হাইলাইটস
- তরুণদের প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক সংলাপের অংশ বলে মন্তব্য আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের।
- ‘জেন জেড’-এর ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে তার কারণ খুঁজে দেখার আহ্বান।
- প্রতিবাদকে দেশবিরোধিতার সঙ্গে না মেলানোর বার্তা।
দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন জেড’-এর আন্দোলন ও প্রতিবাদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, তরুণদের ক্ষোভকে অবজ্ঞা করা বা প্রতিবাদকে দেশবিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া কোনও সমাধান নয়। বরং কেন তারা রাস্তায় নামছে, সেই কারণ খুঁজে বের করাই জরুরি। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে প্রতিবাদও সংলাপের একটি স্বাভাবিক ও বৈধ মাধ্যম।
মুম্বইয়ে ‘The Role of Youth in Uniting the World: The Indian Way’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, বর্তমান প্রজন্মের উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাস্তব। সব তথ্য তাঁর কাছে নেই বলে তিনি কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তরুণদের কণ্ঠস্বর গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত।
তাঁর কথায়, “জেন জেড যা অনুভব করছে, তা বাস্তব। কোথায় সমস্যা রয়েছে, সেটি আমাদের খুঁজে দেখতে হবে। প্রতিবাদও এক ধরনের সংলাপ। তাদের কথা শুনতে হবে।”
এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন সরকারি চাকরির পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁস-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ছাত্র-যুব আন্দোলন হয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভাগবতের মতে, তরুণদের হতাশা কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়; তার পিছনে সামাজিক, শিক্ষাগত ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বাস্তব কারণও থাকতে পারে। তাই আন্দোলনকে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে না দেখে, অভিযোগের উৎস খুঁজে বের করা উচিত।
তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রতিবাদ মানেই রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে মত প্রকাশের অধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার, আর সেই মতপ্রকাশের মাধ্যমেই অনেক সময় পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়। তরুণদের সঙ্গে সংঘাত নয়, সংলাপের পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
আরএসএস প্রধানের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, বর্তমান প্রজন্মকে শুধু সমালোচনা না করে তাদের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। তাঁর মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত এই প্রজন্মের প্রত্যাশাও আগের তুলনায় আলাদা। সেই প্রত্যাশা বোঝার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়েরই।
তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে যদি ক্ষোভ থাকে, তবে তার কারণ অনুসন্ধান করাই নেতৃত্বের দায়িত্ব। সমস্যার শিকড় চিহ্নিত না করে শুধু প্রতিবাদ দমন করলে দীর্ঘমেয়াদে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
ভাগবতের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক ছাত্র-যুব আন্দোলনের আবহে তাঁর বক্তব্যকে অনেকেই তরুণদের সঙ্গে আরও বেশি সংলাপের আহ্বান হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, আরএসএস প্রধানের বার্তা স্পষ্ট—তরুণদের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদকে শত্রুতা নয়, বরং মতবিনিময় ও সমস্যার সমাধানের একটি বৈধ পথ হিসেবেই দেখা উচিত।