বয়সে স্নাতক হওয়ার পর সেখানেই স্নাতকোত্তর পাঠক্রমে ভর্তি হন। এ বারের ৯৬৫ নম্বর তাঁকে আরও এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ জুগিয়েছে।

গোদারার কাছে শিক্ষার অর্থ শুধু ডিগ্রি সংগ্রহ করা নয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে। শেখার সংকল্পের সঙ্গে বয়সের কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।

তবে পড়াশোনা তাঁর ব্যস্ত অবসরজীবনের একটি দিক মাত্র। সেনাবাহিনী ছাড়ার পর ১৯৭২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পরিবহণ দফতরে ইয়ার্ডমাস্টার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সেই চাকরি থেকে অবসর নিয়ে মন দেন খেলাধুলোয়। বয়সভিত্তিক মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন। প্রথমে হরিয়ানার প্রতিযোগিতায় পদক জয়, তার পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরেও যোগ দেন।

পরিবারের দাবি, তাঁর সংগ্রহে এখন প্রায় ২০০টি পদক—প্রায় ১৫০টি সোনা, ৩০টি রুপো এবং ২০টি ব্রোঞ্জ।

গোদারা বলেন, “বয়স বাড়ছে বলেই সক্রিয় জীবন ছেড়ে দিতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। আমার নিজের জীবনই তার প্রমাণ। খেলার মাঠে পদকের জন্য লড়াই করার পাশাপাশি পড়াশোনা করে ডিগ্রিও অর্জন করেছি। আর এমএ পাশ করেই পড়াশোনায় ইতি টানব বলে মনে হয় না।”

তাঁর ছোট ছেলে দলবীর সিংহের কথায়, “যিনি ৭৬ বছর বয়সে বইয়ের কাছে ফিরেছেন, ৮১-তে স্নাতক হয়েছেন, আর ৮৫-তে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পেয়েছেন, তাঁর কাছে এগুলি পথের এক-একটি মাইলফলক। পথের শেষ নয়।”

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles