পঞ্জাব কংগ্রেসের পদ ছাড়লেন রাজা ওয়ারিং, সমাজমাধ্যমে পরিচয় ‘প্রাক্তন সভাপতি’

যা জানা জরুরি
- বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে পঞ্জাব কংগ্রেসের নেতৃত্বে বদলের পথে হাইকমান্ড।
- প্রদেশ সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন লুধিয়ানার সাংসদ অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, দলীয় সূত্রের খবর।
- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, নিজের এক্স অ্যাকাউন্টের পরিচিতিতে তিনি ‘প্রাক্তন পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি’ লেখেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে পঞ্জাব কংগ্রেসের নেতৃত্বে বদলের পথে হাইকমান্ড। প্রদেশ সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন লুধিয়ানার সাংসদ অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, দলীয় সূত্রের খবর। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, নিজের এক্স অ্যাকাউন্টের পরিচিতিতে তিনি ‘প্রাক্তন পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি’ লেখেন। দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মধ্যে এই পরিবর্তন তাঁর বিদায়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেও, উত্তরসূরির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।
ওয়ারিং প্রথমে পরিচিতিতে ‘প্রেসিডেন্ট, আইএনসি পঞ্জাব’-এর বদলে ‘ফর্মার প্রেসিডেন্ট আইএনসি পঞ্জাব’ লেখেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি বদলে হয় ‘ফর্মার পিপিসিসি প্রেসিডেন্ট’। তবে লুধিয়ানার সাংসদ, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে তাঁর পরিচয় বহাল রয়েছে। এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে জানান, সময় হলে জানাবেন; কিছু বিষয় দলের অভ্যন্তরীণ।
এই পালাবদলের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য কংগ্রেসের দীর্ঘস্থায়ী অন্তর্দ্বন্দ্ব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নির নেতৃত্বে দলের একাংশ ওয়ারিংকে সরানোর দাবি তুলেছিল। তাঁর নেতৃত্বাধীন কিছু দলীয় কর্মসূচিতেও অনুপস্থিত ছিলেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। ফলে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই সাংগঠনিক ঐক্যের প্রশ্নটি সামনে চলে আসে। নতুন সভাপতি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করাতে পারার ক্ষমতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে নেতৃত্ব, দলীয় সূত্রের বক্তব্য।
গত ১ জুলাই সাংগঠনিক রদবদলে ওয়ারিংকে সভাপতি পদে বহাল রেখেছিল হাইকমান্ড। একই সঙ্গে চান্নিকে নির্বাচনী প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। অন্য নেতাদেরও দায়িত্ব দিয়ে ভারসাম্য আনার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেই বন্দোবস্তে বিরোধ মেটেনি। মাত্র তিন মাসের মাথায় ফের সভাপতি বদলের উদ্যোগ সেই সমঝোতার সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ করছে।
পঞ্জাবে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদেও ইতিমধ্যে পরিবর্তন হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ভূপেশ বাঘেলের জায়গায় আসেন সচিন পাইলট। দায়িত্ব নেওয়ার পরে রাজ্যের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হাইকমান্ডকে রিপোর্ট দেন তিনি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সেই পর্যালোচনার পরেই ওয়ারিংকে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আগামী নির্বাচনের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলানোর প্রয়োজন এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
নতুন সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ ও মন্ত্রী বিজয় ইন্দর সিংলা। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য সিংলা সর্বভারতীয় কংগ্রেসের যুগ্ম কোষাধ্যক্ষও। রাজ্যে শিক্ষা, পূর্ত এবং তথ্যপ্রযুক্তি দফতর সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আলোচনায় রয়েছেন প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় ও বিধায়ক পরগট সিং, চান্নি, সুখজিন্দর সিং রনধাওয়া এবং সুখবিন্দর সিং সরকারিয়ার মতো নেতারাও।
তবে সিংলার সম্ভাবনা ঘিরেও দলের ভিতরে মতভেদ রয়েছে। দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চান্নি শিবিরের কয়েকজন নেতা তাঁর নাম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। জাট নেতাদের একাংশ চাইছেন জাট শিখ মুখ। ফলে সভাপতি নির্বাচনে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি সামাজিক ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের হিসাবও সামনে এসেছে। সম্ভাব্য পরিবর্তন ঘিরে দিল্লিতে সক্রিয় রয়েছেন বিভিন্ন শিবিরের নেতারা।
২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের পরে, সেই বছরের এপ্রিলে নভজ্যোৎ সিং সিধুর জায়গায় সভাপতি হন ওয়ারিং। এখন ২০২৭ সালের ভোটের আগে ফের নেতৃত্ব সাজানোর চেষ্টা চলছে। চান্নি জানিয়েছেন, কোথায় কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঠিক করার অধিকার মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও রাহুল গান্ধীর। সিংলাও জানিয়েছেন, দল যে দায়িত্ব দেবে, তিনি তা পালন করবেন। রনধাওয়া জানিয়েছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা, তোলাবাজি, অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য, যুবসমাজের সমস্যা এবং রাজ্যের অর্থনীতিকে সামনে রাখবে। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে লড়ার জন্য দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
কংগ্রেসের এই সংকটকে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তাঁর দাবি, দলে কর্মীর তুলনায় মুখ্যমন্ত্রী হতে ইচ্ছুক নেতার সংখ্যা বেশি; নতুন সভাপতিও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন না। এই রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে কংগ্রেসের সামনে চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট: সভাপতি পরিবর্তনের পরে বিবদমান নেতৃত্বকে একসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে নামানো। শুধু নতুন নাম ঘোষণা করলেই সেই কাজ সম্পূর্ণ হবে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



