হাইলাইটস
- রাজ্যসভায় অমিত শাহের উপস্থিতির দাবিতে সরব বিরোধীরা।
- চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণন কিরেন রিজিজুকে সেই দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে বলেন।
- ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংসদে ফের অচলাবস্থা।
ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে রাজ্যসভায় ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হল। বিরোধীরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে এসে বক্তব্য দেওয়ার দাবি জানালে, চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে সেই দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরু হতেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির সদস্যরা বলেন, বিষয়টি সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই অন্য কোনও মন্ত্রীর জবাব নয়, অমিত শাহের বক্তব্যই তাঁরা শুনতে চান।
বিরোধীদের অভিযোগ, ২০ জুলাই ছাত্রদের বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ এবং পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সরকার এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। সেই কারণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি জবাব দাবি করেন তাঁরা।
বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর উপস্থিতিই সংসদের প্রতি সরকারের জবাবদিহির অংশ। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে একাধিক বিরোধী সাংসদ স্লোগান দিতে থাকেন।
হট্টগোলের মধ্যেই চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণন কিরেন রিজিজুকে বলেন, বিরোধীদের দাবি ও বক্তব্য যেন তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।
তবে সরকার জানিয়েছে, আলোচনায় তাদের আপত্তি নেই। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার নিয়ম মেনে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে তার জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া প্রয়োজন।
বিজেপির অভিযোগ, বিরোধীরাই সংসদের কাজ বারবার ব্যাহত করছে। দলের দাবি, সংসদ স্বাভাবিকভাবে চললে অমিত শাহ আলোচনায় অংশ নেবেন। বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইস্যুটিকে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।
একই ইস্যুতে লোকসভাতেও একাধিকবার অধিবেশন মুলতবি হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্ষাকালীন অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিলের আলোচনা নির্ধারিত থাকলেও এই ইস্যুকে ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সরকার আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীদের অবস্থান—ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সরকারের স্পষ্ট জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এই ইস্যু থেকে সরে আসার প্রশ্নই নেই।
ফলে অমিত শাহের উপস্থিতির দাবিকে কেন্দ্র করে সংসদের অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।