‘ধুরন্ধর’-এ বদলাল মাপ

যা জানা জরুরি
- রণবীর সিংহের ‘ধুরন্ধর’ হিন্দি গুপ্তচর ছবির কাছে দর্শকের প্রত্যাশার মাপকাঠিই বদলে দিয়েছে বলে মনে করেন নিমরত কৌর।
- আদিত্য ধর পরিচালিত ছবিটির প্রশংসা করতে গিয়ে অভিনেত্রীর বক্তব্য, পরিচিত বিষয়কেও এমন বিশ্বাসযোগ্য ও জমাট ভঙ্গিতে পর্দায় তুলে ধরা যায়, যা গোটা ঘরানার জন্যই…
- ফলে সেই উচ্চতায় পৌঁছতে না পারলে পরবর্তী গুপ্তচর ছবিগুলিকে দর্শকের কঠিন বিচারের মুখে পড়তে হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রণবীর সিংহের ‘ধুরন্ধর’ হিন্দি গুপ্তচর ছবির কাছে দর্শকের প্রত্যাশার মাপকাঠিই বদলে দিয়েছে বলে মনে করেন নিমরত কৌর। আদিত্য ধর পরিচালিত ছবিটির প্রশংসা করতে গিয়ে অভিনেত্রীর বক্তব্য, পরিচিত বিষয়কেও এমন বিশ্বাসযোগ্য ও জমাট ভঙ্গিতে পর্দায় তুলে ধরা যায়, যা গোটা ঘরানার জন্যই নতুন মান তৈরি করে। ফলে সেই উচ্চতায় পৌঁছতে না পারলে পরবর্তী গুপ্তচর ছবিগুলিকে দর্শকের কঠিন বিচারের মুখে পড়তে হবে।
সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিমরত বলেন, মাঝেমধ্যে এমন ছবি আসে, যা দেখতে দেখতে মনে হয়—গল্পটি তো চেনাই, কিন্তু দর্শক যেন এত দিন ঠিক এই ভাবেই গল্পটি শোনার অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর কাছে ‘ধুরন্ধর’ তেমনই একটি ছবি।
কোনও কাহিনি কতটা বাস্তব বলে মনে হতে পারে, দর্শক এক বার তার স্বাদ পেয়ে গেলে প্রত্যাশার জায়গাটাও বদলে যায়। নিমরতের মতে, পরের ছবিগুলিকে তখন অন্তত সেই মানে পৌঁছতে হবে, সম্ভব হলে তাকে ছাপিয়ে যেতে হবে।
অভিনেত্রীর চোখে, গল্পের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে একটি নিজস্ব জগৎ তৈরি করতে পারাই ছবির বড় সাফল্য। তখন সেটি আর গুপ্তচর ঘরানার ‘আরও একটি’ ছবি হয়ে থাকে না—ছবির নামটাই হয়ে ওঠে তার পরিচয়।
‘ধুরন্ধর’-এর গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন হামজা আলি মাজারি নামে পরিচয় নেওয়া এক ভারতীয় গুপ্তচর। রণবীর অভিনীত এই চরিত্র পাকিস্তানের করাচির অপরাধজগতে ঢুকে একটি বিপজ্জনক চক্রের ভিতরের খবর সংগ্রহের চেষ্টা করে। নেটফ্লিক্সের কাহিনি-পরিচিতি অনুযায়ী, ২০০১ সালের সংসদ হামলার পরবর্তী সময়কে পটভূমি করে এগোয় গল্প।
করাচির লিয়ারি এলাকায় অপরাধী গোষ্ঠী, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের মধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয় হামজাকে। শুরুতে তাকে দেখা যায় খাবার পরিবেশনকারী হিসেবে। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অপরাধচক্রের নেতার ছোট ছেলেকে হামলা থেকে বাঁচানোর পর বদলে যায় তার অবস্থান। অস্ত্র চালানোর দক্ষতা তাকে আরও গভীরে ঢোকার সুযোগ দেয়। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সংঘাতের মধ্যে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিজের আসল পরিচয় গোপন রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।
আদিত্য ধরের ছবিতে রণবীরের সঙ্গে রয়েছেন অক্ষয় খন্না, সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন, অর্জুন রামপাল, সারা অর্জুন ও রাকেশ বেদী। অক্ষয় অভিনয় করেছেন রহমান ডাকাতের চরিত্রে, আর মাধবনকে দেখা গিয়েছে অজয় সান্যালের ভূমিকায়। বাস্তব ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলি থেকে অনুপ্রাণিত এই ছবির প্রথম পর্ব মুক্তি পায় ২০২৫ সালে; পরের বছর আসে সিক্যুয়েল।
গুপ্তচরকাহিনির জগৎ অবশ্য নিমরতের কাছে একেবারেই নতুন নয়। আন্তর্জাতিক সিরিজ ‘হোমল্যান্ড’-এ পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাসনিম কুরেশির চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চতুর্থ মরসুমের পর সিরিজের অষ্টম তথা শেষ মরসুমেও ফিরে এসেছিলেন অভিনেত্রী। ক্লেয়ার ডেনস অভিনীত ক্যারি ম্যাথিসনের বিপরীতে তাঁর চরিত্রটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ।
ভারতীয় দর্শকের কাছেও গুপ্তচর ও থ্রিলার ঘরানায় তাঁর সাম্প্রতিক উপস্থিতি রয়েছে। ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’-এর তৃতীয় মরসুমে মীরা চরিত্রে দেখা গিয়েছে নিমরতকে। রাজ ও ডিকে-র এই সিরিজে তাঁর চরিত্রের সঙ্গে জয়দীপ অহলাওয়াত অভিনীত রুকমার যোগসূত্র তৈরি হয় মনোজ বাজপেয়ীর শ্রীকান্ত তিওয়ারিকে ঘিরে নতুন বিপদের।
এই ধরনের গল্পে অভিনয়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেই ‘ধুরন্ধর’ সম্পর্কে নিমরতের মূল্যায়ন তাই আলাদা মাত্রা পাচ্ছে। তবে তাঁর মন্তব্য মূলত একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত দর্শক-অভিজ্ঞতা। ছবিটির প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে দর্শকের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী গুপ্তচর ছবিগুলির নির্মাণের উপর।
আপাতত নিমরতের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—‘ধুরন্ধর’ দেখার পর গুপ্তচর ছবির কাছে দর্শকের চাহিদার মাপকাঠিটাই যেন আরও উঁচু হয়ে গিয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



