২৭ বছর আগের মানহানির মামলায় ‘সন্দেশ’ সম্পাদককে ২০ দিনের কারাদণ্ড

যা জানা জরুরি
- গুজরাতি দৈনিক ‘সন্দেশ’-এর প্রধান সম্পাদক ফাল্গুন চিমনভাই পটেলকে ১৯৯৯ সালের একটি মানহানির মামলায় ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিল ভদোদরার আদালত।
- একই সঙ্গে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
- তবে রায়ের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপিলের জন্য ৩০ দিন সময় দিয়ে সাজা কার্যকর স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘গুজরাত সমাচার’।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
গুজরাতি দৈনিক ‘সন্দেশ’-এর প্রধান সম্পাদক ফাল্গুন চিমনভাই পটেলকে ১৯৯৯ সালের একটি মানহানির মামলায় ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিল ভদোদরার আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে রায়ের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপিলের জন্য ৩০ দিন সময় দিয়ে সাজা কার্যকর স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘গুজরাত সমাচার’। ফলে সাজা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কারাবাস শুরু হয়েছে, এমন নয়।
বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট এইচ ডি পাঞ্চালের আদালতের এই রায়ে সংবাদ প্রকাশের আগে অভিযোগ যাচাই এবং সম্পাদকের দায়বদ্ধতার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। আদালত অভিযুক্তের জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের যুক্তি গ্রহণ করেনি। মামলার অপর অভিযুক্ত, তৎকালীন আবাসিক সম্পাদক নবীন চৌহাণের ২০২১ সালে মৃত্যু হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত মামলার পরিস্থিতির পাশাপাশি পটেলের ৭৫ বছর বয়সের কথাও বিবেচনা করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার সূত্রপাত ১৯৯৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ‘সন্দেশ’-এর ভদোদরা সংস্করণে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে। সেটিতে তৎকালীন মামলতদার তথা প্রশাসনিক আধিকারিক গম্ভীরসিংহ ডেকারের ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল। অভিযোগকারীর বক্তব্য ছিল, ওই সংবাদে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সরকারি মহল, পরিচিতজন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছেও তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরদিন, ২৯ সেপ্টেম্বর, সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস পাঠান ডেকারে। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, প্রতিবাদ করার পরে তাঁকে আরও বিরূপ সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। তবে আদালত হুমকির অভিযোগে পটেলকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। হুমকি কোথায়, কখন এবং কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় ওই অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিচারে পটেলের পক্ষের যুক্তি ছিল, তিনি আমদাবাদের সদর দফতর থেকে মূলত প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতেন। ভদোদরা সংস্করণে কী ছাপা হচ্ছে, সে সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছিল না। স্থানীয় সংস্করণের দায়িত্ব আবাসিক সম্পাদকের উপর ছিল বোঝাতে তাঁর একটি হলফনামাও পেশ করা হয়। এই যুক্তিতে সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের দায় থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন পটেল।
আদালত সেই বক্তব্য খারিজ করে ১৮৬৭ সালের প্রেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অব বুকস আইনের ৭ নম্বর ধারার উল্লেখ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংবাদপত্রে সম্পাদক হিসেবে পটেলের নাম ছিল। এই মামলায় প্রকাশিত বিষয়বস্তুর জন্য তাঁর আইনি দায়িত্ব রয়েছে; অন্য শহরে বসে প্রশাসনিক কাজ করার যুক্তি সেই দায়িত্ব এড়ানোর যথেষ্ট কারণ নয়।
অভিযোগকারীর পেশ করা সংবাদপত্রের কপি অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে অভিযুক্তপক্ষ। আদালত জানায়, অভিযুক্তপক্ষ নিজেই যখন সংবাদটি সদুদ্দেশ্যে এবং জনস্বার্থে প্রকাশিত হয়েছিল বলে দাবি করছে, তখন প্রকাশের ঘটনাটি স্বীকৃত। ফলে সেই স্বীকৃত বিষয় আবার আলাদাভাবে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
সদুদ্দেশ্যের দাবিও প্রমাণের পরীক্ষায় টেকেনি। আদালত লক্ষ করে, অভিযুক্তপক্ষের সাক্ষীরা প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না; তাঁদের বক্তব্য ছিল শোনা কথার ভিত্তিতে। পেশ করা থানার ডায়েরির নথিতেও ডেকারের উল্লেখ ছিল না। সংবাদ প্রকাশের আগে অভিযোগ যাচাই বা ডেকারের বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টাও করা হয়নি বলে আদালত জানিয়েছে।
এই মামলায় মানহানির দায়ে শাস্তি এবং হুমকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি—দুটি পৃথক সিদ্ধান্ত দিয়েছে আদালত। তাই অভিযোগপত্রে থাকা সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলা যাবে না। একইভাবে আপিলের সুযোগ দিতে সাজা স্থগিত রাখার অর্থ দোষী সাব্যস্ত করার রায় বাতিল হওয়া নয়। আপাতত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেই উচ্চতর আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে পটেলকে। সাতাশ বছর আগে প্রকাশিত একটি সংবাদকে ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধে এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে অভিযুক্তের সামনে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



