কর্নাটকে ৫০–৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ‘চক্রান্ত’, তদন্ত দাবি শিবকুমারের

যা জানা জরুরি
- কর্নাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের সুযোগ নিয়ে ৫০–৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে…
- বৃহস্পতিবার বিজেপি এবং তার সহযোগী জনতা দল (সেকুলার)-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে তিনি ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানান।
- তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘু, দলিত এবং আদিবাসী ভোটারদের বেছে বেছে নিশানা করে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কর্নাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের সুযোগ নিয়ে ৫০–৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। বৃহস্পতিবার বিজেপি এবং তার সহযোগী জনতা দল (সেকুলার)-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে তিনি ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘু, দলিত এবং আদিবাসী ভোটারদের বেছে বেছে নিশানা করে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে।
শিবকুমারের দাবি, প্রায় ৪৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন জমা পড়েছে। শুধু বিজয়পুরাতেই এমন আবেদনের সংখ্যা ১৪ হাজার। তাঁর অভিযোগ, ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা দেওয়া হয় এবং অন্যদের হয়ে সেগুলি জমা দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। একই ব্যক্তি বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে একাধিক আবেদন করেছেন বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলগাভি, ভালকি ও মাইসুরু-সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ফর্ম-৭। ভোটার তালিকায় কারও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে অথবা তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করতে এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়। তবে আবেদন জমা পড়া এবং নাম বাদ যাওয়া এক বিষয় নয়; সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেন। শিবকুমারের অভিযোগ, এই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেই যোগ্য ভোটারদের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে আপত্তি তোলা হচ্ছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে লেখা চিঠিতে শিবকুমার অভিযোগ করেন, বেশ কিছু ফর্মে সংশ্লিষ্ট ভোটারের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য আগেই ছাপা ছিল; পরে আপত্তিকারীর বিবরণ পূরণ করা হয়েছে। বিজেপি নেতারা তাঁদের সহযোগীদের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন বলেও দাবি তাঁর। ধর্ম, জাতি বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়া চলবে না বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের বুথস্তরের এজেন্ট, বিধায়ক, দলীয় কর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে সন্দেহজনক আবেদনের তথ্য চেয়েছেন। নিজের বা পরিচিত কারও নাম বাদ দেওয়ার জন্য ভিত্তিহীন আবেদন হয়েছে জানতে পারলে তা তাঁর দফতরকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একই ধরনের অভিযোগ আসায় বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না তিনি। তাঁর দাবি, সংগৃহীত নথি মিলিয়ে গোটা প্রক্রিয়ার তদন্ত প্রয়োজন। এই তথ্য সংগ্রহে দলীয় প্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে বলেছেন।
এদিন বিকেলে বিষয়টি নিয়ে বেঙ্গালুরুর গান্ধীনগরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যান শিবকুমার। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিসভার সহকর্মী এবং কংগ্রেস বিধায়কেরা। স্মারকলিপি দেওয়ার পরে দফতরের সিঁড়িতে ধর্নায় বসেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফৌজদারি মামলা এবং যথাযথ তদন্তের দাবিতে আন্দোলন চলবে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক কর্তৃত্বকে তাঁরা সম্মান করেন, কিন্তু ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপও চান।
শিবকুমারের দাবি, মাইসুরু, বেলগাভি ও ভালকির অভিযোগসংক্রান্ত নথি এবং ভিডিয়ো নির্বাচনী কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। বিভিন্ন আবেদনে ভোটারদের বিস্তারিত তথ্য কোথা থেকে এল, সেই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে বৃহত্তর একটি চক্র সক্রিয়। যদিও চক্রান্তের অভিযোগ এবং তার ব্যাপ্তি এখনও স্বাধীন তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
পাল্টা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নাকে মানুষের মধ্যে ভিত্তিহীন আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা বলে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী আধিকারিক এবং বুথস্তরের প্রতিনিধিরা সংশোধনের নিয়ম জানেন, কমিশনও নজর রাখছে। খরা, কৃষকদের দুর্দশা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে মন দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ফলে ভোটার তালিকার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এখন অভিযোগের নথি যাচাই এবং নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই নজর। কতগুলি আবেদন বৈধ, কতগুলিতে মিথ্যা তথ্য রয়েছে, তা নির্ধারণই এই বিতর্কে তদন্তের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



