এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের নতুন কর্ণধার অনুপ বাগচী, দায়িত্ব নেবেন ২৭ অক্টোবর

যা জানা জরুরি
- এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার হচ্ছেন অনুপ বাগচী।
- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
- বর্তমান এমডি ও সিইও শশীধর জগদীশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৬ অক্টোবর।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার হচ্ছেন অনুপ বাগচী। আগামী ২৭ অক্টোবর তিনি দায়িত্ব নেবেন। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তিন বছরের জন্য এই পদে থাকবেন তিনি। বর্তমান এমডি ও সিইও শশীধর জগদীশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৬ অক্টোবর। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রতিক জল্পনার অবসান ঘটল এই ঘোষণায়।
ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাগচীর কার্যকালের মেয়াদ হবে ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে নিয়োগের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনও প্রয়োজন। তার আগে, ২ অক্টোবর থেকেই তাঁকে অতিরিক্ত ডিরেক্টর হিসেবে পরিচালন পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তাঁর নিয়োগের পাশাপাশি প্রস্তাবিত পারিশ্রমিকেও অনুমোদন দিয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হল।
বাগচীর নিয়োগ এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের নেতৃত্ব নির্বাচনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। প্রথমবার প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে কাউকে শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান আদিত্য পুরী প্রায় পঁচিশ বছর ব্যাঙ্কের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর পরে ২০২০ সালে দায়িত্ব নেন দীর্ঘদিনের কর্মী জগদীশন। এবার নেতৃত্বে আসছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইসিআইসিআই গোষ্ঠীর অভিজ্ঞ এক কর্মকর্তা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বাগচীর পাশাপাশি ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাইজাদ ভারুচার নামও পাঠানো হয়েছিল।
আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে বাগচীর অভিজ্ঞতা তিন দশকের বেশি। ১৯৯২ সালে আইসিআইসিআই গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তারপর খুচরো ব্যাঙ্কিং, কর্পোরেট ব্যাঙ্কিং, ট্রেজারি, পুঁজিবাজার এবং বিমার মতো বিভিন্ন ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। আইআইটি কানপুর ও আইআইএম বেঙ্গালুরুর এই প্রাক্তনী বর্তমানে আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল লাইফ ইনশিয়োরেন্সের এমডি ও সিইও। ২০২৩ সালের জুনে সেখানে দায়িত্ব নেন। প্রায় তিন বছর বিমা ব্যবসার নেতৃত্ব দেওয়ার পরে এবার ফের সরাসরি ব্যাঙ্ক পরিচালনায় ফিরছেন তিনি।
এর আগে আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজের এমডি ও সিইও হিসেবেও কাজ করেছেন বাগচী। সেখানে ডিজিটাল লেনদেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পুঁজিবাজারের পরিষেবা সম্প্রসারণে যুক্ত ছিলেন। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে খুচরো, ব্যবসায়িক ও গ্রামীণ ব্যাঙ্কিংয়ের দায়িত্ব সামলানোর পরে বৃহৎ কর্পোরেট গ্রাহকদের ব্যাঙ্কিং ব্যবসার নেতৃত্ব দেন। ঋণ দেওয়ার নীতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে নতুন দায়িত্বের সঙ্গে থাকছে একাধিক ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ। ২০২৩ সালে গৃহঋণদাতা এইচডিএফসি লিমিটেডের সঙ্গে সংযুক্তির পরে ব্যাঙ্কের ব্যবসার পরিসর অনেক বেড়েছে। সেই সম্প্রসারিত ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী আমানত সংগ্রহ, ঋণ বৃদ্ধির গতি বজায় রাখা এবং লাভজনকতা উন্নত করা নতুন নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে। বিশেষ করে ঋণ ও আমানতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং সংযুক্তির সম্ভাব্য সুবিধাগুলি বাস্তবে কাজে লাগানোর দিকে নজর থাকবে।
জগদীশনের মেয়াদে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক অতিমারির সময়ের অনিশ্চয়তা সামলেছে, ডিজিটাল পরিষেবা বাড়িয়েছে এবং বৃহৎ সংযুক্তি সম্পন্ন করেছে। তবে নতুন মেয়াদে পুনর্নিয়োগ চাননি তিনি। ফলে পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন জরুরি হয়ে ওঠে। বাগচীর নিয়োগের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন বাজারে লেনদেন চলাকালীন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের আমেরিকান ডিপোজিটরি রিসিট বা এডিআরের দাম চার শতাংশের বেশি বেড়েছিল বলে জানিয়েছে মানিকন্ট্রোল।
নতুন সিইও দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগও পেতে পারেন। মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ব্যাঙ্কের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ফল ঘোষণার সময় জগদীশনের সঙ্গে বাগচীও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে পারেন। তবে সেটি এখনও সম্ভাবনা হিসেবেই জানানো হয়েছে। আপাতত নিশ্চিত হল দায়িত্ব হস্তান্তরের দিনক্ষণ এবং তিন বছরের জন্য নতুন নেতৃত্বের নিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সম্মতি। এই পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে ব্যাঙ্কের পরবর্তী ব্যবসায়িক কৌশল কোনদিকে এগোয়, সেটাই দেখার।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



